মার্কিন প্রতিনিধিদলের পাকিস্তান সফর বাতিল করেছেন ট্রাম্প; ইসলামাবাদ সফর ছিল ‘খুবই ফলপ্রসূ’: আরাঘচি
ওমানে পৌঁছেছেন আরাঘচি
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইসলামাবাদ সফর শেষে ওমানে পৌঁছেছেন। এক্সে এক পোস্টে তিনি জানান, পাকিস্তান সফর ছিল "খুবই ফলপ্রসূ"। তিনি আরও বলেন, অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পাকিস্তানের "ভ্রাতৃত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা" ইরান গভীরভাবে মূল্যায়ন করে।
তিনি একই সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সংঘাত সমাধানে ওয়াশিংটনের আন্তরিকতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।
"কূটনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই কতটা আন্তরিক—তা এখনও দেখার বাকি,"—লিখেছেন আরাঘচি।
মার্কিন প্রতিনিধিদলের পাকিস্তান সফর বাতিল করলেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যুদ্ধ নিয়ে আলোচনার জন্য পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল পাঠানোর সফর তিনি বাতিল করেছেন।
মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে রয়টার্স।
ট্রাম্প বলেছেন, স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার পাকিস্তানের রাজধানীতে যাচ্ছেন না। তবে তাদের এই সফর বাতিল করার অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পুনরায় শুরু করবে।
ট্রাম্প ইরানকে উদ্দেশ্য করে এও বলেছেন, "তারা যখন খুশি আমাদের ডাকতে পারে।"
মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই সফর বাতিলের বিষয়ে তার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে লিখেছেন, "আমি আমার প্রতিনিধিদের ইসলামাবাদে গিয়ে ইরানিদের সঙ্গে সাক্ষাতের সফর বাতিল করেছি। ভ্রমণে খুব বেশি সময় নষ্ট হচ্ছিল, আর কাজও অনেক বেশি!"
"তার ওপর, তাদের 'নেতৃত্ব'-এর মধ্যে ব্যাপক অন্তঃকলহ ও বিভ্রান্তি রয়েছে। কে দায়িত্বে আছে তা কেউই জানে না—তাদের নিজেদেরও না। এছাড়া, আমাদের হাতে সব তাস আছে, তাদের হাতে কিছুই নেই!"
এর আগে একাধিক সূত্র জানিয়েছিল, স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার লক্ষ্যে পাকিস্তানে যাচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তান একটি মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জ্যারেড কুশনারের এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
এর আগে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য এই আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক শান্তি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে।
পাকিস্তান ছেড়েছেন আরাঘচি
আব্বাস আরাঘচি শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছেন। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইরানি সূত্রগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পাকিস্তানের রাজধানীতে অবস্থানকালে আরাঘচি ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা এবং অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ মিত্রদের সঙ্গে পরামর্শ করেছেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় আরাঘচি ইসলামাবাদে পৌঁছান এবং পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনির। সেনাপ্রধান অসিম মুনির তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছেন।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার আবহে পাকিস্তানে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বর্তমানে ইসলামাবাদ সফর করছেন। সেখানে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি হলে হরমুজের মাইন অপসারণে অংশ নিতে পারে তুরস্ক
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণ অভিযানে অংশ নিতে পারে তুরস্ক। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এই সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন।
লন্ডনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ফিদান বলেন, বিভিন্ন দেশের সমন্বয়ে গঠিত একটি কারিগরি দল এই মাইন অপসারণের কাজ পরিচালনা করবে। এই ধরনের কোনো আন্তর্জাতিক উদ্যোগে অংশ নিতে তুরস্কের 'কোনো সমস্যা নেই' বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী একটি সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, যদি ভবিষ্যতে এই কারিগরি জোটটি কোনো নতুন সংঘাতের পক্ষ হয়ে দাঁড়ায়, তবে তুরস্ক এই অভিযানে অংশগ্রহণের বিষয়টি পুনর্মূল্যায়ন করবে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে হাকান ফিদান আশা প্রকাশ করেন যে, পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী দফার আলোচনায় এই সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর সমাধান হতে পারে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
'মুখ বাঁচিয়ে' যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে চায় যুক্তরাষ্ট্র: ইরান
ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমান যুদ্ধ থেকে 'মুখ বাঁচিয়ে' বেরিয়ে আসার উপায় খুঁজছে।
ইরানের বার্তা সংস্থা 'ইসনা'কে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, 'বর্তমানে আমাদের সামরিক শক্তি একটি প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আমাদের শত্রু (যুক্তরাষ্ট্র) এখন যে যুদ্ধের চোরাবালিতে আটকা পড়েছে, সেখান থেকে 'মুখ বাঁচিয়ে' পালানোর পথ খুঁজছে।'
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই
ইরান সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ৩৪৪ মিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি 'ফ্রিজ' করল যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর অংশ হিসেবে ৩৪৪ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি 'ফ্রিজ' বা লেনদেন স্থগিত করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিনিদের দাবি, এই অর্থ তেহরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
বিশ্ব অর্থনীতিতে যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব এবং আলোচনার ক্ষেত্রে অচলাবস্থার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপ নিল। তবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ফ্রিজ করার ফলে যুদ্ধ বা আলোচনার ক্ষেত্রে তেহরানের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট শুক্রবার জানান, তার দপ্তর ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু লেনদেন হিসাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, তেহরান মরিয়া হয়ে দেশের বাইরে অর্থ সরানোর যে চেষ্টা করছে, তার ওপর নজর রাখা হচ্ছে। ইরান সরকারের সঙ্গে যুক্ত সব ধরনের আর্থিক উৎস বা 'লাইফলাইন' বন্ধ করে দেওয়া হবে।
বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের মিশন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
ডিজিটাল মুদ্রা লেনদেনে সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান 'টেথার' বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, মার্কিন কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তারা দুটি অ্যাকাউন্টে থাকা ৩৪৪ মিলিয়ন ডলার ফ্রিজ করতে সহায়তা করেছে। অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
তবে টেথার অ্যাকাউন্টগুলোর সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সিএনএন স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
তথ্যসূত্র: সিএনএন
যুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার বড় অংশ ব্যবহারই করা হয়নি; ইরান
ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র (মিসাইল) সক্ষমতার একটি বড় অংশ এখনো ব্যবহার করা হয়নি। প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালাই-নিক বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে সাম্প্রতিক তীব্র সংঘাত সত্ত্বেও ইরান উচ্চপর্যায়ের প্রতিরক্ষামূলক এবং প্রতিশোধমূলক প্রস্তুতি বজায় রেখেছে। তিনি দাবি করেন, ইরানের পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা এখনও অক্ষত রয়েছে।
তালাই-নিক আরও জানান, ইরানের অস্ত্র উৎপাদন প্রক্রিয়া কোনো নির্দিষ্ট স্থানে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা সারা দেশে ছড়িয়ে আছে এবং হাজার হাজার কোম্পানি এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত। ফলে কোনো নির্দিষ্ট স্থাপনা বা কারখানায় হামলা চালিয়ে অস্ত্র উৎপাদন বন্ধ করা সম্ভব হবে না। দেশীয় প্রযুক্তিতে ইরান বর্তমানে ১ হাজারেরও বেশি ধরনের অস্ত্র উৎপাদন করছে।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় বসার পরিকল্পনা নেই ইরানের, 'সেতুবন্ধন' হিসেবে কাজ করবে পাকিস্তান
পাকিস্তানে অবস্থানরত ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনো বৈঠকে বসার পরিকল্পনা করছেন না। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে এই তথ্য জানিয়েছে।
আইআরআইবি-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাত নিরসনে ইরানের দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রস্তাবগুলো পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ইসলামাবাদ কেবল একটি 'সেতুবন্ধন' হিসেবে কাজ করতে পারে। অর্থাৎ, সরাসরি আলোচনার চেয়ে মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদানকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে তেহরান।
অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এর আগে জানানো হয়েছিল যে, তারা তাদের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারকে ইসলামাবাদে পাঠাচ্ছে। ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, ইরানিরাই মূলত 'সশরীরে' কথা বলতে চেয়েছে। দুই দেশের এমন বিপরীতমুখী বক্তব্যে এই বহুল আলোচিত বৈঠক নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গত শুক্রবার সন্ধ্যায় পাকিস্তানে পৌঁছেছেন। পাকিস্তানে অবস্থিত ইরান দূতাবাস জানিয়েছে, তার এই সফরের উদ্দেশ্য মূলত ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যকার 'দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলো পর্যালোচনা' করা।
এদিকে, এবিসি নিউজ পাকিস্তানের এক ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, চলতি সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি দল পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাদা আলাদা বৈঠকে বসবে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই আলোচনাগুলো যদি সফল হয়, তবে আগামী রবিবার মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা সরাসরি বৈঠকে বসতে পারেন।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
ইরান সরাসরি আলোচনায় আগ্রহী, দাবি যুক্তরাষ্ট্রের; অস্বীকার তেহরানের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়ে নমনীয়তার পরিচয় দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিত। তিনি দাবি করেন, তেহরান এখন সরাসরি আলোচনার ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের নেতৃত্বে একটি মার্কিন প্রতিনিধি দল শীঘ্রই ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা হতে পারে।
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগেই এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো বৈঠক বা আলোচনার পরিকল্পনা বর্তমানে নেই। তিনি জানান, ইরানের অবস্থান যা জানানোর, তা পাকিস্তানের মাধ্যমেই জানানো হবে।
মুখপাত্র ইসমাইল বাগেই নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বর্তমানে ইসলামাবাদে অবস্থান করছেন। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তিনি দেশটির সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই
আবারও যুদ্ধ শুরু করতে চায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র, ট্রাম্পের 'সবুজ সংকেতের' অপেক্ষা
পর্দার আড়ালে চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি বৈঠকের প্রচেষ্টা চললেও, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে পুনরায় যুদ্ধ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম 'কান' জানিয়েছে, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো ধরনের ছাড় দিতে রাজি হচ্ছে না। হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে পুনরায় যুদ্ধ শুরুর 'সবুজ সংকেত'-এর অপেক্ষায় আছে। ইতিমধ্যে ওয়াশিংটনকে দেওয়া এক বার্তায় ইসরায়েল বলেছে, 'আমরা ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান পুনরায় শুরু করতে আগ্রহী।'
একজন ইসরায়েলি সূত্র হিব্রু চ্যানেলকে জানিয়েছেন, 'আমরা সর্বোচ্চ সতর্কবস্থায় রয়েছি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছি।'
ইরানের বিষয়ে ইসরায়েল সরাসরি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনিকে হত্যার হুমকি দিয়েছে। ইসরায়েল খোলাখুলিভাবে জানিয়েছে যে, মুজতবা খামেনি সেই সব লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছেন যাদের ওপর হামলার জন্য তারা ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।
বিগত ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে নিজেদের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত এক স্কোয়াড্রন এফ/এ-১৮ যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছে। এছাড়া মোতায়েন করা হয়েছে আরও অধিক সংখ্যক জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান (রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফট)। সেই সাথে পুরো অঞ্চলজুড়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ইন্টারসেপ্টর মিসাইলগুলোকেও সুবিধাজনক অবস্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
আগামী দিনগুলোতে ঠিক কী হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের গত কয়েক দিনের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টগুলো জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। এদিকে সিএনএন জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলি ও লেবাননের প্রতিনিধিদের বৈঠকের পর গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প লেবাননে তিন সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তবে আলোচনার মধ্যেই ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েল একে অপরের ওপর হামলা চালিয়েছে।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর
শান্তি আলোচনার জন্য পাকিস্তানে যাচ্ছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত উইটকফ-কুশনার; সরাসরি আলোচনায় আগ্রহ নেই ইরানের
ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার শনিবার পাকিস্তানে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। সেখানে তারা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, 'ইরান আলোচনা করতে আগ্রহী।' তিনি আরও জানান, আলোচনা এগোলে পাকিস্তানে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগেই জানিয়েছেন, তিনি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার সন্ধ্যায় ইসলামাবাদ পৌঁছেছেন। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরসহ পাকিস্তানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন আরাগচি।
ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেও গত কয়েক দিনে কূটনৈতিক পর্যায়ে বিশেষ অগ্রগতি হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফের সামরিক পদক্ষেপের পথে হাঁটার আগে এই অচলাবস্থা কাটাতেই উইটকফ ও কুশনারের এই সফর।
তবে বাগেই বলেছেন, 'আমেরিকার প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই। ইরানের পর্যবেক্ষণগুলো পাকিস্তানকে জানিয়ে দেওয়া হবে।'
বাগেইয়ের এই মন্তব্যের আগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছিলেন, তেহরানের সামনে একটি 'ভালো চুক্তি' করার সুযোগ রয়েছে। তবে সেজন্য ইরানকে 'পারমাণবিক অস্ত্রের পথ পুরোপুরি ছাড়তে হবে এবং তা হতে হবে আন্তর্জাতিকভাবে যাচাইযোগ্য'।
এদিকে এক পাক কর্মকর্তা বলেছেন, আরাগচির সঙ্গে পাকিস্তানের শীর্ষ নেতাদের আলোচনার মূল লক্ষ্য হবে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে নতুন করে মধ্যস্থতা শুরু করা।
ওই পাক কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, 'আরাগচির সঙ্গে বৈঠকের পরেই আমেরিকার সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক আলোচনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।'
তবে আরাগচি ইসলামাবাদ থেকে মাসকাট ও তার পর মস্কো সফরে যাবেন। ফলে ঠিক কোন সময়ে তিনি মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
প্রথম দফার আলোচনায় মার্কিন দলের নেতৃত্বে থাকা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবার পাকিস্তান যাচ্ছেন না। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, আরাগচির সঙ্গে ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন না বলেই ভ্যান্সের এই সফর বাতিল হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাকিস্তানে আলোচনার অগ্রগতি হলে যেকোনো মুহূর্তে সেখানে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন ভ্যান্স। আপাতত তিনি ফোনে দলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবেন। ভ্যান্সের চিফ অভ স্টাফ ও দলের অন্য সদস্যরা উইটকফ ও কুশনারের সঙ্গেই পাকিস্তানে যাচ্ছেন।
এদিকে শুক্রবার ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের বলেন, ট্রাম্প মূলত ইরানের বক্তব্য শুনতেই উইটকফ ও কুশনারকে ইসলামাবাদে পাঠিয়েছেন।
তিনি আরও দাবি করেছেন, গত কয়েক দিনে ইরানের দিক থেকে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে।
অন্যদিকে ইসলামাবাদে ইরানি দূতাবাস বলেছে, আরাগচি মূলত দ্বিপাক্ষিক বিষয় ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন।
চলতি সপ্তাহেই ট্রাম্প ও হেগসেথ দাবি করেছিলেন, যুদ্ধ থামানোর জন্য আমেরিকার উপর কোনো চাপ নেই।
তবে হোয়াইট হাউসের এই সক্রিয়তা বলছে, প্রকাশ্যে প্রশাসনের কড়া অবস্থান এবং গোপনে যুদ্ধ থামানোর মরিয়া চেষ্টার মধ্যে যে ফারাক রয়েছে, এই বৈঠক তারই প্রমাণ।
তথ্যসূত্র: বিবিসি, অ্যাক্সিওস
