আমরাই হব হরমুজের ‘অভিভাবক’, মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক নেব: ট্রাম্প
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, এই কৌশলগত জলপথটি রক্ষার দায়িত্ব পালন করবে যুক্তরাষ্ট্র এবং এর বিনিময়ে দেশটিকে পারিশ্রমিক প্রদান করতে হবে।
ফক্স নিউজের 'ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস' অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, 'আমরা এই প্রণালিটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখব এবং সম্ভবত আমরাই এটি পরিচালনা করব। আমরা হব এই প্রণালির অভিভাবক। সম্ভবত আমরা এর নাম দেব 'গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল অব দ্য স্ট্রেট' (প্রণালীর রক্ষাকর্তা দেবদূত)। আর এই কাজের জন্য আমাদের অবশ্যই পাওনা পরিশোধ করতে হবে।'
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, 'আমরা এটি পাহারা দেব এবং এর বিনিময়ে প্রচুর অর্থ গ্রহণ করব। কারণ অন্যান্য যেসব দেশ এটি ব্যবহার করে তারা অত্যন্ত ধনী। তারা আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র, আর আমাদের কাছ থেকে বিনা পয়সায় এই সেবা তারা আশা করতে পারে না।'
ইরানে 'চরম আঘাত' হানব, হুমকি ট্রাম্পের
ইরানের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগও এনেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেইসঙ্গে দেশটির ওপর আরও জোরালো ও বিধ্বংসী হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, 'চুক্তি চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু ওরা সেটা ভেঙেছে। ওরা সবসময়ই চুক্তি ভঙ্গ করে। এই লোকগুলোর সঙ্গে আমরা এ পর্যন্ত ১০টি চুক্তি করেছি। তাই এবার আমরা ওদের ওপর চরম আঘাত হানতে যাচ্ছি।'
ট্রাম্প আরও বলেন, 'ওরা একদল খারাপ লোক। দীর্ঘদিন ধরেই ওরা এরকম আচরণ করে আসছে।'
সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে কেন্দ্র করে মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। দুই দেশই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে।
উল্লেখ্য, বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যে হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের ২০ শতাংশ এই জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হতো। মূলত এই গুরুত্বের কারণেই অঞ্চলটিতে আধিপত্য বিস্তারে মরিয়া হয়ে উঠেছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
