নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি ‘ইরানে নেই’—দাবি সৌদি সংবাদমাধ্যমের
একটি ইসরায়েলি নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে সৌদি সংবাদমাধ্যম আল-হাদাথ দাবি করেছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি 'ইরানে নেই'।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলায় নিহত হন মুজতবার বাবা ও সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। এরপর মুজতবাকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করা হয়।
কিন্তু সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার পর থেকে তাকে একবার জনসমক্ষে দেখা যায়নি। বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে তার যাবতীয় যোগাযোগ চলছে কেবল কিছু লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে।
আল-হাদাথের কাছে ওই সূত্র দাবি করেছে, মুজতবা খামেনির নামে যেসব বার্তা বাইরে আসছে, তার কোনোটিই তিনি নিজে লিখছেন না। ওইসব বার্তা লিখছেন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নতুন প্রধান আহমাদ ওয়াহিদি ও বাহিনীর অন্য শীর্ষ কর্মকর্তারা।
ইসরায়েলি ওই সূত্র আরও বলে, 'ইরানের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন চরম আকার নিয়েছে। এই ফাটল এতটাই গভীর যে, তা আইআরজিসির অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।'
ওই ইসরায়েলি সূত্র আরও বলেছে, তেহরান যদি ইসরায়েলের ওপর হামলা চালায়ও, তবু ওয়াশিংটন চায় না যে ইসরায়েল ইরানের ওপর কোনো পাল্টা হামলায় অংশ নিক।
মুজতবা খামেনি প্রকাশ্যে না আসায় বেশ কিছুদিন ধরেই পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, যুদ্ধের মধ্যেই তেহরানে ক্ষমতাসীনদের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়েছে। দেশের কট্টরপন্থি শিবির এবং অপেক্ষাকৃত নমনীয় ও বাস্তববাদী প্রশাসন দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে।
সিএনএনের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে ১৪ দফার কূটনৈতিক চুক্তি সই করার পর থেকেই ক্ষোভে বাড়ছে কট্টরপন্থিদের।
সিএনএনের দাবি, কট্টরপন্থিরা মনে করছে, আমেরিকার হামলায় নিহত সাবেক সর্বোচ্চ নেতার হত্যার বদলা না নিয়ে উল্টো এই চুক্তিতে সই করে সরকার আসলে আমেরিকার কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করেছে। তাদের অভিযোগ, এই চুক্তি বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির স্পষ্ট নির্দেশনার পরিপন্থি।
