শীর্ষ কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগে বড় হচ্ছে ই-বাইকের বাজার
দেশের রাস্তায় নীরবে কিন্তু দ্রুতগতিতে বড় পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে। নতুন সম্ভাবনাময় শিল্প হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে ইলেকট্রিক বাইক (ই-বাইক) ও ই-স্কুটার। ২ হাজার কোটি টাকারও বেশি নতুন বিনিয়োগ ও ক্রমবর্ধমান চাহিদায় ভর করে দ্রুত বিকশিত হচ্ছে খাতটি।
মাত্র কয়েক বছর আগের এই ক্ষুদ্র বাজারে এখন নাসির গ্রুপ, ওয়ালটন, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, রানার অটোমোবাইলস ও আকিজ গ্রুপের মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীগুলো বড় অংকের বিনিয়োগ করছে।
জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য, জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়, যানজট ও পরিবেশবান্ধব পরিবহনের চাহিদার কারণে ই-বাইক এখন সাধারণ মানুষের কাছে বাস্তবসম্মত পছন্দ হয়ে উঠছে। সেইসঙ্গে এটি উৎপাদনকারীদের জন্য বড় ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি করছে।
খাত-সংশ্লিষ্টদের হিসাব অনুসারে, গত এক বছরেই অন্তত পাঁচটি বড় কোম্পানি এই খাতে নতুন করে বিনিয়োগ করেছে। বর্তমানে এই খাতে চলমান বিনিয়োগের পরিমাণ ২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
একইসঙ্গে ই-বাইক আমদানির পরিমাণও কয়েকগুণ বেড়েছে, যা ক্রমবর্ধমান গ্রাহক চাহিদাকে তুলে ধরছে। মাত্র তিন বছর আগেও বাংলাদেশে মাসিক ই-বাইক বিক্রির পরিমাণ ছিল নগণ্য—১০০ ইউনিটের আশেপাশে। বর্তমানে সেটি কয়েক হাজার ইউনিটে পৌঁছেছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এর (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে ই-বাইক আমদানি চারগুণ বেড়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে যেখানে ২ হাজার ৪৪৬ ইউনিট ই-বাইক আমদানি হয়েছিল, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৫৩ ইউনিটে। তবে খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকৃত বাজারের আকার এর চেয়েও অনেক বড়।
নাসির সিনট্যাক্স মোটরস লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার মো. খান সুবায়েল বিন রফিক বলেন, এনবিআরের আমদানির তথ্য দিয়ে বাজারের আসল চিত্র পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়। কারণ বিপুল পরিমাণ অঘোষিত ই-বাইক ও ই-বাইকের যন্ত্রাংশ দেশে আসে; যার বড় অংশই এই পরিসংখ্যানে আসেনি।
'এগুলো যোগ করলে দেখা যাবে প্রকৃত সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি। এখন প্রতিদিন শত শত ই-বাইক বিক্রি হচ্ছে,' বলেন তিনি।
সুবায়েল জানান, ২০২৪ সালে সরকার আমদানিকৃত ইলেকট্রিক টু-হুইলার ও এর যন্ত্রাংশের ওপর শুল্ক কমানোর পর থেকেই বাজারে বড় জোয়ার আসে। বর্তমানে সম্পূর্ণ তৈরি ই-বাইক আমদানিতে শুল্ক ৯৮.৮৭ শতাংশ, অন্যদিকে সিকেডি আমদানিতে শুল্ক মাত্র ৩৭ শতাংশ। এই কর কাঠামো স্থানীয় সংযোজনকে ব্যবসায়িকভাবে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। অন্যদিকে জ্বালানিচালিত মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে এই শুল্কের হার যথাক্রমে ১২৫ শতাংশ ও ৯০ শতাংশ।
এই পরিবর্তনের ফলে অনেক কোম্পানি নতুন করে বাজারে আসছে কিংবা ব্যবসার পরিধি বাড়াচ্ছে।
সুবায়েল আরও জানান, জ্বালানিচালিত মোটরসাইকেলে প্রতি কিলোমিটারে যাতায়াত খরচ হয় প্রায় ৩-৪ টাকা। অন্যদিকে ই-বাইকে কিলোমিটারে খরচ হয় মাত্র ৩০-৪০ পয়সা। নিয়মিত ব্যবহারকারীদের জন্য এটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী।
তিনি বলেন, 'একটি ব্যাটারির দাম ৩০-৩৫ হাজার টাকা, যা প্রায় তিন বছর ব্যবহার করা যায়। একই সময়ে পেট্রোলচালিত বাইকের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অনেক বেশি। মূলত এ কারণেই গ্রাহকরা বিকল্প হিসেবে ই-বাইকের দিকে ঝুঁকছেন।'
বড় কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ বাড়িয়েছে
এ খাতে নতুন প্রবেশ করা বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো নাসির গ্রুপ। তারা ইতিমধ্যে খাতটিতে ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে।
কোম্পানিটি ২০২৫ সালের নভেম্বরে পাঁচটি মডেলের ই-বাইক বাজারে এনেছে। এর মধ্যে দুটিতে গ্রাফিন ব্যাটারি ও তিনটিতে লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে তারা অত্যন্ত জোরালো কৌশল গ্রহণ করেছে এবং ইতিমধ্যে ৪০টি জেলায় শোরুম স্থাপন করেছে।
নাসির সিনট্যাক্স মোটরসের সুবায়েল জানান, শুরুতে তারা দৈনিক প্রায় ৭০টি বাইক উৎপাদন করতেন। তবে এখন তারা এমন সক্ষমতার কারখানা তৈরি করেছেন, যেখানে চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন কয়েকগুণ বাড়ানো সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, 'ইভি খাতে আমাদের মোট ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের লক্ষ্য রয়েছে।'
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপও তাদের রাইডো ই-স্কুটার ব্র্যান্ড নিয়ে এই প্রতিযোগিতায় নাম লিখিয়েছে। কোম্পানিটি প্রায় ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে তাদের হবিগঞ্জের কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এই কারখানায় এখন মাসে প্রায় ৫০০ ইউনিট ই-স্কুটার তৈরি হচ্ছে। তবে পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ শুরু করলে মাসে ৩ হাজার ইউনিট উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
আরএফএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আর এন পাল বলেন, বর্তমান শুল্ক কাঠামো এখনও বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ এর ফলে খুচরা বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যায়।
তিনি জানান, তারা নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারের পক্ষ থেকে জোরালো নীতি সহায়তা পেলে ২০২৭ সালের মধ্যে তারা ৫০ হাজার টাকার আশেপাশে সাশ্রয়ী মূল্যে ই-স্কুটার বাজারে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন।
দেশের অন্যতম বৃহৎ ইলেকট্রনিকস পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন এই খাতে শুরু থেকেই শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। ২০২২ সালে তাকিওন ব্র্যান্ডের মাধ্যমে তারা দেশের প্রথম স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ই-বাইক বাজারে আনে। বর্তমানে বাজারের প্রায় ১৮ শতাংশ তাদের দখলে।
ওয়ালটনের উৎপাদন ইকোসিস্টেমের মধ্যে রয়েছে অ্যাসেম্বলি লাইন, প্লাস্টিক মোল্ডিং, ডিজিটাল সিস্টেমের জন্য পিসিবি এসএমটি উৎপাদন, ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ও নিজস্ব ব্যাটারি উৎপাদন কারখানা।
ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চিফ বিজনেস অফিসার তৌহিদুল রহমান রাদ জানান, ওয়ালটন ১ লাখ ২০ হাজার বর্গফুটের একটি ডেডিকেটেড ই-বাইক কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। সেখানে বছরে ২০ হাজার ইউনিট বাইক উৎপাদন করা যাবে।
কয়েকশো কোটি টাকার এই বিনিয়োগ প্রকল্পের মাধ্যমে ১ হাজার ৫০০-র বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তৌহিদুল আরও বলেন, ই-বাইক ব্যবহারের ফলে যাতায়াত খরচ প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। ফলে পরিবারগুলো খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বাইকের ক্রয়মূল্য পুষিয়ে নিতে পারবে।
রানার ও আকিজের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা
দেশের মোটরসাইকেল বাজারের দীর্ঘদিনের পরিচিত প্রতিষ্ঠান রানার অটোমোবাইলসও তাদের ইভি কৌশলে গতি বাড়িয়েছে। ২০১২ সালে ৫০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগে মোটরসাইকেল উৎপাদন শুরু করার পর ২০২৫ সাল থেকে চীনের ইয়াদি-র সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ই-স্কুটার সংযোজন শুরু করে রানার।
এর কয়েক বছর আগেই অবশ্য তারা ই-ওয়েভ ব্র্যান্ডের অধীনে ই-বাইক বাজারে এনেছিল।
৭০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার মধ্যে থাকা রানারের ই-বাইকগুলো বাজারে বেশ শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে।
রানার অটোমোবাইলসের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান জানান, কোম্পানিটি ময়মনসিংহের ভালুকার কারখানায় শুধু সংযোজন নয়, পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনের পরিকল্পনাও করছে।
অন্যদিকে আকিজ মোটরস ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ই-বাইক খাতে প্রবেশ করে। বর্তমানে তারা গাজীপুরের কারখানায় সাতটি মডেলের ই-বাইক সংযোজন করছে। কোম্পানিটি মূলত প্রিমিয়াম সেগমেন্টের দিকে নজর দিচ্ছে। এ সেগমেন্টের অধিকাংশ মডেলের দাম ১ লাখ টাকার ওপরে।
আকিজ মোটরসের একজন কর্মকর্তা বলেন, গ্রাহকরা এখন ভালো পারফরম্যান্স, দীর্ঘস্থায়িত্ব ও উচ্চমানের যানবাহনের দিকে আগ্রহী হচ্ছেন।
ক্রেতারা কেন ই-বাইকে ঝুঁকছেন
একটি পেট্রোলচালিত মোটরসাইকেলে সাধারণত জ্বালানি খরচ হয় কিলোমিটারে ২-৩ টাকা। সেখানে একটি ই-বাইকে এই খরচ মাত্র ৩০-৪০ পয়সা।
এছাড়া এতে ইঞ্জিন অয়েলের ঝামেলা নেই, সার্ভিসিং খরচ কম এবং মাসে চার্জ দেওয়ার খরচ মাত্র ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মতো হতে পারে।
ব্র্যাক ব্যাংকের এইচআর কর্মকর্তা নওশাদ আলম সম্প্রতি ২ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে একটি জিহো এ৮ এসই ই-স্কুটার কিনেছেন। লিথিয়াম ব্যাটারিচালিত এই স্কুটার একবার ফুল চার্জ দিলে ১০৫-১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে।
তিনি বলেন, 'জ্বালানির ঝামেলা এড়াতেই আমি ই-বাইক কিনেছি। এখন আর পেট্রোল পাম্পের লাইনে দাঁড়াতে হয় না। ঘরেই চার্জ দিই। জ্বালানি বা সার্ভিসিং খরচ বলতে গেলে নেই-ই, আর কোম্পানি তিন বছরের ওয়ারেন্টিও দিয়েছে।'
তিনি আরও জানান, উন্নত মডেলগুলোর দাম বেশি হলেও সাধারণ মানের ই-বাইক ৫০ হাজার টাকার আশেপাশেই পাওয়া যায়।
আরএফএল ই-বাইকের জেনারেল ম্যানেজার মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, তরুণ পেশাজীবী, বিশেষ করে নারীদের মধ্যে ই-বাইকের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে।
নিয়ন্ত্রিত গতির কারণে অনেক পরিবার একে নিরাপদ মনে করে, যা ই-বাইককে কেবল যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং লাইফস্টাইল পণ্যে পরিণত করছে।
তিনি আরও বলেন, ভারত, চীন ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলোর দিকে তাকালে ইলেকট্রিক যানবাহনের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা স্পষ্ট বোঝা যায়। এমনকি যাদের গাড়ি বা মোটরসাইকেল আছে, তারাও সাশ্রয়ী ও সুবিধাজনক হওয়ায় শহরের ছোটখাটো যাতায়াতের জন্য এখন ই-স্কুটার কিনছেন।
ট্রানশন হোল্ডিংসের মো. মতিউর রহমান বলেন, জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম এবং তীব্র যানজট সাধারণ মানুষকে দিন দিন প্রচলিত মোটরসাইকেল থেকে ই-বাইকের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
আমদানিনির্ভরতা
স্থানীয়ভাবে সংযোজন বাড়লেও বাংলাদেশ এখনো আমদানির ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। অধিকাংশ ই-বাইক চীন থেকে সরাসরি তৈরি অবস্থায় আসে। আর ২০-৩০ শতাংশ ই-বাইক এসকেডি বা সিকেডি কিট হিসেবে দেশে এনে সংযোজন করা হয়। বাজারের একটি বড় অংশ এখনো বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোর দখলে।
ট্রানশন হোল্ডিংস ২০২২ সাল থেকে রেভু ব্র্যান্ডের ই-বাইক আমদানি করছে। বর্তমানে বাজারের প্রায় ২০ শতাংশ এই ব্র্যান্ডের দখলে। ব্র্যান্ডটি হাই-পারফরম্যান্স ই-বাইক মডেল সরবরাহ করে, যা একবার চার্জে ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে। এতে আছে অদলবদলযোগ্য লিথিয়াম ব্যাটারি ও এনএফসি স্মার্ট আনলকিং সিস্টেম।
এছাড়া টেইলজি, সালিদা, আইমা ও এক্সপ্লয়েট-এর মতো চীনা ব্র্যান্ডগুলোও বাজারে শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
চার্জিং ও নিবন্ধন এখনও বড় বাধা
শিল্প খাতের শীর্ষস্থানীয়রা বলেন, এই খাতের বিকাশে সবচেয়ে বড় বাধা হলো অপর্যাপ্ত চার্জিং অবকাঠামো ও জটিল নিবন্ধন প্রক্রিয়া। বর্তমানে বাংলাদেশে মাত্র ১১২টি পাবলিক চার্জিং স্টেশন রয়েছে; এর বেশিরভাগই ঢাকা ও চট্টগ্রামে। ফলে বড় শহরগুলোর বাইরে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগে চার্জ শেষ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা চালকদের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ।
নাসির সিনট্যাক্স মোটরসের সুবায়েল বলেন, একজন চালক যদি বাসা থেকে পর্যাপ্ত চার্জ না নিয়ে বের হন এবং মাঝপথে চার্জ শেষ হয়ে যায়, তাহলে তার সামনে খুব একটা বিকল্প থাকে না।
তিনি বলেন, 'ফুয়েল স্টেশন সবখানেই পাওয়া যায়, কিন্তু চার্জিং স্টেশন নেই। সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো সুনির্দিষ্ট নীতি কাঠামো তৈরি করা হয়নি। ই-বাইক প্রসারের ক্ষেত্রে এটা একটা বড় বাধা।'
ওয়ালটনের তৌহিদুল রহমান বলেন, কিছু ক্ষেত্রে ঢাকার তুলনায় খুলনা ও চট্টগ্রামে ই-বাইকের চাহিদা বেশি। মূলত রাস্তা ব্যবহারের ধরন ও অবকাঠামোগত বাস্তবতার কারণেই এমনটি হচ্ছে।
তিনি বলেন, ফাস্ট-চার্জিং ও ব্যাটারি-সোয়াপিং (অদলবদল) স্টেশনের দ্রুত বিস্তার ঘটলে এই খাতের প্রবৃদ্ধি নাটকীয়ভাবে বাড়বে।
নাসির সিনট্যাক্স মোটরসের কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর মো. মশিউজ্জামান বলেন, ই-বাইক নিবন্ধনের খরচ ৮ থেকে থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত।
তিনি আরও বলেন, বিআরটিএতে ই-বাইক নিবন্ধনের জন্য কোনো আলাদা ডেস্ক নেই। ফলে ক্রেতাদের দীর্ঘসূত্রতার শিকার হতে হচ্ছে এবং অনেক যানবাহন অনিবন্ধিত থেকে যাচ্ছে।
দেশের মোটরসাইকেল বাজারের বর্তমান আকার আনুমানিক ৭-৮ হাজার কোটি টাকার। এটি বছরে ১৬-১৭ শতাংশ হারে বাড়ছে।
সহায়ক শিল্প নীতির কারণে এখন দেশে বিক্রি হওয়া মোটরসাইকেলের প্রায় ৯৯ শতাংশই স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বা সংযোজিত।
স্টেকহোল্ডাররা বলছেন, যদি নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা হয়, চার্জিং অবকাঠামো বাড়ানো হয় ও শুল্ক নীতি অনুকূলে থাকে, তাহলে বাংলাদেশের ই-বাইক বাজার শিগগিরই দেশীয় উৎপাদন এবং শহুরে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সাফল্যের একটি নতুন উদাহরণ হয়ে উঠবে।
