ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা: আজ রাতে ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারেন আরাগচি
পশ্চিমতীরের অবৈধ বসতির পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে ইতালি
অধিকৃত পশ্চিমতীরের অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে ইতালি। তবে দেশটির পক্ষ থেকে ইসরায়েলের ওপর ঢালাও বা ব্যাপক কোনো নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
ইতালির উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি জানিয়েছেন, রোম তার ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে কিছু নির্দিষ্ট বা লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বিবেচনা করছে।
ইতালীয় সংবাদ সংস্থা এএনএসএ-এর বরাত দিয়ে তিনি এক সিনেট অধিবেশনে বলেন, "পশ্চিমতীরের পরিস্থিতি ভালো যাচ্ছে না; এর পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন এবং আমরা এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে বলেছি।"
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, "বসতি স্থাপনের নীতি অবশ্যই বন্ধ হতে হবে, ঠিক যেভাবে চরমপন্থী বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতাও বন্ধ হওয়া উচিত।"
তাজানি জানান, অধিকৃত পশ্চিমতীরে উৎপাদিত পণ্যের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি ইতালি 'ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন' করছে। এই পদক্ষেপকে তিনি বসতি স্থাপনকারী নেটওয়ার্কগুলোর অর্থায়নের পথ বন্ধ করার একটি উপায় হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
সিনেটকে অবহিত করে তিনি বলেন, "আমি এই কক্ষকে জানাতে চাই যে, কিছু ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে মিলে আমরা অধিকৃত পশ্চিমতীরে উৎপাদিত পণ্য আমদানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপের সম্ভাবনাকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করছি। এটি এমন একটি পদক্ষেপ যা চরমপন্থী বসতি স্থাপনকারী নেটওয়ার্কগুলোর অর্থায়নের উৎসগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে।"
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ইসরায়েলের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত করার একটি প্রস্তাব ঠেকাতে সহায়তা করেছিল ইতালি। দেশটির যুক্তি ছিল, ব্যাপক কোনো ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের ওপর অন্যায্য প্রভাব ফেলবে এবং যেকোনো পদক্ষেপ অবশ্যই সুনির্দিষ্ট ও লক্ষ্যভিত্তিক হওয়া উচিত।
আলোচনা চললেও ইরানের ওপর থেকে এখনই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নয়: ইইউ
চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা এখনও 'অপরিণত' বলে মনে করছেন ইউরোপীয় নেতারা।
সাইপ্রাসে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা বলেন, এখনই বিধি-নিষেধ শিথিল করার বিষয়ে আলোচনা করাটা হবে 'অপরিণত'।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েনও একই অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তার এই মন্তব্যের মাধ্যমে ব্রাসেলসের পক্ষ থেকে একটি সতর্ক অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
তবে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জ জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যদি একটি পূর্ণাঙ্গ বা ব্যাপকভিত্তিক সমঝোতা অর্জিত হয়, তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা পর্যায়ক্রমে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন।
ইরানের দিকে যাতায়াতকারী ৩৪ জাহাজকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে: সেন্টকম
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত ১৩ এপ্রিল হরমুজ প্রণালীর জলসীমায় টহল শুরু করার পর থেকে এ পর্যন্ত ৩৪টি জাহাজকে ভিন্ন পথে ঘুরিয়ে দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
সেন্টকমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে এই কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।
এর আগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছিলেন, ইরান সংশ্লিষ্ট বা ইরানের পথে যাতায়াতকারী সকল জাহাজকেই পথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হচ্ছে।
ইরানের সঙ্গে আস্থা ফেরাতে 'কয়েক যুগ' সময় লাগবে: সংযুক্ত আরব আমিরাত
ইরানের সঙ্গে পুনরায় আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্য সম্পর্ক তৈরি করতে 'কয়েক যুগ' সময় লেগে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ। যুদ্ধ চলাকালীন ইরান যেভাবে বারবার আমিরাতকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, তার প্রেক্ষিতেই এই কঠোর মন্তব্য করেন তিনি।
প্যারিসের নিকটবর্তী চ্যান্টিলি শহরে আয়োজিত 'ওয়ার্ল্ড পলিসি কনফারেন্স'-এ গারগাশ বলেন, 'আপনি যখন ২৮০০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার শিকার হবেন, তখন হুট করে আস্থার কথা বলা সম্ভব নয়। এই বিশ্বাস পুনরায় গড়ে তুলতে দীর্ঘ সময় অথবা কয়েক যুগ সময় লাগবে।'
আনোয়ার গারগাশ আরও ইঙ্গিত দেন যে, যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং আমিরাতের ওপর সরাসরি হামলার ক্ষত কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে।
আজ রাতে ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারেন আরাগচি
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্থবির হয়ে পড়া শান্তি আলোচনা পাকিস্তানে পুনরায় শুরু হতে পারে। তিনটি পাকিস্তানি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এই আলোচনায় অংশ নিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার রাতে ইসলামাবাদ পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
পাকিস্তানি সরকারের দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য এই আলোচনার প্রস্তুতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি লজিস্টিক ও নিরাপত্তা দল ইতোমধ্যে পাকিস্তানে অবস্থান করছে। তবে এই প্রতিবেদনের বিষয়ে ওয়াশিংটন বা তেহরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত মঙ্গলবার এই শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়নি। সে সময় ইরান জানিয়েছিল, তারা এখনই আলোচনায় বসতে পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। অন্যদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলটি তখন ওয়াশিংটন ত্যাগ করেনি।
সূত্র: রয়টার্স
হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্থবির: ২৪ ঘণ্টায় পার হয়েছে মাত্র ৫টি জাহাজ
পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। শিপিং ডেটা বা জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় এই প্রণালী দিয়ে মাত্র পাঁচটি জাহাজ পার হয়েছে। এর মধ্যে ইরানের একটি জ্বালানি তেলবাহী ট্যাঙ্কারও রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারির শেষে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত। বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চললেও জাহাজ চলাচলের এই সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় নগণ্য।
শিপিং অ্যাসোসিয়েশন বিমকো-এর প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা ইয়াকুব লারসেন বলেন, "অধিকাংশ শিপিং কোম্পানির জন্য এখন একটি স্থিতিশীল যুদ্ধবিরতি এবং সংঘাতের দুই পক্ষের কাছ থেকেই হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা প্রয়োজন।"
তিনি আরও যোগ করেন, "নিরাপত্তার খাতিরে বর্তমানে জাহাজগুলোকে কেবল ইরান ও ওমানের উপকূলীয় রুট ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হচ্ছে। তবে রুটগুলো অত্যন্ত সংকীর্ণ হওয়ায় এখান দিয়ে হরমুজ প্রণালীর স্বাভাবিক হারের বিপুল সংখ্যক জাহাজ চলাচল করা সম্ভব নয়।"
মেরিনট্রাফিক প্ল্যাটফর্মের ট্র্যাকিং ডেটা এবং কেপলারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ইরানি পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাঙ্কার 'নিকি' কোনো গন্তব্য উল্লেখ না করেই এই প্রণালীটি পার হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
পাক কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনালাপ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর, যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলাপ
পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহম্মদ ইসহাক দার এবং পাক সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
ইরানের আধাসরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, এই ফোনালাপে 'আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়' নিয়ে আলোচনা হয়েছে এই কর্মকর্তাদের মধ্যে।
আলাদা একটি ফোনালাপে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট নিচেরভান বারজানির সঙ্গেও আরাগচি কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে 'তাসনিম'। সেখানেও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়েই আলোচনা হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
আমেরিকার আটক করা ইরানি জাহাজ 'উপহার' নয়: চীন
মার্কিন সেনার হাতে আটক হওয়া ইরানের পতাকাবাহী কার্গো জাহাজটি 'চীনের উপহার' বলে দাবি করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার সেই দাবি নাকচ করে দিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বেইজিং বলেছে, ট্রাম্পের এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন সাংবাদিকদের বলেন, বিভিন্ন দেশের মধ্যে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক আদানপ্রদান অব্যাহত থাকা উচিত।
এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ জারি রেখেছে আমেরিকা। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলেও তারা বাধা সৃষ্টি করেছে। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে প্রণালিটি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজ আটক করার পাশাপাশি গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছে তেহরান।
উপসাগরের সঙ্গে ভারত মহাসাগরের সংযোগকারী এই নৌপথটি কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথেই পরিবহন করা হয়।
সূত্র: আল জাজিরা
ইরানের সঙ্গে সেরা চুক্তি করতে চাই, 'তাড়াহুড়ো' করব না: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধের অবসান টানার জন্য তার ওপর কোনো চাপ নেই। ইরানের সঙ্গে সেরা চুক্তিটিই করতে চান তিনি।
ট্রাম্পের দাবি, হরমুজ প্রণালির ওপর আমেরিকার এখন 'পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ' রয়েছে। ইরান চুক্তি করলেই কেবল এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ খুলে দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধবিরতি চলাকালীন তেল বিক্রি করে ইরান কোটি কোটি ডলার মুনাফা করুক, এমনটা তিনি চান না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, 'যতক্ষণ না তারা এই বিষয়টি মিটিয়ে ফেলছে, আমি চাই না তারা দিনে ৫০০ মিলিয়ন ডলার মুনাফা করুক। নৌপথটি আমিই বন্ধ রেখেছি। তারা যদি চুক্তি না করতে চায়, তাহলে সামরিকভাবেই আমি এই যুদ্ধের ফয়সালা করব।'
তিনি আরও বলেন, 'আমি তাড়াহুড়ো করতে চাই না।'
দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তির জন্য তিনি ঠিক কত দিন অপেক্ষা করতে রাজি—এমন প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, 'আমাকে তাড়া দেবেন না। আমি সেরা চুক্তি করতে চাই...এমন একটি চুক্তি, যা স্থায়ী হবে।''
ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এই মুহূর্তে তার কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ, প্রচলিত অস্ত্র দিয়েই ইরানকে কার্যত 'ধ্বংস' করে দিয়েছে আমেরিকা।
হোয়াইট হাউসে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, 'না, আমি এটা (পারমাণবিক অস্ত্র) ব্যবহার করব না। বিশ্বে কারোরই কখনও পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করা উচিত নয়।'
সূত্র: বিবিসি; রয়টার্স
রাশিয়াসহ 'বন্ধুপ্রতিম' দেশগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালিতে ট্রানজিট ফি মওকুফ করল ইরান
হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের ক্ষেত্রে রাশিয়াসহ অন্যান্য 'বন্ধুপ্রতিম' দেশগুলোর জন্য ট্রানজিট ফি মওকুফ করেছে ইরান। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা রিয়া নভোস্তি এই তথ্য জানিয়েছে।
সংবাদ সংস্থাটিকে মস্কোয় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি বলেন, 'কয়েকটি দেশের জন্য আমরা ছাড় দিয়েছি। তবে ভবিষ্যতে কী হবে, তা এখনই বলতে পারছি না।'
তিনি আরও বলেন, 'বর্তমানে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিত্র দেশগুলোর জন্য নির্ধারিত এই অব্যাহতি কার্যকর করার চেষ্টা করছে। যেমন ধরা যাক, রাশিয়া।'
ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের মাঝেই ওই প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর টোল বসানোর পরিকল্পনা করেছে তেহরান।
সূত্র: আল জাজিরা
ইরান যুদ্ধে ফুরিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের দামি অস্ত্র, চীন-রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাত বাধলে পড়তে পারে অপ্রস্তুত অবস্থায়
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১ হাজার ১০০ দূরপাল্লার স্টেলথ ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করেছে। চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল এসব মিসাইল। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারে থাকা এই মিসাইলের মজুত এখন প্রায় ফুরানোর পথে।
এছাড়া দেশটির সামরিক বাহিনী ১ হাজারের বেশি টমাহক ক্রুজ মিসাইল ছুড়েছে, যা প্রতি বছর এই মিসাইল কেনার পরিমাণের প্রায় ১০ গুণ।
এ যুদ্ধে ১ হাজার ২০০টির বেশি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইল (প্রতিটির দাম ৪০ লাখ ডলারের বেশি) এবং ১ হাজারের বেশি 'প্রিসিশন স্ট্রাইক' ও 'গ্রাউন্ড বেসড' মিসাইল ব্যবহার করেছে পেন্টাগন। ফলে মার্কিন অস্ত্রভান্ডারে আশঙ্কাজনক ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
তাই এশিয়া ও ইউরোপ থেকে তড়িঘড়ি করে মধ্যপ্রাচ্যে বোমা, মিসাইল ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম পাঠাতে বাধ্য হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে রাশিয়া ও চীনের মতো শত্রুদের মোকাবিলায় ওই অঞ্চলগুলোতে মার্কিন বাহিনীর প্রস্তুতি দুর্বল হয়ে পড়েছে। ঘাটতি পূরণে এখন উৎপাদন বাড়ানোর উপায় খুঁজছে দেশটি।
এই যুদ্ধ দামি মিসাইল ও গোলাবারুদের (বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে) ওপর পেন্টাগনের অতিমাত্রায় নির্ভরতার বিষয়টিকেও সামনে এনেছে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা শিল্প কত দ্রুত সস্তা অস্ত্র—বিশেষ করে আক্রমণকারী ড্রোন—তৈরি করতে পারবে, তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস
ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি আরও তিন সপ্তাহ বাড়বে: ট্রাম্প
ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বাড়ানো হবে। বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে ইসরায়েলি ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ কথা জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র মূলত দুটি কারণে এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে চাইছে। প্রথমত, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়া। দ্বিতীয়ত, লেবাননে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তির চেষ্টা বাধাগ্রস্ত হতে পারে—এমন আশঙ্কা দূর করা।
গত সপ্তাহে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এর পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়েও কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র।
পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ইসরায়েলি ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতদের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। এটি ছিল এই দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনা।
তবে বৈঠক শুরুর মাত্র তিন ঘণ্টা আগে স্থান পরিবর্তন করে হোয়াইট হাউসে নেওয়া হয় এবং জানানো হয় যে খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এতে যোগ দেবেন।
বৈঠকে ট্রাম্প ও রুবিও ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি এবং লেবাননে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসা।
বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ট্রাম্প লেখেন, 'বৈঠকটি খুব ভালো হয়েছে। হিজবুল্লাহর হাত থেকে লেবাননকে রক্ষা করতে সাহায্য করবে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি আরও তিন সপ্তাহের জন্য বাড়ানো হবে।'
পরে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, খুব শীঘ্রই হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে বৈঠক করার অপেক্ষায় আছেন তিনি। বর্ধিত তিন সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চলাকালীনই এ বৈঠক হতে পারে।
সূত্র: অ্যাক্সিওস
হরমুজে আরও মাইন পেতেছে ইরান: অ্যাক্সিওস
ইরানের ইসলামিক রিভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনী চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে আরও মাইন পেতেছে বলে জানিয়েছেন একজন মার্কিন কর্মকর্তা এবং এ বিষয়ে অবগত একটি সূত্র।
বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথে সামরিক অচলাবস্থা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে; যেখানে একদিকে ইরান মাইন স্থাপন ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালাচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তার নৌ-অবরোধ আরও কঠোর করছে।
নতুন এই পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল-এ মার্কিন নৌবাহিনীকে নির্দেশ দেন—কোনো ইরানি নৌযানকে মাইন স্থাপন করতে দেখা গেলে যেন কোনো দ্বিধা ছাড়াই সেটিকে 'গুলি ও ধ্বংস' করা হয়।
যুদ্ধ শুরুর পর দ্বিতীয়বারের মতো ইরান এই প্রণালিতে মাইন পাতল। প্রথম দফায় পাতা সব মাইন শনাক্ত ও অপসারণ করা হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের এই মাইন পাতা কার্যক্রম শনাক্ত করেছে এবং তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের বসানো মাইনের সংখ্যা জানলেও তা প্রকাশ করতে অস্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্যের ওপর হোয়াইট হাউসও কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার মার্কিন বিমানবাহী রণতরি 'ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ' এবং এর দায়িত্বে থাকা স্ট্রাইক গ্রুপ মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ওই এলাকায় পৌঁছেছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নৌবাহিনী বর্তমানে মাইন পরিষ্কারের জন্য হরমুজ প্রণালি তে 'আন্ডারওয়াটার ড্রোন' পরিচালনা করছে।
সূত্র: অ্যাক্সিওস
