কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিল শীর্ষ নেতৃত্ব, দাবি বেঁচে যাওয়া সেনাদের
কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরে মোতায়েন করা মার্কিন সেনাসদস্যদের দাবি, গত ১ মার্চ ইরানি ড্রোন হামলার আগে গোয়েন্দা সতর্কবার্তা থাকলেও তা উপেক্ষা করেছিলেন দায়িত্বে থাকা জেনারেলরা। ওই হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছিলেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট' গত রোববার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
অনুসন্ধানী ওই প্রতিবেদনে ১৭ জন প্রত্যক্ষদর্শী ও হামলার শিকার সেনাদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, ড্রোন হামলার পরপরই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ক্লিন্ট বার্নস ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন, অথচ তার অধীনে থাকা সেনারা তখনো সেখানেই ছিলেন। অনেক সেনা 'অপরাধবোধ ও বিশ্বাসঘাতকতার' কথা উল্লেখ করে বলেছেন, যারা মারা গেছেন তাদের সাহায্য করার জন্য তারা যথেষ্ট চেষ্টা করেননি। এ ছাড়া আহত সেনারা অভিযোগ করেছেন যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর চিকিৎসা ব্যবস্থা তাদের সেবা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
মার্কিন সেনাবাহিনী সরাসরি সেনাদের অভিযোগের জবাব দেয়নি। তারা মূলত এই ইউনিটের নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ তদন্তে এই হামলার ঘটনার জন্য নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া বা কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি।
হামলার সময় ভবনের ভেতরে থাকা মেজর স্টিফেন রামসবটম ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, 'আমরা যদি এই ভুলগুলো থেকে শিক্ষা না নিই এবং একই মিথ্যায় বিশ্বাস করি, তবে পরবর্তীতে অন্য ইউনিটের সাথেও এমনটি ঘটবে। তারাও আমাদের মতো একই পরিস্থিতির শিকার হবে।'
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শুয়াইবা বন্দরে ইরানের 'শাহেদ' ড্রোন ভূপাতিত করার মতো কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল না। হামলার সময় কেবল ছোট কিছু ড্রোন প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছিল। এ ছাড়া নিরাপদ অঞ্চলগুলোতে সেনাদের জন্য মাথার ওপর কোনো সুরক্ষামূলক আচ্ছাদন বা ছাউনি ছিল না।
ঘাঁটির এক সেনা বলেন, 'আমরা জানতাম এটি একটি চিহ্নিত লক্ষ্যবস্তু।' ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার প্রথম দফার উত্তেজনার সময় এই স্থানটিতে কোনো হামলা না হওয়ায় এবার একে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার আগে সতর্ক সংকেত বাজলে অনেক কমান্ডার সেনাদের নিরাপদ আশ্রয়ের পরিবর্তে ভবনের ভেতরেই থাকতে বাধ্য করেছিলেন। এমনকি ১ মার্চের প্রাণঘাতী হামলার মাত্র ৩০ মিনিট আগে 'বিপদ নেই' (অল ক্লিয়ার) সংকেত দেওয়া হয়েছিল। সেনারা আরও জানান, ক্রমাগত হামলার কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লুকিয়ে থাকলেও ঘুমানোর সময় কর্মকর্তারা তাদের বাঙ্কারে থাকার অনুমতি দেননি।
তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জেনারেলরা হামলার পরপরই কর্মীদের সরিয়ে নিতে সহায়তা করেছিলেন। নিজেরা আহত হয়ে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তারা মাঠপর্যায়ে কর্মীদের সাথে সরাসরি কাজ করেছেন।
