আদালত প্রাঙ্গণে মাসুদ চৌধুরীর গায়ে পচা পানি-ডিম নিক্ষেপ
রাজধানীর পল্টন থানায় মানবপাচার আইনে করা মামলায় এক-এগারোর সময়ের আলোচিত সেনা কর্মকর্তা ও ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর শরীরে পচা পানি- ডিম নিক্ষেপ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রিমান্ড শুনানি শেষে পুলিশি প্রহরায় হাজতখানায় নেওয়ার পথে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজ বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে মাসুদ চৌধুরীকে ডিবি পুলিশের একটি মাইক্রোবাসে ঢাকার সিএমএম আদালতে আনা হয়। ৫টা ১৮ মিনিটে তাকে এজলাসে তোলা হয়। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পুলিশের উপ-পরিদর্শক রায়হানুর রহমান তার পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে তার পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাজতখানায় নেওয়ার পথে আদালত প্রাঙ্গনে পেছন থেকে বিক্ষুব্ধ জনতা মাসুদ চৌধুরীর শরীরে পচা পানি ও ডিম ছুড়ে মারেন। পরে পুলিশ সদস্যরা তাকে দ্রুত হাজতখানার নিয়ে যান।
রিমান্ড শুনানিতে আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী আদালতে বলেন, বিদেশে লোক পাঠানোর নামে ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন এই আসামি। তথাকথিত ১/১১ সরকারের সময় এই আসামিসহ অন্যরা মিলে ট্রুথ কমিশন গঠন করে ব্যবসায়ীদের ধরে এনে নির্যাতন করতেন এবং তাদের ক্ষমা করে দেওয়ার কথা বলে টাকা আদায় করতেন।
তিনি আরও বলেন, এ আসামি রাজনৈতিক নেতাদেরও ধরে এনে নির্যাতন করতেন। বিশেষ করে মাইনাস টু ফর্মুলার নামে জিয়া পরিবারকেই শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের কি পরিহাস! যাকে (তারেক জিয়া) টর্চার করে হত্যা করতে চেয়েছিল, তিনিই এখন দেশের প্রধানমন্ত্রী। টাকার ভাগ কারা কারা পেয়েছে, কোথায় কোথায় তারা টাকা পাচার করেছে, তা জানতে আসামিকে পাঁচদিন রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন বলেন, উনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন চৌকস সৈনিক ছিলেন। চাকরি শেষে উনি ব্যবসা করতেন। ব্যবসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উনার বিরুদ্ধে এ মামলা দেওয়া হয়েছে। এটা একটা মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত মামলা। মামলার ইতিপূর্বে ফাইনাল রিপোর্ট এসেছে। সেখানে ওনার বিরুদ্ধে কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। মামলাটি পুনরায় তদন্তের মাধ্যমে জীবিত করা হয়েছে। এ মামলায় এর আগে গ্রেফতার সকল আসামি জামিন পেয়েছে। মাসুদ উদ্দিনকে রাজনৈতিক কারণে হয়রানি করার জন্য এ মামলায় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
