ফিফা ‘ফুটবল শিল্পকে ধ্বংস করছে’, ইনফান্তিনোর পদত্যাগ করা উচিত: লা লিগা সভাপতি
ফিফা 'ফুটবল শিল্পকে ধ্বংস করছে'বলে অভিযোগ করেছেন লা লিগার সভাপতি হাভিয়ের তেবাস। সেই সঙ্গে তিনি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পদত্যাগেরও দাবি জানিয়েছেন।
২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর যখন ২০৩০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৪৮ থেকে বাড়িয়ে ৬৪ করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে, ঠিক তখন এমন দাবি জানালেন তেবাস।
ইতালির দৈনিক লা গাজেত্তা দেলো স্পোর্ত-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তেবাস বলেন, "জাতীয় দলের সংখ্যা বাড়ানোর কোনো মানেই হয় না। ফুটবল শিল্প মানেই শুধু বিশ্বকাপ নয়, যদিও এটি সবচেয়ে বড় আসর। সবকিছু বিশ্বকাপকে ঘিরে চলতে পারে না। এই খেলার ভিত্তি টিকিয়ে রাখে ঘরোয়া লিগ ও প্রতিযোগিতাগুলো।"
তিনি আরও বলেন, "মাত্র ৪০ দিনের একটি টুর্নামেন্ট, যেখানে অল্প সংখ্যক খেলোয়াড় অংশ নেন, তার জন্য তারা এমন একটি ফুটবল শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, যা লাখো মানুষের জীবিকা ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে জড়িত। আমাদের দরকার কম সংখ্যক জাতীয় দল এবং সব স্তরে ঘরোয়া ফুটবলের জন্য আরও বেশি সুরক্ষা। তারা বুঝতেই পারছে না যে কতটা দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।"
তেবাসের মতে, ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের সময় শেষ হয়ে গেছে। "এখন তার সরে দাঁড়ানোর সময়। কিন্তু ফেডারেশনগুলোর সমর্থন থাকায় তিনি পুরো ব্যবস্থার পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছেন। তাই এ নিয়ে আর বলার তেমন কিছু নেই''।
তিনি আরও বলেন, "তার বিপক্ষে দাঁড়ানোর মতো কোনো প্রার্থী নেই। কারণ সবাই জানে, শুধু হারার জন্য কেউ নির্বাচন করতে চায় না। পুরো ব্যবস্থাটাই এমন, আর এই ব্যবস্থার ভেতর থেকেই পচন ধরেছে।"
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে ইনফান্তিনোর সমালোচকদের সঙ্গে কথা হয়েছে বলেও জানান তেবাস। তার ভাষায়, "অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে ইনফান্তিনোর কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করেন। তারা বলেনও, কিন্তু এরপর আর কিছুই করেন না। নীরবতা আর সহযোগিতার মধ্যে কোনটি বেশি ক্ষতিকর, আমি জানি না। কারণ যারা চুপ থাকেন, তারা ফুটবলের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা খুব ভালোভাবেই বোঝেন।"
গত ১০ বছরে ফিফার সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনো নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। ২০২৭ সালের মার্চে অনুষ্ঠেয় ফিফা কংগ্রেসে চতুর্থ মেয়াদের তার আবারও নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তেবাস মনে করেন, বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র যদি বেলজিয়ামকে হারাতে পারত, তাহলে ফোলারিন বালোগানকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক ইনফান্তিনোর জন্য বড় সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়াত।
লাল কার্ড পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের আর পরবর্তী ম্যাচ খেলার সুযোগ ছিল না। কিন্তু ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি সেই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে। এ কারণে তিনি বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামতে পেরেছিলেন। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইনফান্তিনোর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন। ইনফান্তিনো দাবি করেন, বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত শৃঙ্খলা কমিটি স্বাধীনভাবে, প্রযোজ্য নিয়ম ও ঘটনার ভিত্তিতে নিয়েছে।
তেবাস বলেন, "আমেরিকান খেলোয়াড়ের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর ছিল। যুক্তরাষ্ট্র বেলজিয়ামের কাছে হেরে যাওয়ায় তারা ভাগ্যবান। যদি যুক্তরাষ্ট্র জিতত, তাহলে এমন একটি বিতর্ক তৈরি হতে পারত, যা ইনফান্তিনোর চাকরিই কেড়ে নিতে পারত। কিন্তু বেলজিয়াম জেতায় বিষয়টি চাপা পড়ে যায়।"
তিনি আরও অভিযোগ করেন, "এগুলো কেবল হিমশৈলের চূড়া। ফিফা নিজেদের স্বার্থে, নিজেদের ইচ্ছামতো সবকিছু পরিচালনা করে—ফুটবলের স্বার্থে নয়। তাই যদি তাদের ২৭ মিনিটের বিরতি দরকার হয়, সেটাও তারা করে ফেলবে।"
তেবাসের দাবি, "হাইড্রেশন ব্রেকের অজুহাতও ভুয়া। লা লিগায় আমরা সত্যিই প্রচণ্ড গরম পড়লে এমন বিরতি দিই। কিন্তু এখানে ডালাস, লস অ্যাঞ্জেলেস ও আটলান্টার স্টেডিয়ামগুলোতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছিল। গ্যালারিতে বসে আমাকে পর্যন্ত সোয়েটার পরতে হয়েছে। তাই এটা গরমের জন্য নয়, বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্যই ওই বিরতি রাখা হয়েছিল।"
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও সংস্থাটির পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
