পিকি ব্লাইন্ডার্স স্টাইলে ‘অনৈসলামিক’ পোশাক পরায় ৪ তরুণকে আটক করে ‘পুনর্বাসনে’ পাঠাল তালেবান সরকার
জনপ্রিয় ব্রিটিশ টিভি সিরিজ 'পিকি ব্লাইন্ডার্স'-এর চরিত্রদের মতো সেজে রাস্তায় বেরিয়েছিলেন চার বন্ধু। কিন্তু শখ মেটাতে গিয়ে বিপাকে পড়লেন তারা। 'বিদেশি সংস্কৃতি' প্রচারের অভিযোগে আফগানিস্তানের হেরাত প্রদেশে ওই চার তরুণকে আটক করেছে তালেবান প্রশাসন।
হেরাতের জিবরাইল শহরের বাসিন্দা ওই চার তরুণের বয়স বিশের কোঠায়। তারা 'পিকি ব্লাইন্ডার্স' সিরিজের শেলবি পরিবারের মতো ট্রেঞ্চ কোট ও ফ্ল্যাট ক্যাপ (একধরনের টুপি) পরে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। স্থানীয়দের কাছে তাদের এই সাজ বেশ জনপ্রিয়ও হয়ে উঠেছিল।
তবে বিষয়টি নজরে আসার পরই ব্যবস্থা নেয় তালেবানের পাপ ও পূণ্যবিষয়ক মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইফুল ইসলাম খাইবার জানান, আসগর হুসাইনি, জলিল ইয়াকুবি, আশোর আকবরি ও দাউদ রাসা—হেরাত প্রদেশের এই চার তরুণদের আটক করে 'পুনর্বাসন কর্মসূচির' আওতায় আনা হয়েছে।
অবশ্য সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খাইবার জানান, ওই তরুণদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তাদের শুধু তলব করে সতর্ক করা হয়েছে এবং পরামর্শ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তালেবানের মুখপাত্র বলেন, 'তাদের ওই পোশাকের সঙ্গে আফগান সংস্কৃতির কোনো মিল নেই। আমাদের সমাজ মুসলিম সমাজ। কাউকে অনুকরণ করতে হলে আমাদের ধার্মিক পূর্বসূরিদের করা উচিত, কোনো ব্রিটিশ সিনেমার অভিনেতাকে নয়।'
আটকের কিছুদিন আগে স্থানীয় ইউটিউব চ্যানেল 'হেরাত মাইক'-এ একটি সাক্ষাৎকারে হাজির হয়েছিলেন ওই চার বন্ধু। সেখানেও তাদের পরনে ছিল ব্রিটিশ সিরিজের শেলবি পরিবারের মতো ট্রেঞ্চ কোট ও ফ্ল্যাট ক্যাপ।
সাক্ষাৎকারে জলিল ইয়াকুবি বলেছিলেন, 'প্রথমে আমরা একটু দ্বিধায় ছিলাম। কিন্তু বাইরে বের হওয়ার পর দেখলাম মানুষ আমাদের স্টাইল বেশ পছন্দ করছে। অনেকে রাস্তায় থামিয়ে আমাদের সঙ্গে ছবিও তুলতে চাইল।' তিনি জানান, কিছু নেতিবাচক মন্তব্য এলেও তারা মানুষের প্রশংসাকেই গুরুত্ব দিচ্ছিলেন।
কিন্তু তালেবান প্রশাসন বিষয়টিকে দেখছে ভিন্ন চোখে। তাদের মতে, এই পোশাক 'ইসলামি মূল্যবোধ ও আফগান সংস্কৃতির পরিপন্থী'।
ঘটনাটির পর তালেবানের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইফুল ইসলাম খাইবার একটি অডিও বার্তা প্রকাশ করেন। সেখানে আটক এক তরুণকে অনুতপ্ত হতে শোনা যায়। ওই তরুণ বলছেন, 'ইনস্টাগ্রামে আমার বহু অনুসারী। আমি না বুঝেই শরিয়াহবিরোধী কনটেন্ট ছড়াচ্ছিলাম। আমাকে ডেকে সতর্ক করা হয়েছে। আমি আর কখনো এমন পাপ কাজে জড়াব না।' যদিও এই স্বীকারোক্তি কতটা স্বেচ্ছায় দেওয়া, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
২০২১ সালে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর পুনরায় ক্ষমতায় এসে তালেবান সরকার আফগানিস্তানে কঠোর শরিয়াহ আইন চালু করে।
আগেও পোশাকবিধি লঙ্ঘন ও সাংস্কৃতিক আচরণ সংক্রান্ত অভিযোগে বহু মানুষকে আটক করেছে তালেবান। গত বছর তালেবান কর্তৃপক্ষ মানুষ ও প্রাণীসহ 'সকল জীবন্ত জিনিসের' ছবি তোলা নিষিদ্ধ করে আইন জারি করে।
এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি বলখ প্রদেশে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তালেবানের অভিযোগ, তারা রাস্তার জাদুকর হিসেবে কাজ করতেন, যা ইসলামবিরোধী। মুখপাত্র সাইফুল ইসলাম খাইবারের দাবি, জাদুর বই ও নথিপত্র ব্যবহার করে তারা মানুষের সংসারে বিচ্ছেদ ও অশান্তি সৃষ্টি করছিলেন।
