জব্বারের বলীখেলায় বাঘা শরিফের টানা তৃতীয় শিরোপা, রানার আপ রাশেদ বলী
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বার স্মৃতি বলীখেলায় টানা তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন কুমিল্লার 'বাঘা শরীফ'। বলীখেলার ১১৭তম আসরের ফাইনালে তিনি তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী কুমিল্লার রাশেদ বলীকে হারিয়ে আবারও শিরোপা নিজের দখলে নিয়েছেন।
শনিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নগরীর লালদীঘি মাঠে অনুষ্ঠিত এই জমজমাট ফাইনালে শুরু থেকেই সমানতালে লড়াই করেন দুই প্রতিযোগী। প্রায় ২৫ মিনিটের টানটান উত্তেজনার লড়াইয়ে শেষ দিকে কৌশল বদলে এগিয়ে যান শরীফ।
একপর্যায়ে রাশেদকে ভারসাম্যহীন করে শক্ত একটি চাল দিয়ে মাটিতে ফেলেন তিনি। এরপরই রেফারির বাঁশিতে তার জয় নিশ্চিত হয়। ফাইনাল শেষে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হলে দর্শকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে লালদীঘি মাঠ।
টানা তৃতীয়বার শিরোপা জিতে নিজের আধিপত্য আরও দৃঢ় করা বাঘা শরীফ বিজয়ী হওয়ার পর প্রথমে সৃষ্টিকর্তার প্রতি শুকরিয়া জানান। পরে আয়োজক ও উপস্থিত দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চান তিনি।
খেলা শেষে বাঘা শরীফের হাতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি তুলে দেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। এর আগে দুপুরে এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম নগর পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।
সেমিফাইনাল ও অন্যান্য লড়াই
বেলা তিনটার দিকে খেলা শুরু হলে ঢোলের তালে তালে একে একে রিংয়ে ওঠেন প্রতিযোগীরা। এ বছর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ১০৮ জন বলী (কুস্তিগির) প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।
প্রথম পর্ব শেষে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠেন আটজন। পরে নকআউট পর্ব পেরিয়ে চারজন সেমিফাইনালে জায়গা করে নেন।
প্রথম সেমিফাইনালে মাত্র দেড় মিনিটে মিঠু বলীকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠেন রাশেদ। অন্য সেমিফাইনালে সাবেক চ্যাম্পিয়ন শাহজালাল বলীকে পরাজিত করে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেন বাঘা শরীফ।
এছাড়া তৃতীয় স্থান নির্ধারণী লড়াইয়ে ১৭ মিনিটের হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর জয় পান মিঠু বলী।
দর্শকের উপচে পড়া ভিড়
দুপুর গড়াতেই লালদীঘি এলাকা দর্শকের ভিড়ে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বৈশাখের তীব্র গরম উপেক্ষা করে হাজারো মানুষ মাঠ ও এর আশপাশে জড়ো হন।
কেউ গামছা বেঁধে, কেউ ছাতা হাতে, আবার কেউ গাছের ছায়ায় দাঁড়িয়ে খেলা উপভোগ করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের এই ভিড় কয়েক কিলোমিটারজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
বলীখেলার শতবর্ষী ইতিহাস
১৯০৯ সালে বদরপাতির ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগরের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই বলীখেলা এখন চট্টগ্রামের অন্যতম বড় সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে।
প্রতিবছর ১২ বৈশাখ লালদীঘি মাঠে বসা এই আয়োজনকে ঘিরে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে বিশাল বৈশাখী মেলা জমে ওঠে। শতবর্ষ পেরিয়েও এই বলীখেলা এখনও চট্টগ্রামের মানুষের আবেগ ও ঐতিহ্যের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে।
