আরেকটি বড় হারে খাদের কিনারে ভারত
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা ফেবারিট মানা হচ্ছিল ভারতকে। ব্যাটিং-বোলিংয়ে দারুণ ভারসাম্যপূর্ণ দলটিকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দেখছিলেন অনেকেই। সেই ভারতই পাকিস্তানের বিপক্ষে ১০ উইকেটের বিশাল হারে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করে! দ্বিতীয় ম্যাচেও তাদেরকে খুঁজে পাওয়া গেল না। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও বড় হারে বিরাট কোহলির দল এখন খাদের কিনারে।
রোববার দুবাইতে সুপার লিগে দুই নম্বর গ্রুপের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৮ উইকেটে হেরে গেছে ভারত। তিন ম্যাচে দুই জয়ে এই গ্রুপের তিন নম্বর দল এখন নিউজিল্যান্ড। অন্যদিকে টানা দুই হারে পাঁচ নম্বরেই রয়ে গেছে ভারত। কিউইদের বিপক্ষেও হারায় ভারতের সেমি-ফাইনাল স্বপ্ন এখন শঙ্কায়। শেষ চারের টিকেট কাটতে পরের তিন ম্যাচে জেতার বিকল্প নেই কোহলি-রোহিতদের।
এই গ্রুপে শাসন করছে পাকিস্তান। দারুণ ছন্দে থাকা দলটি টানা তিন ম্যাচ জিতে সেমি-ফাইনালে এক পা দিয়ে রেখেছে। আফগানিস্তানও দুর্বার গতিতে ছুটছে। তিন ম্যাচের দুটিতে জয় পাওয়া আফগানরা পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বরে। দুটি ম্যাচেই বিশাল ব্যবধানে জয় পাওয়া আফগানিস্তান রান রেটে সবার চেয়ে এগিয়ে। এক জয়ে তিন নম্বরে আছে নিউজিল্যান্ড।
ভারতের সেমি-ফাইনালে ওঠার পথ এখন কাটা বেছানো। কারণ তিনটি ম্যাচে জিতলেই যে শেষ চারের টিকেট মিলবে, সেই নিশ্চয়তা নেই। পরের তিন ম্যাচ জিতেও বাদ পড়তে হতে পারে তাদের। কিংবা তিন ম্যাচ জিতে তাকিয়ে থাকতে হতে পারে অন্য দলের দিকে। তিন ম্যাচে জয় পাওয়া পাকিস্তান পরের ম্যাচে জিতলেই সেমিতে যাবে।
দুটি ম্যাচ জেতা আফগানিস্তানের ম্যাচ বাকি দুটি ও নিউজিল্যান্ডের তিনটি। নিউজিল্যান্ডে আরও দুটি ম্যাচে জিতলে চার জয় নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে সেমিতে উঠবে তারা।আফগানিস্তান যদি আর একটি ম্যাচ জেতে, নিউজিল্যান্ড দুটি জেতে এবং ভারত তাদের তিন ম্যাচেই জয় পায়, তাহলে কোহলিদের সম্ভাবনা বেঁচে থাকবে।
তিন দলের সমান জয় হলে থাকবে রান রেটের হিসাব। আর রান রেটের হিসাবে আফগানিস্তান সবার চেয়ে এগিয়ে। শেষ তিন ম্যাচে ভারতের প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান, স্কটল্যান্ড ও নামিবিয়া। সেমির স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে এই তিন ম্যাচেই বড় ব্যবধানে জিততে হবে তাদের।
টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নামা ভারত নিউজিল্যান্ডের অসাধারণ বোলিংরে সামনে রীতিমতো ধুঁকেছে। ট্রেন্ট বোল্ট, মিচেল স্যান্টনার, ম্যাচসেরা ইশ সোধিদের দারুণ বোলিং সামলে কেউই ভারতকে এগিয়ে নিতে পারেননি। ৭ উইকেটে ১১০ রানেই থেমে যায় ভারতের ইনিংস। জবাবে একই উইকেটে দাপুটে ব্যাটিং করেন নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা। ড্যারিল মিচেল ও অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের ব্যাটে ১৪.৩ ওভারে ২ উইকেট হারিয়েই জয় তুলে নেয় কিউইরা।
যদিও ছোট লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুটা ভালো ছিল না নিউজিল্যান্ডের। দলীয় ২৪ রানে ওপেনার মার্টিন গাপটিলকে হারায় তারা। কিন্তু উইকেট হারানোর চাপ দলকে বুঝতেই দেননি ড্যারিল মিচেল ও কেন উইলিয়ামসন। দ্বিতীয় উইকেটে ৭২ রানের জুটি গড়েন তারা। এই জুটিতেই জয়ের খুব কাছে পৌঁছে যায় কিউইরা।
মিচেলের বিদায়ে ভাঙে এই জুটি। জাসপ্রিত বুমরাহর বলে আউট হওয়ার আগে ৩৫ বলে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৪৯ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। ডেভন কনওয়েকে সঙ্গে নিয়ে জয় তুলে নেওয়ার বাকি কাজটুকু সারেন উইলিয়ামসন। কিউই অধিনায়ক ৩১ বলে ৩টি চারে ৩৩ রানে অপরাজিত থাকেন। নিউজিল্যান্ডের যাওয়া দুটি উইকেটই নেন ভারতের পেসার বুমরাহ।
এর আগে ব্যাটিং করা ভারত শুরুতেই উল্টো পথে হাঁটা শুরু করে। তাদেরকে ঠিক পথে ফেরাতে পারেননি কোনো ব্যাটসম্যানই। সর্বোচ্চ ২৬ রানের ইনিংস খেলেন রবীন্দ্র জাদেজা। এ ছাড়া লোকেশ রাহুল ১৮, রোহিত শর্মা ১৪, বিরাট কোহলি ৯, ঋষভ পন্ত ১২ ও হার্দিক পান্ডিয়া ২৩ রান করেন। ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান খরচায় ২টি উইকেট নেন নিউজিল্যান্ডের লেগ স্পিনার ইশ সোধি। ২০ রানে ৩ উইকেট নেন বাঁহাতি পেসার ট্রেন্ট বোল্ট। এ ছাড়া টিম সাউদি ও অ্যাডাম মিলনে একটি করে উইকেট নেন।
