সিনেমা কেন দেখি অথবা তিরিশ বছরের ঘোর
১.
তিনটি টুকরো স্মৃতি
এক. 'সত্যের মৃত্যু নেই' মুক্তি পেয়েছে খুরশিদ মহলে, ছিয়ানব্বই সাল। সালমান শাহ হত্যা হয়ে যাওয়ার পরপর। তখন সালমান শাহ আমাদের রাজা। টিকিটের জন্য ধস্তাধস্তি। প্রায় অন্যের কোলে বসে সিনেমা দেখা। আমার একপাশে রুবেল, অন্যপাশে সুব্রত। আমরা কাঁদছিলাম। এই রকম বিশুদ্ধ আবেগে, ত্রিশ বছর আগের অল্প বয়সের আবেগে শেষ কবে সিনেমা দেখেছি, আজ আর মনে নেই।
দুই. 'আগুনের পরশমণি'। মুক্তিযোদ্ধা ট্রাস্টের আলমাস সিনেমা। মানুষের ঢল, মধ্যবিত্ত মানুষ। আশপাশের পাড়ার মা-মাসিরাও শামিল। সিনেমা হলে ঢোকার সময় কিংবা বিরতিতে মৃদু হাসি কুশল বিনিময়, ছেলেমেয়েদের পরীক্ষার রেজাল্টের খবর। বিপাশা হায়াত আর আসাদুজ্জামান নূর যেন স্বর্গ থেকে আসা দুটি চরিত্র, আবার স্বর্গে চলে গেছেন। এখন আলমাস সিনেমার জায়গাটায় বিপুল শূন্যতা। কয়েক দিন আগে দেখে মন অসাড় হয়ে এসেছিল।
তিন. 'টাইটানিক'। টিকিটে সিনেমার পোস্টার এই প্রথম। অনেক দিন সংগ্রহে ছিল। মানুষ সিনেমা দেখতে গিয়েছিল না ওই বিশেষ অঙ্কন দৃশ্য, আজও ভাবি। বয়ঃসন্ধি সদ্য পার হচ্ছি, গা শিরশির। এই প্রথম বাড়িতে আড়াল করলাম সিনেমার কথা। সিনেমা শুরুর দিকে, জলের তলার দৃশ্যে গ্র্যান্ড পিয়ানো দেখে 'ওই দেখো কত বড় হারমোনিয়াম' বলে চিৎকার করে ওঠা স্বর মনে পড়ে। শুধু স্বর, কেননা হাসির তোড়ে চেহারা দেখিনি।
২.
এবার স্মৃতির মধ্যে তলিয়ে যাওয়া যাক। তখন ডিভিডি আসেনি। চার কোনা ভিএইচএস ক্যাসেটের যুগ। পাড়ায় পাড়ায় এই ক্যাসেটের দোকান আর বই ভাড়া দেয়া কারও কারও সাইড বিজনেস। বাংলাদেশ টেলিভিশন একমাত্র বিনোদনের মাধ্যম। একটু সিরিয়াস, বয়স্ক লোকেদের জন্য রেডিও। বিবিসি বাংলার বিশ্ব সংবাদ। যৌথ পরিবারের মায়েরা দেখতাম শুক্রবার আগেভাগে কাজ সেরে এই সপ্তাহের সিনেমা দেখতে বসে যেতেন। কোনো কোনো মায়ের সামনে পানের বাটা। চোখের জল মোছার জন্য আমাদের মায়েদের শাড়ির আঁচল কখনোই বাড়ন্ত হয়নি। 'মুভি অব দ্য উইক' একবার 'বেনহার' দুই ভাগে দেখাল, প্রায় চার ঘণ্টার মহা চলচ্চিত্র। পরপর দুই সপ্তাহ।
প্রেক্ষাগৃহের চলচ্চিত্র তখনো পুরোপুরি ঘরে ঢুকে পড়েনি। মধ্যবিত্ত পরিবারে, মাসে-দুই মাসে অন্তত একবার সিনেমা দেখতে যাওয়ার বাজেট ছিল। অন্তত আমার মা, পিসিমণি আর জেঠিমণি আনন্দ করে যেতেন এলাকার সিনেমা হলে। আমার প্রথম সিনেমা 'আনো খা বন্ধন'। ভিএইচএসে, জেঠুদের ভিসিআরে। রামের সুমতি অবলম্বনে, শাবানা আজমী ছিলেন। জেঠিমা ছোট নোটবইয়ে পত্রিকা থেকে হিন্দি আর ভারতীয় বাংলা ছবির নাম টুকে রাখতেন। সে আমলে দশ টাকা অনেক টাকা। দশ টাকা ভাড়ায় ক্যাসেট এনে সপরিবারে দেখতাম। কেবল নায়ক-নায়িকাদের দৃশ্যে মা চোখের ওপর আঁচল ফেলে দিতেন। আঁচলের ফাঁক দিয়ে আমি দৃশ্যটি দেখে নিতাম। মায়ের কোলে শুয়েই তো সিনেমা দেখা শুরু। সে জন্য সিনেমা হয়তো আমার আরেক মাতৃভাষা—আশ্রয়।
শীতের বন্ধে, পুজোর ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে ব্যাটারি, টেলিভিশন আর ভিসিআর সবকিছু ভাড়া নিয়ে নিজেদের চলচ্চিত্র উৎসব হতো, মনে আছে। কিংবদন্তি অভিনেতা দিলদার একটি মাত্র চলচ্চিত্রে নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। সেই সিনেমাটি আমরা খুব আনন্দ করে দেখেছিলাম। বলুন তো, সিনেমাটির নাম কী?
ভিএইচএসের যুগ শেষ হলো একদিন। ডিভিডি তখনো মূল্যবান, সর্বসাধারণের আয়ত্তে নয়। ব্লু রে—কথাটি বাজারে মিছরির দানার মতো সহজ হয়নি। চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়িতে সহদেবদার দোকান পিজন থেকে আমরা ক্ল্যাসিক সিনেমা ডিভিডি নিতাম, ভাড়ায়। আহা, সহদেব দাদার আত্মার শান্তি হোক। বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীরা যাকে 'আকাশ সংস্কৃতি' বলেছিলেন এবং বড় বড় প্রবন্ধ লিখেছিলেন, সেই জিনিস আকাশে-বাতাসে। কিন্তু চট্টগ্রামের সিনেমা হলগুলোতে তখনো তার কোনো বড় প্রভাব পড়েনি। সিনেমা পাইরেসি জিনিসটা তখন বড় বড় মনীষীরা শিখে উঠতে পারেননি। কাটপিস বলে একটা জিনিস শুরু হয়েছিল, সিনেমার মাঝখানে দুম করে নায়িকার গরম লাগায় স্নানের দৃশ্য। অপসংস্কৃতি বলে একটা কথার চল হলো তখন। 'বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল' নামের একটি বামপন্থী দল সিনেমার পোস্টারে কালি মাখা শুরু করল। আমিও কালি মেখে দিব্যি পরের শোয়ে ঢুকে পড়লাম বিশাল বক্ষা মুনমুন আর ময়ূরীদের দেখতে।
ঐ তেইশ-চব্বিশ বছর বয়সেই আমার মনে হয়েছিল, এই সব অভিনেত্রীরাই আমাদের সিনেমা হলগুলোকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। যেসব এক্সট্রা অভিনেতা-অভিনেত্রীরা নায়কের মার খান, নায়িকার সখী হয়ে নাচেন অতিরিক্ত মেকআপ করে করে ঘেমে নেয়ে, তারাই বাংলা সিনেমার প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেন। কোনো বামপন্থী দল কোনো দিন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে মাথা ঘামায়নি। সিনেমা তো ডানপন্থীদের কাছে বিষতুল্য। বিশিষ্ট পণ্ডিতেরা সমৃদ্ধ চলচ্চিত্র সংস্কৃতির কথা বলেই খালাস কিন্তু সেই সংস্কৃতি কেমন করে নির্মিত হবে, সে বিষয়ে দু-চারটে ইউটোপিয়ান তত্ত্ব ছাড়া কিছুই প্রসব করতে পারেননি। আমাদের সার্বিক শিক্ষাব্যবস্থার সাথে সাংস্কৃতিক চর্চা যুক্ত করে একটা নতুনতর পথের কথা কেউ বলেননি। বরং অদ্ভুত রকমভাবে চলচ্চিত্র মেইন স্ট্রিম আর আর্ট ফিল্মে ভাগ হয়ে গেল। আচ্ছা 'পথের পাঁচালী' মেইন স্ট্রিম না আর্ট ফিল্ম? সঠিক উত্তরদাতার জন্য আপাতত ভালোবাসা ছাড়া কিছুই দেওয়ার নেই। সিনেমা দেখা সর্বকালেই বখে যাওয়ার নমুনা হিসেবেই বাবা-মায়েরা চিহ্নিত করে গিয়েছেন।
৩.
সিনেপ্লেক্স বড় সুনিশ্চিত। অথচ তৃতীয় বিশ্বের মহানাগরিকের জীবন সর্বত্র অনিশ্চিত। সিনেপ্লেক্সে কোনো বিপর্যয় ঘটে না। ঘাম নেই। সকলেই সুভদ্র, সজ্জন। মুরগির মাংস আর খই ভাজার গন্ধে ভরে থাকে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঘর। মানুষ সিনেমা দেখতে যায় না খেতে যায়—চল্লিশোর্ধ্ব মনে বুঝতে পারি না। আমরা ওল্ড স্কুল। সিঙ্গেল স্ক্রিনের লোক। প্রদর্শনীর মধ্যে বার দুয়েক বিদ্যুৎ না গেলে, মানুষজন খিস্তি না দিলে, প্রচণ্ড গরমে শার্ট ভিজে না গেলে অল্প বয়সে সিনেমা দেখতে এসেছি বলে মনেই হতো না। সিনেমা দেখতে এসেছি, পর্দার বাইরে একটা কিছু তো ঘটবে। অভাবিত কিছু একটা। কোনো একটা দৃশ্য কাটা পড়লে আমরা আরও ক্ষিপ্ত হব; কেননা গতকালের শো তো এই দৃশ্যের কথা শুনেই দেখতে আসা। আমার সিনেপ্লেক্সের সুনিশ্চিত শীতল পরিবেশ ভালো লাগে না। কেননা, এলাকার মুদিদোকানদার, চুল কাটেন যে, প্রেমে ব্যর্থ মুখে ব্রণ দিদির সাথে সিনেপ্লেক্সে দেখা হয় না। সিঙ্গেল স্ক্রিন একরকমের পাড়া সম্মিলনী সংস্থা ছিল। ছিল, এখন নেই।
কেন বন্ধ হয়ে গেল সিঙ্গেল স্ক্রিন? অনেকে বলবেন, অশ্লীলতার প্রভাব। কেউ কেউ বলবেন, ভালো সিনেমার অভাব। কিন্তু নব্বই দশকে এমনকি দুই হাজার সালের পরেও কিছুদিন বছরে চল্লিশ-পঞ্চাশ বা তার বেশি সিনেমা মুক্তির বাস্তব ইতিহাস মুখ থুবড়ে পড়ল কেন? আমরা কেন এখনো বছরে একটা 'বনলতা এক্সপ্রেস' বা 'হাওয়া' নিয়ে উল্লাস করি? পাশের দেশের সিনেমার গল্পে যেমন নানা ধরনের নিরীক্ষামূলক চেষ্টা, এখানে সেসব কোথায়? যারা প্রচলিত রুচির বাইরে সিনেমা বানানোর চেষ্টা করেছিলেন, তাদের দিকে আমরা কি মমতা নিয়ে তাকিয়েছি? মেইন স্ট্রিম আর আর্ট ফিল্ম—এইভাবে আলাদা ভাবাটাই তো ভুল। এমন কেন হলো, তার উত্তর পেতে গেলে ভাবতে হবে—কেন বাংলাদেশের ডাক বিভাগের অবকাঠামো ব্যবহার করে অনেকগুলো কুরিয়ার সার্ভিসের আজ রমরমা? সরকারি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো কেন রুগ্ণ হয়ে পড়ল ধারাবাহিকভাবে? সকল চেষ্টা বেসরকারিকরণের দিকে ধাবিত হলো কেন? 'বিকল্প' ধারার নির্মাতারা এফডিসির ছবির দিকে কেন সৎ বাপের দৃষ্টি নিয়ে তাকালেন? প্রশ্নগুলো সহজ আর উত্তর তো জানা। আমাদের লোককথা, রূপকথা আর নিজেদের ছাপান্ন বছর বয়সী দেশে সহনাগরিকদের জীবনে গল্পের অভাব নেই। কিন্তু আমরা কিছু নির্মাণের আগেই ভেবে নিই পুরস্কার সম্ভাবনা।
সিঙ্গেল স্ক্রিন সাধারণ আয়ের মানুষদের বিনোদনের জায়গা ছিল। 'বিকল্প' ধারার ফিল্মে নিজেদের বিপন্নতার পুনরুৎপাদন ভালোভাবে নেয়নি। সেই একই বেদনার গান, বাস্তবের পাশাপাশি পর্দায় দেখতে তারা রাজি ছিল না। চলচ্চিত্র আন্দোলনের লোকজনেরা হল ভাড়া করে বিদেশি ছবি দেখাতে যত দূর সচেষ্ট ছিলেন, নিজের দেশের ছবির ব্যাপারে ছিলেন ততটাই নিষ্পৃহ। ফলে অর্ধশতাব্দীর এক জল অচল দূরত্ব রচিত হয়ে গিয়েছে। মৌলিক গল্প বাদ দিয়ে এখনকার মানুষ কেন দক্ষিণ ভারতের বা বলিউড ফিল্মের হুবহু কপি পেস্ট হল ভরিয়ে দেখছেন, আমি জানি না। সেই এক 'অ্যানিমেল' মুক্তির পর গত ঈদগুলোতে শুধু ফটোকপি ফিল্মের দৌরাত্ম্য। এখন আবার এই ধরনের ছবিকে মানুষ আদর করে বলে—ইন্সপায়ার্ড বাই, অনুপ্রাণিত। অথচ সত্যকারের ভালো ছবি হল পায় না। মুহাম্মদ কাইউম নির্মিত 'কুড়া পক্ষীর শূন্যে উড়া'র মুক্তির আগে পরে যুক্ত থেকে দেখেছি আমাদের চলচ্চিত্র প্রদর্শন ব্যবস্থার করুণ দশা। কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে সেরার পুরস্কার আর দেশে একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের পরেও তিনি পরের ছবির জন্যে অনুদান পেলেন না। পরীক্ষিত নির্মাতাদের জন্য অনুদানের নিয়মকানুন শিথিল করা জরুরি। প্রতিবছর তার বদলে আমরা অনুদানসংক্রান্ত নানা অনিয়মের কথা শুনি।
এখন আমাদের সিনেমার দশা—সর্ব অঙ্গে ব্যথা, ওষুধ দেব কোথা? ভিএইচএস, ডিভিডি, সিডি হয়ে পেনড্রাইভ পেরিয়ে হাজার হাজার ফিল্ম যে মেঘের কোলে লুকিয়ে থেকে রোদের মতো হাসবে, আমরা অল্প বয়সে বুঝিনি। জানতাম না, একটি ক্লিকেই তাবৎ ফিল্মের দরজা খুলে যাবে। অথচ কী আশ্চর্য! যত সহজে এমনকি নির্বাক যুগের সুনির্দিষ্ট চলচ্চিত্র খুঁজে পাওয়া যায়, বাংলাদেশের সিনেমার যথাযথ আর্কাইভিং না থাকায় পাওয়া যায় না, পেলেও ইউটিউবের লঝঝর মার্কা প্রিন্ট, যা শিল্পরস আস্বাদনে বহু রকমের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে।
৪.
সত্যতর অর্থে, চলচ্চিত্র শিল্পের সামগ্রিক উন্নতি চাইলে জেলা শহরগুলোতে আর প্রত্যন্ত অঞ্চলে আমজনতা, সাধারণ মানুষের, মধ্যবিত্ত আর নিম্নবিত্তের সিনেমা দেখার নতুন নতুন জায়গার ব্যবস্থা করতে হবে, অল্প খরচে। নির্মাতাদের সরকারি, বেসরকারি টাকা আমলাতান্ত্রিক জটিলতাহীন প্রাপ্তির ব্যবস্থা করা দরকার। মাঝখানে দালাল শ্রেণির লোক রাখা যাবে না। চলচ্চিত্রসংক্রান্ত বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি সংস্থাগুলোতে যে স্বজনপ্রীতিমূলক পুরোনো বন্দোবস্ত, তা সমূলে উচ্ছেদ করে মেধা, শ্রম আর আগের শিল্পকাজের ওপর ভিত্তি করে শিল্পী, নির্মাতাদের মূল্যায়ন করে কাজের ব্যাপারে তাদের যোগ্যতা অনুসারে সহায়তা করতে পারা খুবই জরুরি।
সিনেমা দেখানোর জায়গা নির্মিত হলে, প্রদর্শন ব্যবস্থার নিয়মকানুন আরেকটু নির্মাতাবান্ধব হলে, সিনেমার ব্যাপারে সত্যকারের প্যাশনেট মানুষেরা চলচ্চিত্রের বিভিন্ন ধাপে যোগ্য সম্মান পেলে, একদিন আবার মানুষ সদলবলে সিঙ্গেল স্ক্রিনে যাবে। প্রায় প্রতি সপ্তাহে সিনেমা মুক্তি পাবে। অনেকগুলো সিনেমার কাগজে আবার দর্শক পাঠকেরা লিখবেন নিজেদের কথা। সিনেমা হাতের মুঠোর ফোনের পর্দা থেকে বড় পর্দায় মহা সমারোহে ফিরবে।
আমাদের প্রেম, বিরহ, আহ্লাদের সব অনুভূতি অনলাইন গ্রাস করতে পারবে না কোনো দিন। ঐ যে রিকশা ছুটছে মাইক নিয়ে, পেছনে ছোট ছেলেমেয়েরা, ধুলোমাখা রাস্তায় পোস্টার উড়ছে। শুনতে পাচ্ছি—আসিতেছে, আগামী শুক্রবার, আপনার নিকটবর্তী হলে। পোস্টারে শাবনূর চিরপ্রেমিকা সালমান শাহের দিকে বিশ্ব ভুলে তাকিয়ে...