ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের স্বপ্নে ইন্ধন জোগান কে এই ৩৪ বছর বয়সী নারী
চলতি বছরের শুরুর দিকে মার-এ-লাগো রিসোর্টে এক নৈশভোজের টেবিলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গ্রিনল্যান্ড দখলে উৎসাহিত করেছিলেন তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ও পডকাস্টার কেটি মিলার।
মূলত তার এই উৎসাহ দেওয়ার পরই গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়াটি গতি পায় বলে জানা গেছে।
হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলারের স্ত্রী কেটি মিলার সেদিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নিয়েছিলেন।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের গত মঙ্গলবারের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক বাহিনী কর্তৃক ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এই নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নিজের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
সে সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, 'আমার যদি আর কিছুটা সময় থাকত। আমার হাতে আরও সময় থাকলে, আমি গ্রিনল্যান্ড নিজের করে নিতাম।'
এর জবাবে ৩৪ বছর বয়সী মিলার বলেন, 'আপনার হাতে এখনো সময় আছে।'
মাদুরো বন্দি হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই মিলার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) গ্রিনল্যান্ডের একটি ছবি পোস্ট করেন। ছবিটিতে গ্রিনল্যান্ডের ওপর আমেরিকার পতাকা বসানো ছিল এবং নিচে লেখা ছিল 'শীঘ্রই'।
এর পরবর্তী দিনগুলোতে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারাও গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার ব্যাপারে প্রেসিডেন্টের সুরে কথা বলতে শুরু করেন। বিষয়টিকে তারা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করেন।
এই বিষয়ে মন্তব্য জানতে হোয়াইট হাউস ও কেটি মিলারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট।
গ্রিনল্যান্ড দখলের পক্ষে সবচেয়ে সোচ্চার ছিলেন স্টিফেন মিলার। তিনি সিএনএন-এ এসে ঘোষণা দেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত গ্রিনল্যান্ড দখল করা। এমনকি এই লক্ষ্য অর্জনে যেকোনো ধরনের শক্তি প্রয়োগ করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
সিএনএন-কে তিনি বলেন, 'আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করি যেখানে আপনি আন্তর্জাতিক শিষ্টাচার এবং অন্য সব বিষয় নিয়ে যত খুশি কথা বলতে পারেন। কিন্তু আমরা যে বাস্তব পৃথিবীতে বাস করি তা পরিচালিত হয় শক্তি, বলপ্রয়োগ এবং ক্ষমতা দিয়ে৷
তিনি আরও যোগ করেন, 'গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সামরিক লড়াইয়ে জড়ানোর মতো সাহস কারো নেই।'
১৯৫৩ সাল থেকে ডেনমার্কের মালিকানাধীন অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড আংশিকভাবে সুমেরু বৃত্তে (আর্কটিক সার্কেল) অবস্থিত। ভৌগোলিকভাবে এর কেন্দ্রমুখী অবস্থানের কারণে বহু বছর ধরেই অঞ্চলটির প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ জড়িত রয়েছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আর্কটিক অঞ্চলের বরফ গলতে থাকায় বর্তমানে এর বাণিজ্যিক গুরুত্বও বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ এই অঞ্চলকে ব্যবহার করে নতুন নৌ-বাণিজ্য পথ সম্প্রসারণ করা সম্ভব।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে গ্রিনল্যান্ডকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার কথা বলে আসলেও, ইউরোপীয় কর্মকর্তারা প্রথমে তার এই দাবিকে গুরুত্ব দেননি। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুসারে—মিলারের সেই এক্স পোস্ট এবং পরবর্তীতে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্ত করার জোর তৎপরতা শুরু হওয়ার পর ইউরোপীয়রা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিতে বাধ্য হয়।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ডেনিশ ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্সের একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানায়, 'এমনকি মিত্রদের বিরুদ্ধেও সামরিক শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাকে এখন আর উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।'
ডেনমার্কের কর্মকর্তারা বারবারই যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার ব্যাপারে তাদের অনাগ্রহের কথা বলেছেন। একই সাথে ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোও ডেনিশ অঞ্চলটিতে হস্তক্ষেপ না করার জন্য ট্রাম্পকে সতর্ক করেছে।
তবে গত সপ্তাহে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার বিষয়ে নিজের ইচ্ছা আবারও প্রকাশ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের কোনো উপকারে আসছে না এবং এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।'
