রাউজানে গুলিতে নিহত যুবকের লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ
চট্টগ্রামের রাউজানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত কাউসারুজ্জামান বাবলুর লাশ নিয়ে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়ক অবরোধ করেছেন স্বজন ও স্থানীয় গ্রামবাসী।
শনিবার (২৬ এপ্রিল) বেলা সাড়ে তিনটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত উপজেলার চারাবটতল এলাকায় এ অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা।
নিহতের লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স সড়কের মাঝখানে দাঁড় করিয়ে এবং খাটিয়া রেখে পুরো সড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। এতে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
কর্মসূচিতে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ অংশ নেন। তারা খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
অবরোধকারীরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে রাউজানে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটলেও বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব সরকারকে নেওয়ার দাবি জানান তারা।
ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন রাউজান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক অংছিং মারমা। তিনি বলেন, 'এই মৃত্যু অনাকাঙ্ক্ষিত। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টির ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
রাউজান থানা পুলিশ জানায়, সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি।
অবরোধের সময় পরিবারের সদস্যরা জানান, নিহত কাউসারুজ্জামানের ওপর গত দুই বছরে একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব ঘটনার পেছনে কী ধরনের বিরোধ ছিল, তা স্পষ্ট করে জানাতে পারেননি স্বজনরা।
শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার জঙ্গল রাউজান বিএমও ব্রিক ফিল্ড এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে কাউসারুজ্জামান বাবলু (৩৫) নিহত হন। তিনি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ডালার মুখ এলাকার বাসিন্দা। পেশায় শ্রমিক ও কৃষিকাজের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে ইট-বালু সরবরাহের কাজ করতেন।
পরিবার ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, বাবলু নানার বাড়িতে দাওয়াতে অংশ নিতে গিয়ে ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন।
তার দুই মেয়ে। বড় মেয়ের বয়স প্রায় ১২ বছর এবং ছোট মেয়ের বয়স মাত্র দুই বছর। একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশাহারা।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম টিবিএসকে বলেন, 'ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে ইতোমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তিন থেকে চারজন দুর্বৃত্ত এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত ব্যক্তি বিভিন্ন বাহিনীর সোর্স হিসেবে কাজ করতেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি এবং জড়িতদের ধরতে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।'
এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট বাজারে দুর্বৃত্তদের গুলিতে মুহাম্মদ আবদুল মজিদ (৬০) নামে এক যুবদল কর্মী নিহত হন।
