Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

হলে ফেরা...

আশি ও নব্বইয়ের দশককে বলা হয় বাংলাদেশের সিনেমার সোনালি সময়। তখন সারা দেশে প্রায় ১৪০০ সিনেমা হল ছিল। আশির দশকে ‘ছুটির ঘণ্টা’ (১৯৮০), ‘ভাত দে’ (১৯৮৪) কিংবা ‘সখী তুমি কার’-এর (১৯৮০) মতো মৌলিক ও সাহিত্যনির্ভর কাজগুলো গ্রামগঞ্জের মানুষকেও সিনেমা পাগল করে তুলেছিল। ১৯৮৯ সালে বেদের মেয়ে জোসনা মুক্তির পর সিনেমা হলের টিকিটের জন্য মানুষের দীর্ঘ লাইন আর হাহাকার আজও এক কিংবদন্তি।
হলে ফেরা...

ইজেল

রিফাত আরা
03 May, 2026, 08:00 pm
Last modified: 03 May, 2026, 08:14 pm

Related News

  • সিনেমা কেন দেখি অথবা তিরিশ বছরের ঘোর
  • ‘কাটিং থ্রু রকস’: অস্কারে মনোনীত প্রামাণ্যচিত্রের তারকা ইরানের মোটরসাইকেল চালক ধাত্রী
  • ‘মোগল স্থাপত্য নয়, মন্দির’; তাজমহল নিয়ে পুরোনো ষড়যন্ত্র-তত্ত্বকে নতুন করে উসকে দিয়েছে বলিউডের যে সিনেমা
  • ‘মেলানিয়া’ রিভিউ: ‘ট্রাম্প-পত্নীর ডকুমেন্টারি, সোনায় মোড়ানো আবর্জনা!’
  • ‘এজন্যই চ্যাপলিন অনন্য': ‘সিটি লাইটস’ ও সিনেমার ইতিহাসে সেরা শেষ দৃশ্যের গল্প

হলে ফেরা...

আশি ও নব্বইয়ের দশককে বলা হয় বাংলাদেশের সিনেমার সোনালি সময়। তখন সারা দেশে প্রায় ১৪০০ সিনেমা হল ছিল। আশির দশকে ‘ছুটির ঘণ্টা’ (১৯৮০), ‘ভাত দে’ (১৯৮৪) কিংবা ‘সখী তুমি কার’-এর (১৯৮০) মতো মৌলিক ও সাহিত্যনির্ভর কাজগুলো গ্রামগঞ্জের মানুষকেও সিনেমা পাগল করে তুলেছিল। ১৯৮৯ সালে বেদের মেয়ে জোসনা মুক্তির পর সিনেমা হলের টিকিটের জন্য মানুষের দীর্ঘ লাইন আর হাহাকার আজও এক কিংবদন্তি।
রিফাত আরা
03 May, 2026, 08:00 pm
Last modified: 03 May, 2026, 08:14 pm

প্রায় এক মাস আগে ঈদ শেষ হলেও সিনেপ্লেক্স এবং মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে ঈদের আমেজ এখনো শেষ হয়নি। 'বনলতা এক্সপ্রেস', 'দম', 'রাক্ষস', 'প্রেশার কুকার'-এর মতো সিনেমাগুলো এখনো বহাল তবিয়তে চলছে সিনেপ্লেক্সের পর্দায়। ঝিমিয়ে পড়া প্রেক্ষাগৃহগুলোয় খানিকটা ভিড় আবার ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে ঝিমিয়ে থাকা ঢালিউডের ট্রেন আবার চলতে শুরু করেছে বলা যায়। 

কোলাজ: টিবিএস

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাস অনেকটা চড়াই-উতরাইয়ের। ১৯৫৬ সালে আব্দুল জব্বার খানের 'মুখ ও মুখোশ' দিয়ে যে যাত্রার শুরু, তা সময়ের সাথে সাথে কখনো পেয়েছে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা, আবার কখনো ডুবেছে গভীর অন্ধকারে। 

ষাট ও সত্তরের দশকে সিনেমা ছিল দর্শকদের কাছে এক পরম বিস্ময়। 'রাজধানীর বুকে' (১৯৬০), 'আগুন নিয়ে খেলা' (১৯৬৭) কিংবা জহির রায়হানের 'কখনো আসেনি'-এর (১৯৬১) মতো সিনেমাগুলো তখন শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজকে হলের প্রতি প্রবলভাবে আকৃষ্ট করেছিল। বিশেষ করে ১৯৬৪ সালে পাকিস্তানের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র 'সঙ্গম' মুক্তির পর হলগুলোতে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় ছিল দেখার মতো। স্বাধীনতার পর জহির রায়হানের 'জীবন থেকে নেয়া' (১৯৭০) দেশাত্মবোধক ও রোমান্টিক সিনেমার এক বিশাল বাজার তৈরি করে। 'ওরা এগারো জন' (১৯৭২), 'সারেং বৌ' (১৯৭৮) কিংবা 'গোলাপি এখন ট্রেনে' (১৯৭৮)—এই সিনেমাগুলো ছিল মানুষের প্রতিদিনের আড্ডার প্রধান বিষয়।

আশি ও নব্বইয়ের দশককে বলা হয় বাংলাদেশের সিনেমার সোনালি সময়। তখন সারা দেশে প্রায় ১৪০০ সিনেমা হল ছিল। আশির দশকে 'ছুটির ঘণ্টা' (১৯৮০), 'ভাত দে' (১৯৮৪) কিংবা 'সখী তুমি কার'-এর (১৯৮০) মতো মৌলিক ও সাহিত্যনির্ভর কাজগুলো গ্রামগঞ্জের মানুষকেও সিনেমা পাগল করে তুলেছিল। ১৯৮৯ সালে বেদের মেয়ে জোসনা মুক্তির পর সিনেমা হলের টিকিটের জন্য মানুষের দীর্ঘ লাইন আর হাহাকার আজও এক কিংবদন্তি।

জীবন থেকে নেওয়া সিনেমার একটি পোস্টার। ছবি: সংগৃহীত

নব্বইয়ের দশকে সালমান শাহর আগমন সিনেমার সংজ্ঞাই বদলে দেয়। তার স্টাইল আর অভিনয় তরুণ সমাজকে হলমুখী করতে জাদুর মতো কাজ করেছিল। 'কেয়ামত থেকে কেয়ামত' (১৯৯৩) থেকে শুরু করে 'স্বপ্নের ঠিকানা' (১৯৯৫)—প্রতিটি সিনেমা মুক্তির দিন হলের সামনে যেন তিল ধারণের জায়গা থাকত না। তখন সিনেমা কেবল বিনোদন ছিল না, ছিল মানুষের আবেগের জায়গা। পরিবার নিয়ে দলবেঁধে সিনেমা দেখতে যাওয়া ছিল উৎসবের মতো।

নব্বইয়ের দশকের তুমুল সফলতার পর বাংলাদেশি সিনেমার দর্শক ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। মূলত ২০০০ সালের পর থেকে তথাকথিত 'কাটপিস'-এর প্রচলন শুরু হয়; একই সাথে সিনেমার মান, কাহিনি, বাজেট এসবেও ধস নামতে থাকে। আগের মতো পরিবারসহ সিনেমা দেখতে যাওয়ার বদলে দর্শক হল থেকে মুখ ফিরিয়ে ড্রয়িংরুমের স্যাটেলাইট টিভিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। 

ধীরে ধীর দর্শকসংখ্যা কমতে থাকে আর হল বন্ধ হওয়া শুরু করে। ২০০৬-২০০৭ সালের দিকে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলা সিনেমা আবার ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা করে। এ সময় 'আম্মাজান' (১৯৯৯), 'প্রেমের তাজমহল' (২০০১), 'কোটি টাকার কাবিন' (২০০৬), 'খাইরুন সুন্দরী' (২০০৪),  'প্রিয়া আমার প্রিয়া'-এর (২০০৮) মতো বেশ কিছু সিনেমা ব্যবসাসফল হয়। 

এই ছয়-সাত বছরে যেসব সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল, তার বেশির ভাগই নির্মাণ করা হয়েছিল নিম্ন আয়ের সাধারণ দর্শককে উদ্দেশ্য করে, বিশেষত, যাদের ঘরে টিভি নেই বা অন্যান্য বিনোদন মাধ্যম নেই। তবে এই দর্শক শ্রেণিই মূলত এই সময় হলগুলোকে টিকিয়ে রাখে। অবশ্য এ সময় যে একেবারে ভালো গল্পের সিনেমা তৈরি হয়নি, তা নয়। 'শ্যামল ছায়া' (২০০৪), 'মনপুরা' (২০০৯), 'দারুচিনি দ্বীপ' (২০০৭), 'কীত্তনখোলা' (২০০০), 'মাটির ময়না' (২০০২) সিনেমাগুলো দর্শক হলে গিয়ে দেখেছে। কিন্তু নব্বইয়ের দশকের সিনেমার যে জৌলুস, তা আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। দেশে ইন্টারনেট আর মোবাইল ফোন সহজলভ্য হওয়ার সাথে সাথে বিদেশি সিনেমার জনপ্রিয়তাও বৃদ্ধি পেতে থাকে। দর্শক ধীরে ধীরে হল বিমুখী হতে থাকে আর হলের সংখ্যা কমতে থাকে। দর্শকের সংকটে পড়ে হাজার হাজার সিঙ্গেল স্ক্রিন বন্ধ হয়ে যায়। সিনেমা হলের সংখ্যা ২০০-৩০০-এ নেমে আসে।   

'কেয়ামত থেকে কেয়ামত' সিনেমার একটি দৃশ্য।

২০২০ সালের করোনা মহামারির সময় বাংলাদেশের দর্শকেরা ওটিটি প্ল্যাটফর্মের ওপর ঝুঁকে পড়ে। নেটফ্লিক্স, আমাজন প্রাইম ভিডিও, ডিজনি, অ্যাপেল টিভির মতো স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলো বাংলাদেশি তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এ সময় বাংলাদেশেও চরকি, বঙ্গর মতো সাইট তৈরি হয়। বিদেশি জনপ্রিয় সিনেমা আর সিরিজের ভিড়ে বাংলা সিনেমার জন্য যে দর্শক আর হলে ফিরবে, এই আশা তখন অনেকটা বিলাসিতায় পরিণত হয়। তবুও এ সময় 'আয়নাবাজি' (২০১৬), 'দেবী' (২০১৮), 'রেহানা মরিয়ম নূর'সহ (২০২১) কিছু সিনেমা আমাদের সেই আশাকে জাগিয়ে রেখেছিল।  

তারপর ২০২২ সালে এসে বাংলা সিনেমার পালে নতুন এক হাওয়া লাগে। মুক্তি পায় মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত 'হাওয়া'। দীর্ঘদিনের বাংলা সিনেমার গতানুগতিক ধারার ফর্মুলা থেকে বের হয়ে খানিকটা নতুন এবং অতিপ্রাকৃতিক সিনেমাটি বেশির ভাগ দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে। আশাতীত দর্শক হাওয়া দেখার জন্য হলে ভিড় জমান। এমনকি মুক্তির কয়েক মাস পরেও সিনেপ্লেক্সগুলোতে হাউসফুল শো চলে। সিনেমাটি বাংলাদেশের বাইরে উত্তর আমেরিকার প্রবাসী বাঙালি দর্শকদের মধ্যেও তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। দেশে-বিদেশে সিনেমাটি প্রায় ১৬ কোটি টাকা আয় করে, যা বাংলাদেশি সিনেমার বাজার বিবেচনায় একটা বড় ব্যাপার ছিল। একই বছর মুক্তি পায় রায়হান রাফি পরিচালিত 'পরাণ' এবং 'দামাল'। সত্য ঘটনানির্ভর সিনেমা দুটি দর্শক আগ্রহের সাথে গ্রহণ করে। দেশের হলগুলোতে 'পরাণ' ১২ কোটি টাকা আয় করে।   

রংবাজ সিনেমার একটি পোস্টার। ছবি: সংগৃহীত

২০২৩ সালে দেশে ৫১টি সিনেমা মুক্তি পায়, যার মধ্যে 'প্রিয়তমা' এবং 'সুড়ঙ্গ' সিনেমা দুটি বেশ সাড়া ফেলে। হিমেল আশরাফের পরিচালনায় দর্শক সাকিব খানকে প্রাণবন্তভাবে গ্রহণ করে। বাংলাদেশের পাশাপাশি উত্তর আমেরিকা এবং ভারতেও সিনেমাটি জনপ্রিয়তা লাভ করে। সিনেমাটি আয় করে প্রায় ৪২ কোটি টাকা। রায়হান রাফী নির্মিত 'সুড়ঙ্গ' ঈদুল আজহায় মুক্তি পায় এবং বেশ ব্যবসাসফল হয়ে ওঠে। সিনেমাটি আয় করে ১৫ কোটি টাকা। 

২০২৪ সালে বেশ কিছু বাংলা সিনেমা তৈরি হয়, যা দর্শকদের পছন্দের তালিকায় উঠে আসে।  শাকিব খানের 'তুফান', 'রাজকুমার' এবং 'দরদ' যথাক্রমে ৫৬ কোটি, ২৬ কোটি এবং ৯ কোটি টাকা আয় করে সর্বোচ্চ আয়কারী তালিকায় নাম লেখায়। শরিফুল রাজ অভিনীত 'ওমর', 'দেয়ালের দেশ', 'কাজলরেখা' সিনেমাগুলোও ভালোই ব্যবসা করে দেশের বাজারে। ওটিটিতে মুক্তি পাওয়ার পর এই দর্শকদের কাছে আরও গ্রহণযোগ্যতা পায়। জয়া আহসান অভিনীত 'পেয়ারার সুবাস' ও 'নকশীকাথার জমিন'ও এ বছর মুক্তি পায়। এই সিনেমাগুলো হলে খুব বেশি ব্যবসা না করতে পারলেও দেশে এবং বিদেশে সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায়।  

২০২৫ সালে হলগুলোতে বাংলাদেশি সিনেমা বেশ দাপটের সাথে চলতে থাকে। 'বরবাদ', 'তাণ্ডব', 'দাগী', 'জংলি' সিনেমাগুলো যথাক্রমে ৭৫ কোটি, ৩০ কোটি, ১৬ কোটি এবং ১০ কোটি টাকা আয় করে। তানিম নূর পরিচালিত 'উৎসব' সিনেমাটি বিশেষভাবে সকলের নজর কেড়ে নেয়। 'পরিবার ছাড়া দেখা নিষেধ' এমন ট্যাগ লাইনের মাধ্যমে নব্বইয়ের দশকের পরিবারসহ সিনেমা দেখতে যাওয়ার রীতিকে কিছু সময়ের জন্য ফিরিয়ে আনে 'উৎসব'। এ ছাড়া 'রিকশা গার্ল', 'বলি', 'অন্যদিন', 'দেলুপি'সহ বেশ কিছু সিনেমা দেখায় দর্শকদের ভিড় দেখা যায়।  

'জাগো হুয়া সাবেরা' সিনেমার একটি পোস্টার। ছবি: সংগৃহীত

২০২২ থেকে ২০২৫-এর সিনেমা এবং সিনেমার আয়ের দিকে তাকালেই বোঝা যায়, এই সংখ্যাগুলো নিয়মিতভাবে বাড়ছে। এর অর্থ হলো দর্শকেরা আবার ধীরে ধীরে হলে ফিরছে। কিন্তু একদিকে যেমন হলে দর্শক ফিরছে—এই খবরে আমাদের আনন্দিত হওয়া উচিত, তেমনি কোন ধরনের সিনেমা দেখার জন্য দর্শক হলে ঢুকছে, সেদিকেও কিছুটা নজর দেওয়া দরকার। 

'প্রিয়তমা', 'তুফান', 'রাজকুমার', 'বরবাদ', 'তাণ্ডব', 'দাগী' কিংবা 'জংলি'র মতো সিনেমাগুলো গত চার বছরের আয়ের তালিকার শীর্ষে রয়েছে। সিনেমাগুলোর গল্পের দিকে লক্ষ করলে কিছু সাধারণ বিষয় দেখা যাবে—সারা গায়ে রক্ত মেখে নায়ক একটা পেল্লাই সাইজের বন্দুক, মেশিনগান কিংবা রামদা হাতে সবাইকে খুন করছে; নায়িকার প্রতি নায়কের খুবই জঘন্য ব্যবহার, যেটা কিনা ভালোবাসা প্রকাশের মাধ্যম বলে বিবেচিত হচ্ছে, প্রচণ্ড বাজে রকম ভাষার ব্যবহার (দরকারে হোক কিংবা অদরকারে), সকল পুরুষের বখে যাওয়ার পেছনে দোষটা আসলে নারীর—এমন ধরনের কিছু ডায়ালগ। 

বলিউডের 'কবির সিং' (২০১৯), 'পুষ্পা' (২০২১), 'কেজিএফ' (২০১৮) কিংবা 'অ্যানিমেল'-এর (২০২৩) ফর্মুলার সাথে এই গল্পগুলো অনেকাংশেই মিলে যায়। সোশ্যাল মিডিয়ার আলফা পুরুষ ট্রেন্ডের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে সিনেমাগুলো যেন রক্ত, নৃশংসতা, নারীদের প্রতি তীব্র বিরূপ মনোভাব নিয়ে তৈরি হচ্ছে। আর এসব সিনেমার অধিকাংশ দর্শক তরুণ বা উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েরা, যাদের মনস্তত্ত্ব খানিকটা হলেও সিনেমার মাধ্যমে প্রভাবিত হয়। সিনেমাগুলো তাদের মনে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সে বিষয়েও ভাববার দরকার আছে। দিন শেষে সমাজের নৃশংসতাগুলো সিনেমায় ফুটে ওঠে নাকি সিনেমাই সমাজকে নৃশংস হতে প্রভাবিত করে, সে ব্যাপারে প্রশ্ন থেকেই যায়।  

মুদ্রার অন্য পিঠের সিনেমাগুলোর কথা না বললে অন্যায় হয়ে যাবে। এই চার বছরে 'উৎসব', 'রিকশা গার্ল', 'বলি', 'অন্যদিন', 'দেলুপি', 'দেয়ালের দেশ', 'কাজলরেখা', 'পরাণ', 'দামাল', 'হাওয়া'  কিংবা এ ধরনের সিনেমাগুলো কিন্তু তৈরি হয়েছে এবং দর্শক সেগুলো সাদরে গ্রহণ করেছে। সিনেমাগুলোর মৌলিক গল্প দর্শককে সিনেমা হলে টানছে এবং এই ধরনের সিনেমাগুলোরও আয়ও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।

'মাটির ময়না' সিনেমার একটি দৃশ্য।

আবার ফিরে যাই এ বছরের সিনেমাগুলোর কাছে। এবারের ঈদে মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলোর মধ্যে তানিম নূর পরিচালিত 'বনলতা এক্সপ্রেস' জনপ্রিয়তার তুঙ্গে রয়েছে। জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের 'কিছুক্ষণ' উপন্যাস অবলম্বনে সিনেমাটি তৈরি হয়েছে। মুক্তির এক মাস পার হলেও এখনো দর্শকেরা টিকিট পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। একই সাথে সিনেমাটি আমেরিকা, কানাডা, ইউকে এবং অস্ট্রেলিয়াতেও দর্শকদের মন জয় করে রেকর্ড পরিমাণ ব্যবসা করছে। উত্তর আমেরিকাতে 'বনলতা এক্সপ্রেস' ৪ লাখ ডলারের ক্লাবে প্রবেশ করেছে। এদিকে পরিচালক রায়হান রাফী তার চিরায়িত ধারার বাইরে এসে নারীকেন্দ্রিক সিনেমা 'প্রেশার কুকার' বানিয়েছেন, যা দর্শকের কাছে তুমুল প্রশংসিত হচ্ছে। আলোচনায় থাকা ঈদের সিনেমার তালিকায় আরও আছে মেহেদী হাসান হৃদয় নির্মিত 'রাক্ষস' এবং আবু হায়াত মাহমুদের 'প্রিন্স'। এবারের ঈদে দর্শকদের সাড়া দেখে বোঝা যাচ্ছে তথাকথিত মারদাঙ্গা সিনেমাকে পাশ কাটিয়ে দর্শক কাহিনিনির্ভর সিনেমাগুলোর জন্য হলে ফিরছে।

তবে দর্শকদের এই ফিরে আসার গল্পটি মূলত সিনেপ্লেক্সকেন্দ্রিক। রাজধানী বা বড় শহরের সিনেপ্লেক্সগুলো হাউসফুল থাকলেও সিঙ্গেল স্ক্রিনের হলগুলো এখনো ধুঁকছে। উচ্চবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্ত সমাজ আধুনিক পরিবেশ ও ঝকঝকে নির্মাণের টানে প্রেক্ষাগৃহে ফিরছে ঠিকই, কিন্তু এর বিপরীতে মফস্বল ও শহরের পুরোনো সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলো এখনো জনশূন্য ও বিষণ্ন। জরাজীর্ণ ভবন, ভাঙা আসন, নিম্নমানের সাউন্ড সিস্টেম এবং অসহনীয় ভ্যাপসা গরমের কারণে সাধারণ দর্শক এসব হল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে; এমনকি বড় বাজেটের সিনেমা চললেও পরিবেশের অভাবে সেখানে লোকসমাগম হচ্ছে না। 

আধুনিক কারিগরি উৎকর্ষ আর আরামদায়ক পরিবেশের যে চাহিদা বর্তমান দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে, তা সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলো পূরণ করতে পারছে না। আবার দেশে বর্তমানে মাত্র ৭০টি সিনেমা হল চালু রয়েছে; ফলে সিনেমাগুলো বেশির ভাগ মফস্বলের দর্শকদের আয়ত্তের বাইরে। সিনেপ্লেক্সে টিকিটে চড়া দামের কারণে তা সাধারণ দর্শকের নাগালের বাইরে। এ ছাড়া এই একেবারে সাধারণ দর্শক যে ধরনের কাহিনির প্রতি আগ্রহী, সেসব সিনেমা নির্মাণে নতুন ধারার চলচ্চিত্রকারেরা আগ্রহী কি না, সেটাও দেখা জরুরি। 

‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার একটি দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

যে সিনেমা সিনেপ্লেক্স-মাল্টিপ্লেক্স দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, সেই একই সিনেমা যখন সিঙ্গেল স্ক্রিনে আসছে, তখন নামমাত্র দর্শক উপস্থিতি শঙ্কাজনক। তবে কি এই নতুন ধারার চলচ্চিত্রগুলো সিঙ্গেল স্ক্রিনের দর্শকের পালস ধরতে পারছে না নাকি ধরতে চাইছে না, সেটাও দেখা জরুরি। কারণ, একসময় বাংলাদেশের হলগুলোর ব্যবসা যে সাধারণ মানুষের হাত আঁকড়ে ধরে টিকে ছিল, তাদের উপেক্ষা করে কেবল সিনেপ্লেক্স মাল্টিপ্লেক্সগামী দর্শকের জন্য সিনেমা বানিয়ে একটি ইন্ডাস্ট্রি পুনরায় গড়ে তোলা কঠিন। তাই প্রয়োজন সিনেমা হলগুলোর সংস্কার এবং একই সাথে প্রয়োজন সাধারণ দর্শকমুখী চলচ্চিত্র নির্মাণ। 

Related Topics

টপ নিউজ

সিনেমা / বাংলা সিনেমা / চলচ্চিত্র / বাংলা চলচ্চিত্র

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • বন্ধ কারখানা চালু করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৪০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম
    বন্ধ কারখানা চালু করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৪০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম
  • ছবি: সৈয়দ জাকির হোসেন/টিবিএস
    দৃশ্যমান হচ্ছে জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চল: ১২ প্রতিষ্ঠানের ৩৫৩ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ, পাইপলাইনে আছে আরও 
  • ছবি: এএনআই
    তামিলনাড়ুতে ‘থালাপতি’ ঝড়: প্রথম নির্বাচনে নেমেই বাজিমাত অভিনেতা বিজয়ের, গঠন করতে পারেন সরকার
  • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী। ছবি:সংগৃহীত
    পশ্চিমবঙ্গে দুইশ’র বেশি আসনে জয়ের পথে বিজেপি, বিজয়ীদের নাম ঘোষণা শুরু
  • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
    পুলিশের আগের শার্ট বহাল থাকছে, প্যান্টের রং হচ্ছে খাকি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Related News

  • সিনেমা কেন দেখি অথবা তিরিশ বছরের ঘোর
  • ‘কাটিং থ্রু রকস’: অস্কারে মনোনীত প্রামাণ্যচিত্রের তারকা ইরানের মোটরসাইকেল চালক ধাত্রী
  • ‘মোগল স্থাপত্য নয়, মন্দির’; তাজমহল নিয়ে পুরোনো ষড়যন্ত্র-তত্ত্বকে নতুন করে উসকে দিয়েছে বলিউডের যে সিনেমা
  • ‘মেলানিয়া’ রিভিউ: ‘ট্রাম্প-পত্নীর ডকুমেন্টারি, সোনায় মোড়ানো আবর্জনা!’
  • ‘এজন্যই চ্যাপলিন অনন্য': ‘সিটি লাইটস’ ও সিনেমার ইতিহাসে সেরা শেষ দৃশ্যের গল্প

Most Read

1
বন্ধ কারখানা চালু করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৪০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম
অর্থনীতি

বন্ধ কারখানা চালু করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৪০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম

2
ছবি: সৈয়দ জাকির হোসেন/টিবিএস
অর্থনীতি

দৃশ্যমান হচ্ছে জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চল: ১২ প্রতিষ্ঠানের ৩৫৩ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ, পাইপলাইনে আছে আরও 

3
ছবি: এএনআই
আন্তর্জাতিক

তামিলনাড়ুতে ‘থালাপতি’ ঝড়: প্রথম নির্বাচনে নেমেই বাজিমাত অভিনেতা বিজয়ের, গঠন করতে পারেন সরকার

4
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী। ছবি:সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক

পশ্চিমবঙ্গে দুইশ’র বেশি আসনে জয়ের পথে বিজেপি, বিজয়ীদের নাম ঘোষণা শুরু

5
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ

পুলিশের আগের শার্ট বহাল থাকছে, প্যান্টের রং হচ্ছে খাকি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

The Business Standard
Top

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - oped.tbs@gmail.com

For advertisement- sales@tbsnews.net

Copyright © 2022 THE BUSINESS STANDARD All rights reserved. Technical Partner: RSI Lab