ইরাকে ইরানি ড্রোন হামলায় মার্কিন সেনা নিহত, জর্ডানে মিসাইল হামলায় নিহত আরও একজনের দেহাবশেষ উদ্ধার
উত্তর ইরাকে ইরানের হামলায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও এক সেনাসদস্য। শুক্রবার জর্ডানের একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় দুই মার্কিন সেনার মৃত্যু ও এক সেনা নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পরই ইরাকে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটল। তবে জর্ডানে হামলার ঘটনায় এক ব্যক্তির দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। দেহাবশেষটি কার, তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ভূপাতিত করা একটি ইরানি ড্রোন থেকে উদ্ধার হওয়া 'অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ' নিয়ন্ত্রিত উপায়ে নিষ্ক্রিয় করার সময় বিস্ফোরণে ওই মার্কিন সেনা নিহত হন। এই ঘটনায় আরও এক সেনা সদস্য আহত হয়েছেন।
এদিকে সর্বশেষ তথ্যে সেন্টকম আরও জানায়, জর্ডানে হামলা হওয়া স্থানে তল্লাশি চালিয়ে তারা 'অশনাক্তকৃত দেহাবশেষ' উদ্ধার করেছে। সেই অবশিষ্টাংশগুলো কার, তা নিশ্চিত করতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ চলছে।
এ ছাড়া চলতি মাসের শুরুর দিকে নিখোঁজ হওয়া একজন মার্কিন নৌবাহিনীর পাইলটকে মৃত ঘোষণা করায় এই সংঘাতে মার্কিন সেনাদের মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১৭-তে দাঁড়িয়েছে।
ইরানের ক্ষয়ক্ষতি
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত তিন সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানে অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০-র বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। গতকাল রোববারও দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক হামলা-পাল্টা হামলা চলেছে। ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর দারখোভেইনে একটি নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে এবং কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলা চালানো হয়েছে।
জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা এ বিষয়ে উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে যে ওই পারমাণবিক কেন্দ্রটি বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং সেখানে কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছিল না।
জর্ডান ও কুয়েতে উত্তেজনা
জর্ডানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তারা তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে এবং চতুর্থটি একটি জনশূন্য এলাকায় পড়েছে। জর্ডানের আকাবা বন্দর লক্ষ্য করে হামলা হতে পারে—যুক্তরাষ্ট্রের এমন সতর্কবার্তার পরই এই ঘটনা ঘটল। এর প্রতিবাদে আম্মানে নিযুক্ত ইরানি কূটনৈতিক কর্মকর্তাকে তলব করেছে জর্ডান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানি হামলাকে 'অযৌক্তিক ও জঘন্য' অভিহিত করে বলেছে, জর্ডানের নিরাপত্তা একটি 'রেড লাইন' যা কোনোভাবেই অতিক্রম করা যাবে না।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, জর্ডানের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ যাতে তাদের ভূখণ্ডে না পড়ে, সে জন্য তারা বেশ কিছু ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।
কুয়েতের স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত শনিবার একটি বিদ্যুৎ ও পানি শোধনাগারে হামলার পর সেখানে পুনরায় আঘাত হানা হয়েছে। এতে ওই স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়।
বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতকে নিয়ে গঠিত 'দ্য গাল্ফ কোঅপারেশন কাউন্সিল' ইরানের বিরুদ্ধে বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ এনেছে। ইরানও অভিযোগ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সেতু, বিমানবন্দর এবং ট্রেন স্টেশনে হামলা চালিয়েছে। তবে ওয়াশিংটন দাবি করেছে, তারা কেবল সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা পরিচালনা করছে।
আলাদাভাবে, ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পার না হওয়ার জন্য তাদের দেওয়া সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিল দুটি জাহাজ। আর সেই কারণেই জাহাজ দুটি একটি 'দুর্ঘটনার' কবলে পড়েছে।
আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের 'প্রভাবে' থাকা এবং 'অনিরাপদ রুট' ব্যবহার করা সমস্ত জাহাজকে আগামীতে 'অবশ্যই দুর্ঘটনার মুখোমুখি হতে হবে'।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধ বন্ধে জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছিল। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই সেই সমঝোতা ভেস্তে যায় এবং গত ৮ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটি 'শেষ' বলে ঘোষণা করেন।
