'নিকৃষ্ট' ইরানিরা আমাকে খুন করতে চাইছে, আমি ওদের ১ নাম্বার টার্গেট: ট্রাম্প
ইরান তাকে হত্যার চেষ্টা করছে এবং তিনি দেশটির '১ নম্বর টার্গেট' বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এমন এক সময়ে তিনি এই মন্তব্য করলেন যখন তেহরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যত ভেস্তে গেছে।
ট্রাম্প পাচ মাস আগে তার শুরু করা ইরান যুদ্ধের কথা উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্বের বেশির ভাগকেই হত্যা করেছে। তিনি বলেন, 'তাদের একদল নেতা ছিল, তারা নেই। এরপর আরেক দল এল, তারাও শেষ। এখন আরেক দল আছে, তারাও হয়তো থাকবে না। কে জানে? আর আমিও হয়তো থাকব না, কারণ আমি তাদের এক নম্বর লক্ষ্যবস্তু।'
ইরানি নেতাদের 'নিকৃষ্ট' হিসেবে অভিহিত করে ট্রাম্প বলেন, 'আমি এক নম্বর লক্ষ্যবস্তু কারণ তারা অত্যন্ত নিকৃষ্ট প্রকৃতির। গত ৪৭ বছর ধরে তারা এভাবেই চলছে। তবে আমি দেশের জন্য যা সঠিক তা-ই করছি।'
তেহরানের বর্তমান নেতৃত্ব সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, তারা কিছুটা 'পাগলাটে'। তবে তিনি এও জানিয়েছিলেন, যুদ্ধবিরতি আলোচনার সময় ইরানি প্রতিনিধিদলে 'চমৎকার কিছু মানুষ' ছিল।
ট্রাম্প মনে করেন, বর্তমান নেতারা আগের নিহত নেতাদের চেয়ে কিছুটা 'যৌক্তিক'। তিনি বলেন, 'ইরানের লেভেল ওয়ানের নেতারা খতম। লেভেল টু-ও শেষ। এখন চলছে লেভেল থ্রি। আমার ধারণা, এই নেতারা আগের নেতাদের চেয়ে কিছুটা বেশি বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন।'
যদিও গত দুই সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহ—বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ইরানি হামলা—তাদের যৌক্তিকতা নিয়ে ট্রাম্পের মনে সন্দেহ তৈরি করেছে। এই উত্তেজনার ফলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও বিমান হামলা শুরু করেছে এবং ট্রাম্প যুদ্ধের পরিধি আরও বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন।
হত্যার ষড়যন্ত্রের ইতিহাস
২০১৯ সালের শেষদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নেতা জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার নির্দেশ দেন, তখন থেকেই ইরানি নেতারা ট্রাম্প এবং তার পূর্ববর্তী প্রশাসনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হত্যার পরিকল্পনা করে আসছিলেন।
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্প তার নিজস্ব বিমান 'ট্রাম্প ফোর্স ওয়ান'-এর পরিবর্তে বন্ধু স্টিভ উইটকফের বিমানে যাতায়াত করতেন। সে সময় মার্কিন গোয়েন্দাদের আশঙ্কা ছিল, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ইরানি এজেন্টদের হাতে ক্ষেপণাস্ত্র থাকতে পারে।
গত মার্চ মাসে নিউইয়র্কের একটি আদালত আসিফ মার্চেন্ট নামের এক ব্যক্তিকে ট্রাম্পকে হত্যার ষড়যন্ত্রে অংশ নেওয়া এবং সন্ত্রাসবাদের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন। দেশটির বিচার বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আসিফ স্বীকার করেছেন যে ট্রাম্পকে হত্যার ছক সাজাতে আইআরজিসি তাকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়েছিল।
হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার আশঙ্কা কেন করেছিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের পদকে একটি 'বিপজ্জনক পেশা' হিসেবে অভিহিত করেন।
তবে ট্রাম্প এও বলেন, তিনি মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে চিন্তিত নন। তার ভাষায়, 'আমি সত্যিই পরোয়া করি না, কারণ আমি আমার কাজ করছি। আশা করি আমি আগের যেকোনো প্রেসিডেন্টের চেয়ে ভালো করছি।'
টিকটক প্রসঙ্গে মজা করে ট্রাম্প বলেন, 'আমি টিকটক তালিকার শীর্ষে থাকতে বেশি পছন্দ করি। কিন্তু এখন আমি হত্যার তালিকারও এক নম্বরে আছি।'
