‘মোগল স্থাপত্য নয়, মন্দির’; তাজমহল নিয়ে পুরোনো ষড়যন্ত্র-তত্ত্বকে নতুন করে উসকে দিয়েছে বলিউডের যে সিনেমা
সারা জীবন পর্যটকদের কাছে তাজমহলের চিরাচরিত প্রেমের গল্প শুনিয়ে আসছেন প্রবীণ টুর গাইড বিশু দাস। কিন্তু জীবনের এই প্রান্তে এসে তার সেই বিশ্বাসে যেন চির ধরেছে। একটি বাড়ির ছাদ থেকে তাজমহলের দিকে তাকিয়ে বিষণ্ন মনে তিনি প্রশ্ন করেন, 'এত বছর ধরে আমরা যে ইতিহাস শুনিয়ে আসছি, তা যদি মিথ্যা হয়?'
এই চরম হতাশা থেকে তিনি এক অদ্ভুত দাবি করে বসেন, 'তাজমহলের কি কোনো ডিএনএ টেস্ট করা যায় না?'
বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত স্মৃতিস্তম্ভগুলির মধ্যে অন্যতম ভারতের তাজমহল। মুঘল স্থাপত্যের এই অনন্য নিদর্শন ঘিরে বছরের পর বছর ধরে এক অদ্ভুত ষড়যন্ত্র তত্ত্ব জিইয়ে রাখা হয়েছে। একদল তথাকথিত ইতিহাসবিদ, আইনজীবী ও কট্টরপন্থীদের দাবি—তাজমহল নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে ইতিহাস প্রচলিত, তার পুরোটাই নাকি মিথ্যা।
বিশু দাসের মুখ থেকে দীর্ঘশ্বাস ঝরা এই সংলাপটি মূলত ভারতীয় পরিচালক তুষার গোয়েলের বিতর্কিত সিনেমা 'দ্য তাজ স্টোরি'র একটি দৃশ্য। গত অক্টোবরে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমাটিতে তাজমহল ঘিরে এই ষড়যন্ত্র-তত্ত্বকে আদালতের লড়াই হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা পরেশ রাওয়াল।
সিনেমার প্রচারণায় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে যে, এটি তাজমহলের 'অজানা ইতিহাস' উন্মোচন করবে। উল্লেখ্য, এই সিনেমার প্রধান চরিত্রের অভিনেতা পরেশ রাওয়াল বিজেপির সাবেক একজন সংসদ সদস্য। তবে সিনেমার পরিচালক তুষার গোয়েল সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, এই ছবির পেছনে কোনো রাজনৈতিক দলের অর্থায়ন নেই।
সমালোচকদের মতে, সিনেমাটি আসলে নতুন কিছু নয়, বরং ইন্টারনেটে ছড়িয়ে থাকা পুরনো ও ভিত্তিহীন দাবিগুলোকেই বড় পর্দায় হাজির করেছে। এই ধরনের সিনেমা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
তাজমহলের প্রকৃত ইতিহাস নিয়ে এই বিতর্কটি বেশ জটিল। প্রচলিত ইতিহাস বলে, সপ্তদশ শতাব্দীতে মুঘল সম্রাট শাহজাহান তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী মমতাজ মহলের স্মৃতিতে এই সমাধিটি নির্মাণ করেন। এটি ইন্দো-ইসলামিক স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন। কিন্তু এই ষড়যন্ত্র তত্ত্বের সমর্থকদের দাবি, তাজমহল আসলে মুঘল বা ইসলামি কোনো স্থাপনা নয়। এর উৎস মূলত হিন্দু ধর্মের সঙ্গে যুক্ত, যে ইতিহাস দীর্ঘকাল ধরে চেপে রাখা হয়েছে।
গবেষক ও ইতিহাসবিদরা নথিপত্র দিয়ে এসব দাবি বারবার খণ্ডন করেছেন। তারা বলছেন, এসব দাবির কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই। তবে কট্টরপন্থীরা তাতে দমে যাননি। এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ ও প্রভাবশালী আইনজীবী হরি শঙ্কর জৈন এক সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেছেন, 'কর্তৃপক্ষ চায় না আসল সত্য বেরিয়ে আসুক।'
কী দাবি করা হচ্ছে এই সিনেমায়?
সিনেমাটিতে এমন কিছু দাবি করা হয়েছে যা আগে কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তর্কেই সীমাবদ্ধ ছিল। এতে বলা হয়েছে, তাজমহল আসলে একটি হিন্দু রাজপ্রাসাদ কিংবা ভগবান শিবের মন্দির ছিল। একটি কাঠের দরজার 'কার্বন ডেটিং'-এর কথা উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, তাজমহল সপ্তদশ শতাব্দীরও অনেক আগের স্থাপনা। এছাড়া তাজমহলের নিচে থাকা ২২টি 'গোপন কক্ষ' কর্তৃপক্ষ ইটের দেয়াল দিয়ে বন্ধ করে রেখেছে যাতে 'আসল সত্য' বাইরে না আসে—এমন তত্ত্বও সিনেমাটিতে দেখানো হয়েছে।
সিনেমার লেখক ও পরিচালক ৩৫ বছর বয়সী তুষার অমরীশ গোয়েল জানান, তাজমহল নিয়ে প্রচলিত ইতিহাসের বাইরের এই দাবিগুলো নিয়ে আড়াই বছর গবেষণা করে তিনি সিনেমার পরিকল্পনা করেছেন। সিনেমার গল্প একজন প্রবীণ ট্যুর গাইডকে ঘিরে, যিনি তাজমহলের ইতিহাস নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েন এবং বিষয়টি প্রমাণ করতে আদালতে যান। মুম্বাইয়ে এক সাক্ষাৎকারে পরিচালক বলেন, 'আমরা কেবল আমাদের যুক্তিগুলো আদালতে তুলে ধরেছি।'
গত অক্টোবরের শেষে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমাটি দেখিয়েছে যে, জনপ্রিয় সংস্কৃতি বা বিনোদন মাধ্যম কত সহজে ভিত্তিহীন ষড়যন্ত্র তত্ত্বকে মূলধারায় নিয়ে আসতে পারে। সিনেমাটি ১৯৯১ সালের অলিভার স্টোনের বিখ্যাত সিনেমা 'জেএফকে'-এর কথাও মনে করিয়ে দেয়। তথ্যগতভাবে দুর্বল ওই সিনেমাটিও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি হত্যাকাণ্ড নিয়ে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব উসকে দিয়েছিল।
পরিচালক তুষার গোয়েল অবশ্য দাবি করেছেন, এই সিনেমা নির্মাণের পেছনে তার কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। তবে সমালোচকরা বলছেন, সিনেমাটিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদেরই প্রতিফলন ঘটেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বলিউডে এমন বেশ কিছু সিনেমা তৈরি হয়েছে যা ভারতের বৈচিত্র্যময় ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আবহে উত্তেজনা তৈরি করছে।
'সাম্প্রদায়িক বিষ' ও ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ
ঐতিহাসিক রুচিকা শর্মা মনে করেন, ভারতের জনসংখ্যার ১৪ শতাংশ (প্রায় ২০ কোটি) মুসলিম। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর দেশে এ ধরনের সিনেমা আসলে দেশকে বিভক্ত করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়ে থাকে।
সিনেমাটি নিয়ে সমালোচক ও দর্শকদের প্রতিক্রিয়াও বেশ মিশ্র। কেউ কেউ বলছেন, এটি কেবল ষড়যন্ত্রমূলক কিছু প্রশ্নই তুলে গেছে, কিন্তু কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর দেয়নি। 'দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'-এ চলচ্চিত্র সমালোচক অলকা সাহানি লিখেছেন, 'দ্য তাজ স্টোরি' নতুন কোনো উত্তর না দিয়েই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে এগিয়েছে। এটি কেবল পুরনো বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে এবং ঐতিহাসিক অনুসন্ধানের পরিবর্তে তথ্য ও কল্পনার মিশেলে একটি বিশেষ উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করেছে।"
সিনেমাটি এখনো 'ব্লকব্লাস্টার' তকমা না পেলেও এরই মধ্যে নির্মাণ ব্যয়ের চেয়ে বেশি আয় করেছে এবং শিগগিরই ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
শামসুদ্দিন খান তাজমহলের একজন প্রবীণ গাইড। 'দ্য তাজ স্টোরি' সিনেমার প্রধান চরিত্রটিও একজন গাইড। তবে বাস্তবের গাইড শামসুদ্দিন এই সিনেমা দেখে বিরক্ত। সম্প্রতি তাজমহল প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, 'এই সিনেমাটি আস্ত আবর্জনা ছাড়া আর কিছু নয়।'
তিনি জানান, আজকাল পর্যটকরা এসে প্রায়ই ষড়যন্ত্র তত্ত্বগুলো নিয়ে প্রশ্ন করেন। তারা জানতে চান তাজমহল নির্মাণের আগের ইতিহাস কিংবা সেই গোপন কক্ষগুলোর রহস্য সম্পর্কে। অনেকে স্থাপত্যের ভেতরে হিন্দু প্রতীকও খুঁজতে চান।
শামসুদ্দিন পর্যটকদের ধৈর্য ধরে বুঝিয়ে বলেন, তাজমহলের স্থপতিরা এতে ইসলামি রীতির পাশাপাশি পদ্মফুল ও ত্রিশূলের মতো স্থানীয় হিন্দু মোটিফও ব্যবহার করেছিলেন। শামসুদ্দিনের মতে, 'সে সময় সব ধর্মের মানুষের প্রতিনিধিত্ব রাখার জন্যই এটি করা হয়েছিল। তখনকার পরিস্থিতি আজকের মতো (এতটা বিভেদের) ছিল না।'
ষড়যন্ত্র তত্ত্বের জন্মদাতা পি এন ওক
তাজমহল নিয়ে এই ষড়যন্ত্র তত্ত্বের শেকড় অনেক গভীরে। এর শুরুটা হয়েছিল কয়েক দশক আগে। ১৯৬৫ সালে পি এন ওক নামের এক আইনজীবী ও স্বঘোষিত ইতিহাসবিদ একটি ছোট বই প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, তাজমহল মূলত চতুর্থ শতাব্দীতে নির্মিত একটি রাজপ্রাসাদ ছিল। পরে একে সমাধিতে রূপান্তর করে বিশ্বকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে।
২০০৭ সালে ৯০ বছর বয়সে মারা যান পি এন ওক। তাঁর জীবদ্দশায় তিনি প্রচুর বই লিখেছেন। তবে ইতিহাসবিদরা তাঁকে সব সময়ই 'ছদ্ম-ইতিহাসবিদ' হিসেবে গণ্য করেছেন। পরবর্তী সময়ে তিনি তাঁর দাবিতে পরিবর্তন এনে বলেন, তাজমহল কোনো রাজপ্রাসাদ নয়, বরং এটি একটি মন্দির ছিল।
শুধু তাজমহলই নয়, ওকের দাবি ছিল আরও বিচিত্র। তিনি লিখেছিলেন, খ্রিস্টধর্ম ও ইসলাম মূলত হিন্দুধর্মের শাখা। এমনকি ভ্যাটিকান সিটির সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকা এবং মক্কার কাবা শরীফও নাকি আদতে হিন্দু মন্দির ছিল!
পরবর্তীতে পি এন ওক 'ইনস্টিটিউট ফর রিরাইটিং ইন্ডিয়ান হিস্ট্রি' নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল ভারতের ইতিহাসকে এমনভাবে নতুন করে লেখা, যেখানে হিন্দু পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পকলার ইতিহাসবিদ ক্যাথরিন বি অ্যাশার ২০০৯ সালে এক নিবন্ধে লিখেছিলেন, 'ওকের যুক্তিগুলো সাধারণ মানুষের কাছে আকর্ষণীয় মনে হতে পারে, কিন্তু প্রকৃত গবেষকদের কাছে এর কোনো ভিত্তি নেই। সমস্যা হলো, সাধারণ মানুষের ঐতিহাসিক জ্ঞান সীমিত। তাই চটকদার ভাষায় সাজানো এমন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব তারা সহজেই বিশ্বাস করে ফেলে।'
তাজমহলের পরিচয় বদলে এটিকে ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে ঘোষণার জন্য ভারতের আদালতে বারবার আইনি লড়াই চালানো হয়েছে। আইনজীবী হরি শঙ্কর জৈন এবং ক্ষমতাসীন দল বিজেপির অনেক সদস্যই এসব আইনি চ্যালেঞ্জের পেছনে বড় ভূমিকা রেখে চলেছেন।
তবে তাজমহলের পরিচয় নিয়ে করা কোনো দাবিই ভারতের আদালতে এখন পর্যন্ত ধোপে টেকেনি। ২০২২ সালে তাজমহলের প্রকৃত ইতিহাস ও উৎস অনুসন্ধানে একটি 'ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং' কমিশন গঠনের আবেদন জানানো হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট সেই মামলাটি সরাসরি খারিজ করে দেন। এর দুই বছর পর, তাজমহলকে কেবল একটি ইসলামিক ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে বিবেচনার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আরেকটি আবেদনও খারিজ করে দেন আদালত।
ভারতে ইতিহাস নতুন করে লেখার বা পরিবর্তনের চেষ্টার পরিণতি এর আগেও রক্তক্ষয়ী হয়েছে। ১৯৯২ সালে উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় কয়েক শ বছরের পুরনো বাবরি মসজিদ গুঁড়িয়ে দিয়েছিল বিজেপি-সংশ্লিষ্ট একদল উন্মত্ত জনতা। তাদের দাবি ছিল, ভগবান রামের জন্মস্থানে ওই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সেই ঘটনার জেরে ভারতে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে, যাতে প্রাণ হারান দুই হাজারেরও বেশি মানুষ।
দাঙ্গার সেই সময়ে নরেন্দ্র মোদি ছিলেন বিজেপির একজন উদীয়মান নেতা। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ২০২৪ সালে সেই বিতর্কিত স্থানেই একটি বিশাল হিন্দু মন্দির উদ্বোধন করেন বর্তমানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি।
দিল্লি থেকে প্রায় ১২০ মাইল দূরে আগ্রায় অবস্থিত এই অমর কীর্তি। ইউনেস্কো ঘোষিত 'ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট' হিসেবে তাজমহল বিশেষ আইনি সুরক্ষা পায়। তাই ধারণা করা হচ্ছে, বাবরি মসজিদের মতো কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতি তাজমহলের ক্ষেত্রে ঘটা সম্ভব নয়। তবে তাজমহলের মালিকানা ও ইতিহাস নিয়ে যে বিতর্ক উসকে দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে চিন্তিত ইতিহাসবিদরা।
ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ (এএসআই), যারা দেশটির ঐতিহাসিক স্থাপত্যগুলোর দেখাশোনা করে, তারা বরাবরই এসব ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নাকচ করার চেষ্টা করেছে। ২০২২ সালে সংস্থাটি তাজমহলের সেই 'গোপন' কক্ষগুলোর কিছু ছবি প্রকাশ করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল এটি প্রমাণ করা যে, কক্ষগুলোতে বিশেষ কোনো রহস্য লুকিয়ে নেই।
কিন্তু ফল হয় উল্টো; অনেকে একে 'সত্য গোপনের চেষ্টা' হিসেবে আখ্যা দিয়ে সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দেন। রহস্যজনকভাবে এএসআই পরে তাদের ওয়েবসাইট থেকে সেই ছবিগুলো সরিয়ে ফেলে। কেন সেগুলো সরানো হলো, তার কোনো সদুত্তর সংস্থাটি দেয়নি।
