‘বাস বন্ধ, ট্রেনের টিকিট নাই’
পরিবহন ধর্মঘটে চলাচল বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন খুলনার যাত্রীরা। অনেকেই ঢাকায় যাওয়ার ট্রেনের টিকেট না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। রেল কর্মকর্তারা বলছেন, যাত্রীদের চাপে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
জরুরি প্রয়োজনে যাদের খুলনা থেকে ঢাকা যাওয়ার কথা তারা সকালে নগরীর সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালে গিয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। বাস বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার্থী ও সরকারি চাকরিপ্রার্থীরা। হঠাৎ পরিবহন ধর্মঘটে ক্ষুব্ধ তারা।
শরিফুল ইসলাম নামে ঢাকার একজন যাত্রী বলেন, "জরুরি কাজে আজ (শুক্রবার) সকালে ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল; কিন্তু বাস ধর্মঘটের কারণে আমাকে বাসায় ফিরে যেতে হচ্ছে।"
তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, "শুধু বাস-ট্রাকের মালিকদের দোষ দিয়ে কী হবে? ডিজেল, পেট্রোল, গ্যাসের দাম বাড়ালে তার সব ভার পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে দাবি আদায় করা ঠিক নয়।"
বাস বন্ধ থাকায় রেলস্টেশনে টিকিটের জন্য এসেছেন নগরীর টুটপাড়ার মইনুল আলম। তিনি বলেন, "ঢাকা যাওয়ার জন্য বের হয়ে দেখি বাস বন্ধ। রেলস্টেশনে এলাম টিকিটের জন্য। কিন্তু দীর্ঘ অপেক্ষার পর জানতে পারি টিকিট নেই।"
খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালে ও রয়্যালের মোড়ে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দূরপাল্লার চলাচলকারী বাসগুলো সারিবদ্ধভাবে রাখা। অনেক মানুষ এসে বাস চলাচল সম্পর্কে খোঁজখবর নিলেও কাউন্টারে কেউ না থাকায় বাস চলাচল কখন শুরু হবে, কেউ তা বলতে পারেন নি।
খুলনা-পাইকগাছা রুটের বাসচালক মো. ফারুক হোসেন জানান, পাইকগাছা থেকে তিনি বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) সকালে খুলনায় এসেছেন। এখনও ফিরতে পারেননি। সে দিনের খোরাক বাবদ মাত্র ২০০ টাকা পেয়েছেন তিনি। এর মধ্যে চার বেলা খেয়েছেন; তাও এক বেলার খাবার বাকিতে খেয়েছেন। বর্তমান ভাড়ায় ১ হাজার ৯৫০ টাকার তেল নিলে তিনি পাইকগাছা থেকে যেতে ও আসতে পারতেন। এখন আসা-যাওয়া করতে তার ২ হাজার ৬০০ টাকার তেল লাগবে। গাড়িভাড়া বাড়িয়ে দিলে এ সমস্যার সৃষ্টি হতো না বলে জানান ফারুক।
মদিনা পরিবহনের চালক যুবায়ের জানান, তেলের দাম বৃদ্ধি করা হলেও পরিবহন ভাড়া বাড়ায়নি সরকার। বৃহস্পতিবার অনেক যাত্রীর সঙ্গে এ নিয়ে তার বাকবিতণ্ডা হয়েছে।
তিনি বলেন, "ভাড়া যা আছে সেটা নিয়ে রওনা হলে তেলের টাকা উঠবে না। কম টাকা দিলে পরিবহন মালিকেরা তা নেবে না। আমরা বেতন পাব না। বেতন না পেলে আমাদের সংসার চলবে কি করে?"
খুলনা জেলা বাস-মিনিবাস কোচ মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন সোনা বলেন, কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এ ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।
খুলনা রেলওয়ের সহকারী স্টেশন মাস্টার আশিক আহমেদ বলেন, "হঠাৎ করে ট্রেনে যাত্রীর চাপ বেড়েছে। অতিরিক্ত যাত্রী সামাল দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।"
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকায় গত বুধবার বাংলাদেশে ডিজেল ও কেরোসিন লিটার প্রতি ১৫ টাকা করে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
এর প্রতিবাদে শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে দেশব্যাপী অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেয় গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহন মালিকরা।
