চট্টগ্রামে বৈশাখী মেলায় বন্যপ্রাণী দিয়ে খেলা দেখানোর অভিযোগ; সাপ ও টিয়া পাখি উদ্ধার
চট্টগ্রামের হালিশহরের বড়পোল এলাকায় 'উৎসব' নামের একটি সুপার শপে আয়োজিত বৈশাখী মেলায় সাপ, বানর ও টিয়া পাখি প্রভৃতি বন্যপ্রাণী প্রদর্শনের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ ও বন্যপ্রাণী রেসকিউ টিম। অভিযানে তিনটি সাপ ও একটি টিয়া পাখি উদ্ধার করা হয়েছে।
বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০২৬ অনুযায়ী বন্যপ্রাণী দখলে রাখা ও প্রদর্শন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এর সর্বোচ্চ শাস্তি তিন বছরের কারাদণ্ড বা ৩ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড।
জানা যায়, মেলার বিষয়টি জানতে পেরে বন বিভাগের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও প্রকৃতি ব্যবস্থাপনা ডিভিশনের অনুরোধে এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পশ্চিম বিভাগের উপ-কমিশনার আলমগীর হোসেনের নির্দেশে বন্যপ্রাণী রেসকিউ টিমের সহায়তায় হালিশহর থানা পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।
অভিযানে গেলে সুপার শপ কর্তৃপক্ষের বাধার মুখে পড়ে পুলিশ। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে অভিযান চালায়। অভিযানে তিনটি সাপ ও একটি টিয়া পাখি উদ্ধার করা হলেও বানরটি সরিয়ে ফেলে কর্তৃপক্ষ।
অভিযানে অংশ নেওয়া রেসকিউ টিমের প্রধান ছিদ্দিকুর রহমান রাব্বি বলেন, 'আইন ভঙ্গ করে সুপার শপ কর্তৃপক্ষ গত দুইদিন ধরে বন্যপ্রাণী প্রদর্শন করে আসছিল। বন্যপ্রাণীগুলো উদ্ধার করতে গেলে তারা বাধা দেয় এবং ছিনতাইকারী আখ্যা দিয়ে হেনস্তা করে আটকে রাখার চেষ্টা করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিলে মেলা প্রাঙ্গণ থেকে প্রাণীগুলো উদ্ধার করা হয়।'
তিনি বলেন, 'উদ্ধার হওয়া সাপের মধ্যে একটি বিষধর পদ্ম গোখরো এবং দুটি নির্বিষ দাড়াস। এর মধ্যে একটি দাড়াস মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। টিয়া পাখিটির দুটি ডানা ভাঙা ছিল। উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলোকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হবে।'
হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রণব চৌধুরী বলেন, 'প্রথমে একটি মোবাইল টিম পাঠানো হলেও সদস্য কম থাকায় সুপার শপ কর্তৃপক্ষ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে তিনি নিজে গিয়ে অভিযান পরিচালনা করে প্রাণীগুলো উদ্ধার করেন।'
তিনি বলেন, 'সুপার শপ কর্তৃপক্ষ নতুন পাস হওয়া আইন সম্পর্কে অবগত ছিল না এবং বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছে। তবে বন বিভাগ চাইলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে।'
চট্টগ্রাম বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা দীপান্বিতা ভট্টাচার্য বলেন, 'পুরো টিম বাঁশখালী রেঞ্জে পরিদর্শনে থাকায় সিএমপি পশ্চিম বিভাগের উপ-কমিশনারকে অভিযান পরিচালনার অনুরোধ করা হয়। পাশাপাশি একটি স্বেচ্ছাসেবক রেসকিউ টিমও পাঠানো হয়।'
তিনি বলেন, 'আইনে বন্যপ্রাণী প্রদর্শন দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও সচেতনতা গড়ে ওঠেনি। অনেকেই না জেনে এমন কাজ করেন। তাই সব ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ করা সম্ভব হয় না। তবে অভিযানের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও প্রকৃতি ব্যবস্থাপনা বিভাগ।'
