বেলজিয়ামের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ৪-১ গোলে হার; ন্যাটো সম্মেলনে ‘খিটখিটে' ট্রাম্পের সামনে ফুটবলের কথাই তুলব না: বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী
ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ফুটবলে নিজের দেশের জয়ের প্রসঙ্গটি তুলবেন না বলে জানিয়েছেন বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভার৷
তিনি মজা করে বলেন, 'মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন একটি সুনাম আছে যে, তিনি তার অপছন্দের বিষয়গুলোতে মাঝে মাঝে একটু অসহিষ্ণু প্রতিক্রিয়া দেখান। আর আমার মনে হয়, এই হার তাকে বেশ আঘাত করবে।'
গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) শেষ ষোলোর ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে হারায় বেলজিয়াম। তবে ফিফার একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তে ম্যাচটির আনন্দ কিছুটা ম্লান হয়ে যায়।
বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে লাল কার্ড পাওয়া মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে তাকে এই ম্যাচে খেলার সুযোগ করে দিয়েছিল ফিফা। সহ-আয়োজক দেশ আমেরিকার এই শীর্ষ গোলদাতার ওপর আরোপিত শাস্তি পুনর্বিবেচনার জন্য ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেছিলেন—এমন খবর প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্বজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ডি ওয়েভার জানান, তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো নেতাদের সম্মেলনে উপস্থিত সবাই প্রথমেই তাকে বেলজিয়ামের এই জয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
তিনি বলেন, 'সবাই একটি বিষয়েই কথা বলছে, আর সেটি হলো রেড ডেভিলসদের এই জয়ের জন্য অভিনন্দন জানানো। অবশ্যই, পরাজিত পক্ষও এখানে উপস্থিত আছে। আর তারা ঘটনাচক্রে ন্যাটোর সবচেয়ে বড় অংশীদারও।'
যুক্তরাষ্ট্র এত বাজেভাবে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ায় ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হতে পারেন কি না, তা নিয়ে ডি ওয়েভার উদ্বিগ্ন কি না—এমন প্রশ্ন রাখা হয়েছিল তার কাছে।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, 'আমি নিজে থেকে এই বিষয়ে কথা শুরু করব না। তবে তিনি যদি এটি নিয়ে কিছু বলেন, তখন দেখব তিনি কী বলছেন এবং আমি কীভাবে এর প্রতিক্রিয়া জানাতে পারি।'
মার্কিন দলের এমন শোচনীয় পরাজয় নিয়ে ট্রাম্প অবশ্য এখনো কোনো মন্তব্য করেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে বেলজিয়ামের জয়ের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্টকে উপহাস করা হয়েছিল। বেলজিয়ামের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় তাদের চতুর্থ গোলের উদযাপনে ট্রাম্পের ট্রেডমার্ক নাচের নকল করেন।
রেড ডেভিলসদের অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকেও গোলদাতা লুকাকুর একটি ছবি পোস্ট করে লেখা হয়, 'এটি উল্টে দিন'।
বালোগানকে খেলার অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বেলজিয়াম ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছিল যে, তারা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে। আর ম্যাচ শেষে বেলজিয়ামের খেলোয়াড়রা স্বীকার করেন, একটি অবিচারের বোধ তাদের জেতার আকাঙ্ক্ষাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।
ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে আগে, যুক্তরাষ্ট্রের আগের ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় সাবেক এই আর্সেনাল ফরোয়ার্ড এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন।
গত সোমবার ওভাল অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি বালোগানকে মাঠ থেকে বের করে দেওয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার জন্য ফিফাকে অনুরোধ করেছিলেন, কারণ তার কাছে এটি কোনো ফাউল বলে মনে হয়নি।
তিনি এ-ও স্বীকার করেন, 'আমি জানতামই না যে এই লাল কার্ড জিনিসটা আসলে কী।' এরপর ফিফা তাদের নিয়মের একটি স্বল্পপরিচিত ধারা প্রয়োগ করে বালোগানের লাল কার্ড এক বছরের জন্য 'স্থগিত' করে৷
ট্রাম্পের লবিংয়ের পর ফিফার এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানায় ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফাও।
এমনকি ফুটবলের সবচেয়ে ক্ষমতাবান ব্যক্তি ইনফান্তিনোকে পদত্যাগের আহ্বানের মুখে পড়তে হয়। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, হোয়াইট হাউসের কোনো রাজনৈতিক চাপ ছাড়াই স্বাধীনভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
