টার্গেট ইরান-চীনের ব্যবসা: তেল শোধনাগার ও জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানের সঙ্গে সমুদ্রপথে বাণিজ্য ঠেকাতে ৪০টি শিপিং ও জাহাজ কোম্পানি পাশাপাশি চীনের একটি তেল শোধনাগারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে আমেরিকার ট্রেজারি বিভাগ।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা অধিকাংশ জাহাজই চীন-সংশ্লিষ্ট অথবা এসব জাহাজের চূড়ান্ত গন্তব্য হিসেবে চীনে ক্রুড তেল সরবরাহের রেকর্ড রয়েছে।
সম্প্রতি চীনের একটি বন্দরে 'টুস্কা' নামে একটি জাহাজ জব্দ করার সপ্তাহখানেক পরই এই পদক্ষেপ নিল ওয়াশিংটন। আমেরিকার অভিযোগ, ওই জাহাজে রকেটের জ্বালানি তৈরির রাসায়নিক মজুত ছিল।
এ সপ্তাহেই ভারত মহাসাগর থেকে 'এমটি ম্যাজেস্টিক' ও 'এমটি টিফানি' নামে আরও দুটি জাহাজ আটক করেছে আমেরিকা। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ওই দু'টি জাহাজে প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল ইরানি ক্রুড তেল ছিল।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে জানান, আর্থিক অবরোধের মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়ে তাদের 'মধ্যপ্রাচ্যে আগ্রাসন ও পরমাণু কর্মসূচি ঠেকানোই' আমেরিকার লক্ষ্য।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের 'শ্যাডো ফ্লিটের' বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞাই আমেরিকার সবচেয়ে বড় ব্যবস্থা।
আগামী মাসেই বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা ট্রাম্পের। যুদ্ধের কারণে মার্চে মাসে এই সফর স্থগিত হয়ে গিয়েছিল।
এদিকে জাহাজ আটকের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েছে বেইজিং। আমেরিকার এই নিষেধাজ্ঞাকে আগেই অবৈধ বলে ঘোষণা দিয়েছে চীন। 'টুস্কা' জাহাজটিকে 'জোরপূর্বক আটকে রাখার' ঘটনারও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তারা।
তবে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা জাহাজগুলোর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেছে বেইজিং। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়ানকুন বলেন, 'আটক করা জাহাজটি একটি বিদেশি কনটেইনার জাহাজ। এর সঙ্গে চীনের নাম জড়ানো ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।'' তবে ওয়াশিংটনে চিনা দূতাবাস এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ইরানের অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। তেহরানের সামরিক সরঞ্জামের বড় অংশও সরবরাহ করে বেইজিং। আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান না থাকলেও বিশেষজ্ঞদের দাবি, যুদ্ধের আগে চীন প্রতিদিন ইরান থেকে প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল তেল আমদানি করত, যা তাদের মোট আমদানির প্রায় ১৩ শতাংশ।
এই বাণিজ্যিক লেনদেন চলে কয়েকশো ট্যাংকার, শেল কোম্পানি ও মধ্যস্থতাকারীদের একটি বিশাল 'ছায়া নেটওয়ার্কের' মাধ্যমে। মাঝসমুদ্রে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে পণ্য খালাস বা মালিকানা গোপন রাখার মতো কৌশলে নিষেধাজ্ঞার নজর এড়িয়ে চলে এই ব্যবসা। এই তেলের বড় অংশই পৌঁছায় চীনের 'টি-পট' শোধনাগারগুলোতে। এই ছোট ও স্বাধীন শোধনাগারগুলোই কম দামে ও গ্রে মার্কেট থেকে তেল কিনতে বেশি আগ্রহী থাকে।
আমেরিকার নতুন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে চীনের অন্যতম প্রধান টি-পট শোধনাগার হেনলি পেট্রোকেমিক্যাল (ডালিয়ান) রিফাইনারি কোং লিমিটেড। শুক্রবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ বলেছে, প্রতিষ্ঠানটি ইরান থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলারের পেট্রোলিয়াম কিনেছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে চীনের খুব অল্প সংখ্যক জাহাজই হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে। বেইজিং জানিয়েছে, তেহরানের সঙ্গে হওয়া চুক্তির ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ। তবে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ জারি করার পর চীনের সঙ্গে যুক্ত বেশ কিছু জাহাজ প্রণালিটি পার হওয়ার চেষ্টা ছেড়ে দিয়েছে। এদের মধ্যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা 'রিচ স্টারি'ও রয়েছে।
