পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে ফের গোলাগুলি, ৪ বেসামরিক নিহত
পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে গতরাতে আবারও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে চার বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। খবর বিবিসির
গত অক্টোবরে দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় প্রাণঘাতী সংঘর্ষ হয়েছিল। এর পর দুই দেশই অস্ত্রবিরতি চুক্তিতে পৌঁছেছিল।
গতরাতে সংঘর্ষ শুরু হলে পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী আফগান শহর স্পিন বোলডাকের বহু বাসিন্দা শহর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।
স্থানীয় এক স্বাস্থ্যকর্মীর বরাত দিয়ে বিবিসি পশতুর প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় হাসপাতালে চারটি মরদেহ আনা হয়েছে। আহত অবস্থায় আনা হয়েছে আরও চারজনকে। পাকিস্তানেও তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আফগানিস্তানের তালেবান সরকার তাদের দেশে পাকিস্তান বিমান হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে।
গোলাগুলির বিয়টি উভয় দেশই স্বীকার করেছে। তবে তারা এ সংঘর্ষের জন্য একে-অপরকে দায়ী করেছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশাররাফ জায়েদির অভিযোগ, তালেবান সৈন্যরা 'উসকানিমূলক' এ হামলা চালিয়েছে। তিনি আরও বলেন, 'আমাদের সশস্ত্র বাহিনী তাৎক্ষণিক উপযুক্ত ও তীব্র জবাব দিয়েছে। পাকিস্তান তার ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সম্পূর্ণ সতর্ক ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।'
অন্যদিকে, তালেবান সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, পাকিস্তান 'আবারও হামলা শুরু করেছে' এবং তারা 'প্রতিবাদে বাধ্য হয়েছে'।
আফগান সীমান্তের বাসিন্দারা জানান, শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে গোলাগুলি শুরু হয়। ভিডিও ফুটেজে বহু আফগান নাগরিককে হেঁটে ও যানবাহনে করে এলাকা ছাড়তে দেখা যায়।
কান্দাহারের ইনফরমেশন ডিপার্টমেন্টের প্রধান আলী মোহাম্মদ হাকমাল বলেন, পাকিস্তানি বাহিনী হালকা ও ভারী গোলাবর্ষণ করেছে এবং মর্টার হামলায় বেসামরিক নাগরিকদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় পাকিস্তান-আফগানিস্তান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটলো। ইসলামাবাদ সরকার দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে তালেবান সরকার পাকিস্তানে হামলা চালানো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দিচ্ছে। আর তালেবান সরকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, পাকিস্তান তাদের 'নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায় অন্যের ওপর চাপাচ্ছে'।
