ইরানের ‘পিক্যাক্স মাউন্টেনে’ হামলার হুমকি ট্রাম্পের
ইরানের 'পিক্যাক্স মাউন্টেন' লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ওয়াশিংটন ইরানের ওপর 'কঠোর হামলা' অব্যাহত রাখবে।
সোমবার হিউ হিউইট শো–তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, 'আমরা পিক্যাক্স মাউন্টেন ধ্বংস করব। ইরানকে প্রস্তুত থাকতে বলুন।'
তিনি আরও বলেন, 'আমরা পিক্যাক্স মাউন্টেনের ওপর কড়া নজর রাখছি। সেখানে কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির অবস্থা ভালো নয়। যখনই এ বিষয়ে কিছু জানতে পারি, তখনই সেটি উড়িয়ে দিই। তাই তারা এ নিয়ে কথা বলতে চায় না। খুব শিগগিরই সম্ভবত পিক্যাক্সেও হামলা চালানো হবে।'
এর আগে সোমবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র আবারও উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর নৌ অবরোধ কার্যকর করবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা হবে, তবে এর বিনিময়ে ফি দিতে হবে।
'পিক্যাক্স মাউন্টেন' ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের কাছে অবস্থিত একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত স্থাপনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, 'পিক্যাক্স মাউন্টেন' নামের এই স্থাপনাটি মাটির এত গভীরে যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী 'বাঙ্কার-বাস্টার' বোমার পক্ষেও সেখানে পৌঁছানো সম্ভব নয়। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, স্থাপনাটির কাজ এখনো শেষ হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এই পিক্যাক্স মাউন্টেনই হয়ে উঠতে পারে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির এমন এক আস্তানা, যেখানে আকাশপথে হামলা চালানো অসম্ভব।
গত জুনে 'অপারেশন মিডনাইট হ্যামার'-এর আওতায় ফোরদোতে পাহাড়ঘেরা একটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওই হামলায় ব্যবহার করা হয়েছিল ৩০ হাজার পাউন্ড ওজনের অত্যন্ত শক্তিশালী বাঙ্কার-বাস্টার বোমা, যা বিশেষভাবে ওই অভিযানের জন্যই তৈরি হয়েছিল।
ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটির মতে, ফোরদোর চেয়েও অন্তত ২ হাজার ফুট নিচে গ্রানাইট পাথরের স্তরের ভেতর অবস্থিত পিক্যাক্স মাউন্টেন। ফলে ওই ভয়ংকর বোমার পক্ষেও এর ভেতরের প্রকোষ্ঠগুলোতে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা জুইশ ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি অব আমেরিকার (জিনসা) নীতিবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্লেইস মিসজটাল বলেন, 'ফোরদোর চেয়ে পিক্যাক্স মাউন্টেন অনেক গভীর, বড় এবং সুরক্ষিত। এখানেই হয়তো তারা অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে।'
