বিওয়াইডি-র সঙ্গে চুক্তিতে রানার অটোমোবাইলসের বিনিয়োগ ও আর্থিক প্রভাব এখনো চূড়ান্ত হয়নি
রানার অটোমোবাইলস পিএলসি ও চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি-র মধ্যকার চুক্তির চূড়ান্ত বিনিয়োগের পরিমাণ এবং এর আর্থিক প্রভাব এখনো নির্ধারিত হয়নি। বিনিয়োগকারীদের জন্য দেওয়া এক ডিসক্লোজারে কোম্পানিটি এ তথ্য জানিয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) এক প্রশ্নের জবাবে রানার অটোমোবাইলস জানিয়েছে, মাস্টার সাপ্লাই অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং এগ্রিমেন্ট (এমএসএমএ) বর্তমানে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা, বাস্তবায়নের সময়সীমা ও প্রত্যাশিত আর্থিক ফলাফল মূল্যায়নের প্রাথমিক কাঠামো হিসেবে কাজ করছে।
গতকাল (২৯ মার্চ) ঢাকা শেয়ারবাজারে লেনদেন বন্ধ হওয়ার সময় কোম্পানিটির শেয়ারের দর ছিল ৪০.৩০ টাকা।
এর আগে রানার ডিএসইকে জানিয়েছিল, বিওয়াইডি অটো ইন্ডাস্ট্রি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পর তারা বিওয়াইডির বৈদ্যুতিক গাড়ি সংযোজন ও সরবরাহ করবে।
২০ মার্চ কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ এই এমএসএমএ অনুমোদন করার পর চুক্তির বিস্তারিত এবং এর সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাবসহ আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা জানতে চায় ডিএসই।
এর ব্যাখ্যায় রানার জানিয়েছে, এমএসএমএ মূলত কমপ্লিটলি নকড ডাউন (সিকেডি) মডেলে গাড়ি উৎপাদনের কাঠামোগত রূপরেখা দিয়ে থাকে। এই পদ্ধতিতে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আমদানি করে স্থানীয়ভাবে সংযোজন করা হবে।
কোম্পানিটি বলেছে, বিনিয়োগের আকার, উৎপাদন সক্ষমতা, সরবরাহ চেইনের প্রয়োজনীয়তা, বাজার সম্ভাবনা এবং আনুমানিক আয় ও ব্যয়ের মতো প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো মূল্যায়নে চুক্তিটি ব্যবহার করা হচ্ছে।
তবে তারা বলেছে, বিস্তারিত বাণিজ্যিক ও আর্থিক শর্তাবলি এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। প্রতিটি গাড়ির মডেলের জন্য আলাদা টেকনিক্যাল লাইসেন্স এগ্রিমেন্টের (টিএলএ) মাধ্যমে এগুলো নির্ধারণ করা হবে।
মডেল-ভিত্তিক এই চুক্তিগুলোর আওতায় প্রযুক্তি হস্তান্তর, উৎপাদন প্রক্রিয়া, মূল্য নির্ধারণ, বিপণন কৌশল ও আর্থিক কাঠামোর মতো প্রধান বিষয়গুলোকে সংজ্ঞায়িত করা হবে। ফলে প্রকল্পের প্রকৃত বিনিয়োগের আকার ও লাভজনকতা নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ চুক্তিগুলোর শর্তাবলির ওপর।
রানার আরও জানিয়েছে , ২০২৫ সালের ২০ মার্চ চীনের শেনজেনে অনুষ্ঠিত বিওয়াইডির এক সম্মেলনে এমএসএমএ সই হয়। তবে বিওয়াইডির পক্ষ থেকে কিছু আইনি আনুষ্ঠানিকতা এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কোম্পানিটি আশা করছে , আগামী পাঁচ থেকে ছয় কার্যদিবসের মধ্যে এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। এটি শেষ হলে স্বাক্ষরিত চুক্তির অনুলিপি ডিএসই ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের দেওয়া হবে।
এদিকে প্রকল্পের চূড়ান্ত বিনিয়োগ, আর্থিক প্রক্ষেপণ, ব্যয় কাঠামোসহ অন্যান্য মূল সূচক এখনো মূল্যায়ন পর্যায়ে রয়েছে।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, চূড়ান্ত করার আগে এসবের জন্য বিওয়াইডি ও রানার অটোমোবাইলসের পরিচালনা পর্ষদ—উভয় পক্ষের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেনমতে, তাৎক্ষণিক আর্থিক স্বচ্ছতার অভাবে স্বল্প মেয়াদে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
তবে আন্তর্জাতিক বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে বিওয়াইডির শক্তিশালী অবস্থানের কথা বিবেচনা করলে এই অংশীদারিত্ব দীর্ঘমেয়াদে বড় সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশের বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম, পরিবেশ সচেতনতা ও সরকারের সহায়ক নীতিমালার কারণে বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আগ্রহ ধীরে ধীরে বাড়ছে।
সিকেডি মডেলে স্থানীয়ভাবে গাড়ি সংযোজন দেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নেও বিশেষ অবদান রাখতে পারে।
রানার অটোমোবাইলস জানিয়েছে, বিনিয়োগের বিস্তারিত বিবরণ, আর্থিক প্রভাব ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য চূড়ান্ত ও অনুমোদিত হওয়ার পর যথাসময়ে প্রকাশ করা হবে।
