চট্টগ্রামে করোনা পরীক্ষার কিট আসা নিয়ে অনিশ্চিয়তা
চট্টগ্রামে করোনা শনাক্তের পরীক্ষা গত রোববার থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখনো কিট এসে পৌঁছায়নি। ফলে কখন পরীক্ষা শুরু হবে সেটি নিয়ে অনিশ্চিয়তা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার সিভিল সার্জন, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ও বিআইটিআইডি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কখন কিট আসবে সেটি বলতে পারেনি।
এদিকে চট্টগ্রামে কিট না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সেবাপ্রার্থীরা। তারা বলছেন, সমন্বয়হীনতার কারণে কিট আসছে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও চট্টগ্রামের অনেক বাসিন্দা এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
সচেতন নাগরিক কমিটি চট্টগ্রাম নগরের সভাপতি অ্যাডভোকেট আকতার কবির চৌধুরী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিশেষজ্ঞরা করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে পরীক্ষা করানোর ওপর জোর দিলেও চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা এখনো উদাসীন। প্রথমে সিভিল সার্জন বলেছেন রোববার থেকে পরীক্ষা শুরু হবে। পরে বিআইটিআইডি কর্তৃপক্ষ বলে মঙ্গলবার থেকে শুরু হবে। কিন্তু এখনো চট্টগ্রামে কিট এসে পৌঁছায়নি।
তিনি আরও বলেন, গতকাল ঢাকায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক দেশে এক লাখ কিট মজুদ আছে বলে ঘোষণাও দিয়েছেন। কিন্তু চট্টগ্রামের কর্মকর্তারা কিট আনতে পারছেন না। এমন দুর্যোগের সময় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এ ধরনের সমন্বয়হীনতা মেনে নেওয়া যায় না।
একটি বেসরকারি ইস্পাত তৈরি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী সূর্য দাশ বলেন, চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগ পুরোটাই সমন্বয়নহীন। তারা ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) ছাড়া করোনা রোগীর চিকিৎসা করতে বসে আছে। গত ১০দিন আগে দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এতদিন অতিবাহিত হওয়ার পরেও বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে এখনো কিট আসেনি।
চট্টগ্রামের রোগীদের করোনা পরীক্ষা করা হবে ফৌজদারহাট বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে। ইতোমধ্যে বিআইটিআইডির তিন কর্মকর্তা ঢাকার জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইডিসিআর) থেকে দুইদিনের প্রশিক্ষণ নিয়ে চট্টগ্রাম ফিরেছেন। সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছিল, প্রশিক্ষণ শেষে এসব কর্মকর্তাদের সঙ্গে চট্টগ্রামে কিট আসবে। কিন্তু এসব কর্মকর্তা সোমবার ফিরে আসলেও কিট আসেনি।
কেন কিট আসছে না- জানতে চাইলে সিভিল ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে তারা যে ল্যাবে পরীক্ষা করা হবে, সেটি দেখবে। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের একটি প্রতিনিধিদল বিআইটিআইডি পরিদর্শন করবে। এরপর সেখানকার বায়োসেফটি ল্যাবটির করোনা পরীক্ষার সক্ষমতা আছে কি না, সেটি যাচাই করবে। প্রতিনিধি দল ঢাকায় ফিরে প্রতিবেদন দিলে তারপর কিট আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিআইটিআইডি হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ও ফোকাল পারসন ডা. মামুনুর রশীদ বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের তিনজন কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ফিরেছেন। তাদের সঙ্গে কিট প্রেরণের কথা থাকলেও এখনো আসেনি। কখন আসবে সেটি আমরা জানি না।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামে এখনো কোনো করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়নি। ইতোমধ্যে ৯৭৩ জনকে হোম কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে। ১৫০ শয্যার আইসোলেশন বেড প্রস্তুত করা হলেও সেখানে কোনো আইসিইউ বেড নেই।
