পশ্চিমা প্রশিক্ষিত আফগান সেনারা এখন তালেবানের পক্ষে লড়ছে: ব্রিটিশ সামরিক সূত্র
পশ্চিমা বাহিনীর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আফগান সৈন্যরা এখন তালেবানদের পক্ষে যুদ্ধ করছে। মঙ্গলবার এ দাবি করেছে যুক্তরাজ্যের সামরিক সূত্র।
টাইমস পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, পানশিরের যুদ্ধে তালেবান যোদ্ধাদের সাম্প্রতিক ছবি বিশ্লেষণ করেন ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তারা। তারা বিশ্বাস করেন যে, সৈন্যরা যে উপায়ে অস্ত্র বহন করছে, তা নর্থ অ্যাটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশনের (ন্যাটো) অধীনে থাকা দেশের সৈন্যদের ব্যবহৃত কৌশলের মতোই।
বন্দুক ধরার সময় একটি "স্ট্রেইট ফিঙ্গার" ট্রিগার পজিশনের কথা উল্লেখ করে সামরিক সূত্রটি বলে, "আমরা যে নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি, এটি সেই প্রশিক্ষণে শেখানো কৌশল"। তিনি আরো যোগ করেন, যদি একজন সৈনিককে এইভাবে বন্দুক বহন করতে দেখা যায় তাহলে তারা বুঝতে পারে যে সে তাদের সৈন্য, কারণ তালেবান যোদ্ধারা মূলত তাদের অস্ত্রগুলো 'এলোমেলোভাবে' ধরে রাখে।
সামাজিক মাধ্যমের ছবিতে দেখা গেছে, আহমদ মাসুদের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট অব আফগানিস্তান (এনআরএফএ) -এর সাথে যুদ্ধ শেষে তালেবান সদস্যরা গভর্নরের চত্বরের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
এদিকে তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এর আগে বলেছিলেন যে 'সাবেক বাহিনীর মধ্যে যারা প্রশিক্ষিত এবং পেশাদার তাদেরকে তালেবান বাহিনীতে নিয়োগ করা উচিত'।
যদিও ব্রিটিশ এবং আমেরিকান প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আফগানদের তালেবানে যোগ দেওয়ার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি, তবে কারাগার বা মৃত্যুদণ্ডের হুমকির কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া তাদের আর কিছুই করার নেই, বলেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্রটি বলে, "প্রত্যেকেই তাদের পক্ষ বদলায়। আপনি আপনার পক্ষ বদলাবেন যখন জানবেন যে আপনার দায়িত্ব শেষ হয়নি"।
"তালেবান এখন আর নব্বইয়ের দশকের মত সেকেলে নয়। তারা এখন আগের তুলনায় পশ্চিমা প্রভাবিত, এবং তাদের কাছে রয়েছে স্মার্টফোনও," যোগ করে সূত্রটি।
আফগানিস্তানে প্রতিরোধের শেষ স্থান পানশির উপত্যকায় তালেবানরা "বেশি মানুষ হত্যা করেনি" বলে উল্লেখ করা হয় এ সূত্রে। তাদের মতে, পানশিরের চিত্রটিও তালেবানে পশ্চিমা প্রশিক্ষিত সেনাদের উপস্থিতির বিষয়টি সমর্থন করে।
এছাড়া, সাবেক এক সামরিক সূত্র জানায়, "যেসকল সৈন্য প্রশিক্ষণ পায়না তারা সাধারণত এলোমেলোভাবে অস্ত্র ধরে রাখে। কিন্তু যদি আপনার হাত পিস্তলের গ্রিপের পেছনে থাকে এবং আপনার আঙুলটি ট্রিগার গার্ডের উপরে থাকে, তাহলে আপনার নেগলিজেন্ট ডিসচার্জ (পিস্তল ব্যবহারকারীর ভুলক্রমে গুলি ছোঁড়া) হবে না"।
তবে, একটি প্রতিরক্ষা সূত্র তাদের এই দাবির বিরোধিতা করে বলে, যেকোনো "সক্ষম" বাহিনীকে তাদের অস্ত্র পরিচালনার জন্য একইভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
সূত্রটি জানায়, "পশ্চিমা প্রশিক্ষিত প্রাক্তন আফগান নিরাপত্তা বাহিনী তালেবানে যোগ দিয়েছে এমন প্রতিবেদনের সমর্থনে আমাদের কাছে কোনো প্রমাণ নেই"।
এদিকে নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা ড্রাগনফ্লাইয়ের একজন গোয়েন্দা বিশ্লেষক বারবারা কেলম্যান বলেন, কতিপয় আফগান সেনা তালেবানদের সাথে যোগ দেওয়ার বিষয়ে 'যুক্তিসঙ্গত সম্ভাব্যতা' মূল্যায়ন করেছেন তারা।
তিনি বলেন, "যেসকল কারণে কিছু সৈন্য তালেবানদের সঙ্গে যোগ দিতে প্ররোচিত হবে সেগুলো হলো, দলটির সঙ্গে তাদের পূর্ববর্তী সম্পর্ক, অর্থনৈতিক প্রণোদনা এবং এমনকি ব্যক্তিগত বা পারিবারিক নিরাপত্তা"।
কাবুলের পতনের তিন সপ্তাহ পরেও বর্তমানে মানবিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছে আফগানিস্তান।
- সূত্র- ডেইলি মেইল ও আরব নিউজ
