আফগানিস্তানে ব্রিটিশ সেনাদের ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য ‘অপমানজনক ও নিন্দনীয়’: স্টারমার
আফগানিস্তান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যুদ্ধে ইউরোপীয় সৈন্যরা 'সামনের সারিতে ছিল না'। স্টারমার এই মন্তব্যকে 'অপমানজনক এবং স্পষ্টতই নিন্দনীয়' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং ট্রাম্পের ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কখনো প্রয়োজন হলে ন্যাটো পাশে দাঁড়াবে কি না, সে বিষয়ে তিনি 'নিশ্চিত নন'।
তিনি আরও বলেন, 'আমাদের কখনোই তাদের প্রয়োজন হয়নি। তারা বলবে, তারা আফগানিস্তানে কিছু সেনা পাঠিয়েছিল… আর তারা পাঠিয়েছিলও, তবে তারা সামনের সারি থেকে একটু পেছনে, একটু দূরে অবস্থান করেছিল।'
যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এমন সরাসরি এবং কঠোর সমালোচনা বেশ বিরল। শুক্রবার স্টারমার বলেন, ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ন্যাটো মিত্রদের নিয়ে যে কথা বলেছেন, তা মেনে নেওয়া যায় না। ট্রাম্পের ক্ষমা চাওয়া উচিত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমি যদি এভাবে ভুল কথা বলতাম বা ওই ধরনের শব্দ ব্যবহার করতাম, তবে আমি অবশ্যই ক্ষমা চাইতাম।'
তবে শুক্রবারই হোয়াইট হাউস ব্রিটিশ নেতার এই সমালোচনার জবাব দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেলর রজার্স এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, 'প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একেবারে ঠিক বলেছেন। ন্যাটো জোটের অন্য সব দেশ মিলে যা করেছে, যুক্তরাষ্ট্র একাই ন্যাটোর জন্য তার চেয়ে বেশি করেছে।'
ডেনমার্কের আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবির বিরোধিতাকারী বেশ কিছু ইউরোপীয় দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। পরে সেই হুমকি তুলে নেওয়ার পরই তিনি এই মন্তব্য করেন।
সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের এক পার্শ্ববৈঠকে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ন্যাটো তাদের পাশে দাঁড়াবে কি না, তা নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তিনি বলেন, 'আমাদের কখনো তাদের প্রয়োজন হয়নি, আমরা তাদের কাছে আসলে কিছুই চাইনি।'
আফগানিস্তানে দেড় লাখেরও বেশি ব্রিটিশ সেনা দায়িত্ব পালন করেছেন, যা ছিল মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাহিনী। এছাড়া কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি এবং ডেনমার্কের অসংখ্য সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির 'কস্টস অফ ওয়ার' প্রকল্পের ২০২১ সালের হিসাব অনুযায়ী, ২০০১ সালের আগ্রাসনের সরাসরি ফলে অন্তত ৪৬ হাজার ৩১৯ জন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
ট্রাম্পের মন্তব্য ইউরোপজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। ডাচ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ভ্যান উইল ট্রাম্পের মন্তব্যকে অসত্য এবং অসম্মানজনক বলে নিন্দা জানিয়েছেন। পোলিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিস্লভ কোসিনিয়াক-কামিশ বলেছেন, তার দেশ 'নির্ভরযোগ্য এবং পরীক্ষিত মিত্র'।
ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স হ্যারিও এ বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ব্রিটিশ সেনাদের আত্মত্যাগ 'সত্য এবং শ্রদ্ধার সঙ্গে আলোচনা করার দাবি রাখে'। আফগানিস্তানে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করা হ্যারি বলেন, 'হাজার হাজার জীবন চিরতরে বদলে গেছে। মা-বাবারা তাদের ছেলেমেয়েদের কবর দিয়েছেন। শিশুরা বাবা-মাকে হারিয়েছে। পরিবারগুলো এখনো এর ভার বহন করছে।'
