‘নির্যাতিত হয়েছি, এমপি পদ ফিরিয়ে দেওয়া হোক’: ইশরাককে মেয়র ঘোষণার পর হিরো আলম

২০২০ সালে অনুষ্ঠিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেনকে বিজয়ী ঘোষণা করেছে আদালত। এদিকে, ইশরাককে ঢাকার মেয়র ঘোষণার পরপরই নিজের সংসদীয় আসনের 'এমপি পদ' ফেরত দাবি করেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিরো আলম।
আজ বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) ঢাকার নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন্নের পক্ষে এ রায় ঘোষণা করেন।
২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হেরে যান।
গত বছরের ১৯ আগস্ট শেখ ফজলে নূর তাপস ও আতিকুল ইসলামসহ দেশের ১২টি সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে তাদের পদ থেকে অপসারণ করে সরকার।
এর ধারাবাহিকতায় নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত ডিএসসিসির সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের মেয়র হিসেবে সরকারের গেজেট বাতিল করা হয় এবং একই সঙ্গে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ইশরাক হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করা হয়। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন ইশরাক হোসেন।
আদালত ইশরাককে বিজয়ী ঘোষনা করলে বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) এক ফেসবুক পোস্টে হিরো আলম লেখেন, 'যেহেতু ইশরাককে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র ঘোষণা করা হয়েছে, তাই হিরো আলমের ঢাকা-১৭, বগুড়া-৪ ও ৬ আসনের এমপি পদ ফিরিয়ে দেওয়া হোক। আমি তো অনেক নির্যাতিত হয়েছি।'
হিরো আলমের এই দাবিকে ফেসবুকে অনেকেই সমর্থন জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে তার পক্ষে মতামত জানিয়ে লিখেছেন, 'হিরো আলমের দাবি যৌক্তিক', আবার কেউ মন্তব্য করেছেন, 'ইশরাক যদি মেয়র হতে পারেন, তবে হিরো আলম কেন নয়?'
এর আগে হিরো আলম বলেছিলেন, তিনি রাজনীতি থেকে বিরতি নিয়েছেন এবং কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেবেন না বা নির্বাচনে অংশ নেবেন না। তিনি মিডিয়া জগতের মানুষ এবং সেখানেই থাকতে চান।
তবে বৃহস্পতিবার তিনি নতুন করে এমপি পদ ফিরে পাওয়ার দাবি তুলেছেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সর্বশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (৭ জানুয়ারি, ২০২৪) বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের হয়ে 'ডাব' প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। তবে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জন করেন তিনি।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের। দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে চলে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এরপর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। বর্তমানে দেশে কার্যত কোনো জাতীয় সংসদ ব্যবস্থা নেই।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে তিনি নির্বাচনের আয়োজন করতে চান।