চট্টগ্রামে বিএনপির সাইনবোর্ড লাগিয়ে দোকান দখল, দোকানি নারীকে নির্যাতন ও লুটের অভিযোগ
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় এক প্রবাসীর দোকান দখল করে সেখানে 'বড়লিয়া ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়' লেখা সাইনবোর্ড টাঙানোর অভিযোগ উঠেছে। এ সময় এক নারী দোকানিকে আড়াই ঘণ্টা দোকানের ভেতরে আটকে রেখে মারধর, শ্লীলতাহানি এবং স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোন লুটের ঘটনা ঘটেছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে।
এ ঘটনায় দুইজনকে আসামি করে পটিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন ওই নারী। মামলার আসামিরা হলেন— পটিয়া উপজেলার বড়লিয়া ইউনিয়নের পেরলা এলাকার বাসিন্দা মো. সেকান্দর ও এনামুর রশিদ প্রকাশ নাসু। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে ভাঙচুর, সম্পত্তির ক্ষতি, শ্লীলতাহানি, চুরি এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী ও তার পৈতৃক দোকানঘরটি সংস্কারের সময় অভিযুক্তরা বাধা প্রদান করেন এবং দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। গত ৭ মার্চ দুপুর দেড়টার দিকে দোকানে লোহার গ্রিল ও শাটার লাগানোর কাজ করার সময় অভিযুক্তরা অজ্ঞাত কয়েকজনকে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা প্রায় ৩০ হাজার টাকার নতুন গ্রিল ভেঙে ফেলেন এবং ওই নারীকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করেন। এ সময় তার গলার প্রায় এক ভরি চার আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ও একটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী ওই নারী অভিযোগ করেন, তাকে আড়াই ঘণ্টা দোকানের ভেতর আটকে রেখে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। বিকেল ৪টার দিকে মুক্তি পেয়ে তিনি পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। তিনি আরও জানান, এর আগেও স্থানীয় একটি চক্র দোকানটি দখল করে দলীয় সাইনবোর্ড টাঙিয়েছিল। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তা সরানো হলেও এক মাস পর সংস্কার কাজ শুরু করলে পুনরায় হামলার শিকার হন তিনি। অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে এক মাস ধরে দোকান বন্ধ থাকায় তাদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
দোকান দখলের বিষয়ে বড়লিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান বলেন, "এটি ইউনিয়ন বিএনপির কোনো কার্যালয় নয়। কারা সেখানে সাইনবোর্ড দিয়েছে সে বিষয়ে আমাদের জানা নেই।"
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মামলার দ্বিতীয় আসামি এনামুর রশিদ প্রকাশ নাসুর বিরুদ্ধে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। তিনি বিভিন্ন সময় ব্যবসায়ী ও বিত্তবানদের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করে আসছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জামায়াতের পক্ষ হয়ে একটি সাজানো মামলার বাদী হয়েছিলেন তিনি। ওই মামলায় সাবেক এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যানসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের আসামি করে টাকা আদায়ের অভিযোগ ওঠায় তাকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর থেকে তিনি বিএনপির একটি গ্রুপের সাথে চলাফেরা করলেও দলে তার কোনো পদ নেই।
এ ঘটনায় মামলার মূল অভিযুক্ত সেকান্দর তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, "দোকানের কাজ তিনি করেছিলেন এবং বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছিল। তাৎক্ষণিকভাবে সাইনবোর্ড সরাতে দেরি হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।"
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক টিবিএসকে বলেন, "অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়মিত মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলের সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করছেন। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান পরিচালনা করছে।"
