চট্টগ্রাম সিটি কলেজে সংঘর্ষ: ছাত্রদল-শিবিরের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ও মামলার ঘোষণা
চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে দেয়াললিখনে 'গুপ্ত' শব্দ ব্যবহারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় বন্দরনগরীর রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এই সংঘাতের উত্তাপ জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে দেশের প্রধান পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। একসময় যুগপৎ আন্দোলন করা এই দুই ছাত্র সংগঠন এখন কার্যত একে অপরের মুখোমুখি অবস্থানে।
ঘটনার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি ও ছাত্রশিবির নেতা সাদিক কায়েম রাজধানী থেকে চট্টগ্রামে আসেন। তিনি প্রথমে নগরীর পার্কভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত নেতাকর্মীদের দেখতে যান।
হাসপাতালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাদিক কায়েম এই হামলার জন্য ছাত্রদলকে সরাসরি দায়ী করেন। তিনি বলেন, "এটা তো পরিষ্কার যে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা এই হামলার সঙ্গে জড়িত। যাঁরা হামলার সঙ্গে জড়িত, তাঁদের শনাক্ত করা হচ্ছে। আহতদের থেকে তথ্য নিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।" তিনি আরও মন্তব্য করেন যে ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার লক্ষ্যেই এই সহিংসতা সৃষ্টি করা হয়েছে।
পরে সিএমপি কমিশনারের সাথে দেখা করে হামলার ভিডিও ও ছবিসহ একটি অভিযোগপত্র জমা দেন সাদিক কায়েম। সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রশিবিরের ওপর হামলা করা হয়েছে এবং তখন পুলিশ নীরব ছিল। আমরা সিএমপি কমিশনারকে বিষয়টি জানিয়েছি এবং তিনি আশ্বস্ত করেছেন। এখন আমরা দেখতে চাই তাঁরা কতটা ব্যবস্থা নেন। যদি তাঁরা ব্যর্থ হন, তবে ধরে নেব রাষ্ট্র এই ধরনের সহিংসতাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে।"
অন্যদিকে, বুধবার বিকেলে নগরীর পুরাতন রেল স্টেশন এলাকায় গণজমায়েত শেষে একটি বিশাল মিছিল নিয়ে নিউমার্কেট মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে ছাত্রদল। এতে যোগ দেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন। সমাবেশে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা 'শিবিরের সন্ত্রাস, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও', 'গুপ্ত রাজনীতির ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না'—প্রভৃতি স্লোগান দেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে নাসির উদ্দিন বলেন, "দেয়াললিখনে ছাত্রদল যদি ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে কোনো বাক্য লিখেও থাকে, তবে তারা পাল্টা দেয়াললিখন লিখতে পারত। কিন্তু তারা একটি দেয়াললিখনের প্রতিবাদে ছাত্রদলের অসংখ্য নেতাকর্মীর ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছে।"
তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে 'গুপ্ত' সন্ত্রাসীরা যদি আবারও কোথাও হামলা চালায়, তবে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বসে থাকবে না। যদি এ রকম আরেকটি হামলার নজির কোনো ক্যাম্পাসে পুনরাবৃত্তি করতে চান, তবে ছাত্রদলের একজন নেতাকর্মীও আপনাদের স্বাভাবিকভাবে চলতে দেবে না।"
শিবিরকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, "একবার আমরা আপনাদের 'গুপ্ত' বলেছি দেখে যদি এত জ্বালা ওঠে, তবে প্রতিটি ক্যাম্পাসে আপনাদের আমরা হাজার হাজার বার 'গুপ্ত' বলব।" সিটি কলেজে হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের পক্ষ থেকেও মামলা করা হবে বলে তিনি জানান।
সার্বিক বিষয়ে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, "সিটি কলেজের ঘটনায় আমাদের অভিযান চলছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দায়িত্ব পালনে পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হবে।"
তবে সিএমপি সূত্র জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করেনি। এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও দুই সংগঠনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
