ইরান যুদ্ধের পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের মধ্যে ‘অনুশোচনা’: অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন
সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের বরাতে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে এখন 'অনুশোচনা' করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলের কিছু সদস্য। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ মহলই এখন ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য 'পস্তাচ্ছে'। প্রশাসনের অন্দরে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, ইরান সরকারের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আদতে খাটো করে দেখা হয়েছিল।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই হামলা শুরুর আগে প্রশাসনের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা যথেষ্ট ইতস্তত করেছিলেন। তারা আরও কিছুটা সময় নেওয়ার পক্ষপাতী ছিলেন।
কিন্তু সূত্রের দাবি, সমস্ত দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, 'আমি শুধু এটা [যুদ্ধ] করতে চাই।'
সূত্রটি আরও জানিয়েছে, গত গ্রীষ্মে ইরানে হামলা এবং জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার মতো সাম্প্রতিক সামরিক সাফল্যগুলো ট্রাম্পকে উৎসাহিত করেছিল।
তিনি অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে ভেবেছিলেন যে, কোনো স্থলসেনা ছাড়াই তিনি ইরান সরকারকে ধসিয়ে দিতে পারবেন। সূত্রটি অ্যাক্সিওসকে বলেছে, 'তিনি নিজের সফলতায় নিজেই বিভোর ছিলেন।'
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ট্রাম্প বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে একটি 'এসক্যালেশন ট্র্যাপ' বা ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ফাঁদে পড়েছেন। এটি এমন এক পরিস্থিতি যেখানে শক্তিশালী পক্ষটি কেবল নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য আক্রমণ চালিয়ে যেতে বাধ্য বোধ করে, যদিও অর্জিত সাফল্যের পরিমাণ ক্রমশ কমতে থাকে।
প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের হস্তক্ষেপ ট্রাম্পকে তার সিদ্ধান্তে আরও অনড় করে তুলছে, যদিও পরিস্থিতি পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।
সময়ের হিসাব অনুযায়ী, প্রশাসন শুরুতে ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের একটি অভিযানের পরিকল্পনা করেছিল। তবে ওয়াশিংটন এবং মিত্র দেশগুলোর কর্মকর্তারা এখন আরও দীর্ঘমেয়াদি সংকটের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তিনটি সূত্র ওই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, সংঘাতের তীব্রতা কমে এলেও এই লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা শুরু হয়। এই অভিযানে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেসিসহ প্রায় এক হাজার ৩০০ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। অভিযানের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ১৪ জন মার্কিন সামরিক সদস্যও নিহত হয়েছেন।
