ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলীখেলার ১১৭তম আসর ২৫ এপ্রিল, অংশ নিচ্ছেন ১০৮ বলী
চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে আগামী ২৫ এপ্রিল (১২ বৈশাখ) অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের বলীখেলার ১১৭তম আসর। এবারের আসরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মোট ১০৮ জন বলী অংশ নিবেন।
বুধবার (২২ এপ্রিল) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) লাইব্রেরি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, বলিখেলা আয়োজন কমিটি ২০২৬- এর সভাপতি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক শওকত আনোয়ার বাদলসহ আয়োজক কমিটির নেতৃবৃন্দ।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বলীখেলায় প্রথম রাউন্ড থেকেই পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রথম ধাপে লড়াইয়ে জয়ী ৫০ জন বলীকে পুরস্কৃত করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে সেরা বলীদের মধ্য থেকে চূড়ান্তভাবে বিজয়ী শীর্ষ ৪ জনকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান দেওয়া হবে।
বিজয়ীদের জন্য থাকছে ক্রেস্ট, শুভেচ্ছা সনদ (সার্টিফিকেট) এবং নগদ অর্থ পুরস্কার (প্রাইজ মানি)।
আয়োজকরা জানান, বলীখেলা ও মেলা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ে মাঠজুড়ে সিসিটিভি নজরদারি, ওয়াচ টাওয়ার, ড্রোন পর্যবেক্ষণ, সোয়াট ও বোম ডিসপোজাল ইউনিটসহ বিশেষ টিম মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য মেডিকেল টিম ও ফায়ার সার্ভিস প্রস্তুত রাখা হবে।
এবারের বলীখেলার পৃষ্ঠপোষক হিসেবে থাকছে মোবাইল অপারেটর বাংলালিংক। খেলার উদ্বোধন করবেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।
খেলা শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।
এদিকে, বলীখেলাকে ঘিরে ২৪ ও ২৫ এপ্রিল দুই দিনব্যাপী বৈশাখী মেলারও আয়োজন করা হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও মেলায় দেশজুড়ে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উদ্যোক্তারা অংশ নিচ্ছেন। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে পুরো লালদীঘি এলাকা উৎসবমুখর হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এসএসসি পরীক্ষার কারণে এবারের বৈশাখী মেলার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২৬ এপ্রিল রোববার সকালে পরীক্ষা থাকায় এদিন ভোরেই মেলা শেষ করা হবে। পাশাপাশি প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং সড়কে কোনো দোকান না বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
১৯০৯ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে মরহুম আবদুল জব্বার সওদাগর এই বলীখেলার সূচনা করেন। সেই ধারাবাহিকতায় এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে এটি চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান লোকজ ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এই আয়োজন শুধু ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং একটি বৃহৎ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসবে রূপ নিয়েছে।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, জব্বারের বলীখেলা চট্টগ্রামের মানুষের আবেগের জায়গা। প্রতি বছরই এটি হাজারো মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়। এবারের আয়োজনও সফল করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তারা।
