চট্টগ্রামে বিপন্ন প্রজাতির মেছো বিড়ালকে পিটিয়ে হত্যা
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায় খামারের মুরগি খেয়ে ফেলায় বিপন্ন প্রজাতির একটি মেছো বিড়ালকে বিদ্যুতের খুঁটির সাথে বেঁধে পিটিয়ে হত্যার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ওই খামারের মালিক শহিদুল ইসলামকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০২৬ অনুযায়ী, মেছো বিড়ালের মতো প্রাণী হত্যা একটি অজামিনযোগ্য অপরাধ। সংশোধিত আইনে এখন এ ধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৩,০০,০০০ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মাত্র ২ হাজার টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়ায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মী ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে সন্দ্বীপ উপজেলার হারামিয়া ফজার হাট এলাকায় বিশিরিয়া আবাসিক গলিতে একটি খামারের সামনে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করেন শহিদুল ইসলাম। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বন বিভাগের সন্দ্বীপ রেঞ্জ কর্মকর্তা তাকে আটক করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ে নিয়ে যান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমা মোবাইল কোর্ট চালিয়ে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলামকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
এ বিষয়ে জানতে মংচিংনু মারমার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, গ্রামের মানুষ খামারের মুরগি খেয়ে ফেলেছে বলে মেছো বিড়ালটিকে মেরে ফেলেছে। তাদের জরিমানা করে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন অপরাধ করলে মামলা ও কারাদণ্ড দেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
আইনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইনে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান আছে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা দীপান্বিতা ভট্টাচার্য টিবিএসকে বলেন, '২০২৬ সালের জানুয়ারির সংশোধনী মার্চে সংসদে বিল আকারে পাস হওয়ার পর ২০১২ সালের আইন রহিত হয়ে গেছে।'
তিনি বলেন, সংশোধিত আইনে এখন এ ধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৩,০০,০০০ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এটি জামিন অযোগ্য অপরাধও বটে।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মী ও বাংলাদেশ ন্যাচার কনজারভেশন অ্যালায়েন্সের সভাপতি ছিদ্দিকুর রহমান রাব্বি বলেন, নতুন আইন পাস হওয়ায় আমরা স্বস্তি বোধ করছিলাম। মনে করেছিলাম এবার বন্যপ্রাণী হত্যা কমবে। তবে আইনের সঠিক প্রয়োগ না হলে এমন অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।
