মাঝআকাশে রায়ানএয়ারের বোয়িং বিমানের জানালা ভেঙে বাইরে চলে যাচ্ছিলেন যাত্রী, টেনে ভেতরে আনলেন সহযাত্রীরা
গ্রিসের থেসালোনিকি থেকে জার্মানি যাওয়ার পথে রায়ানএয়ারের একটি বোয়িং ৭৩৭ বিমানে ভয়াবহ এক দুর্ঘটনা ঘটেছে। উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই মাঝআকাশে উড়োজাহাজটির একটি জানালা ভেঙে এক যাত্রী জানালার বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হন।
তবে সহযাত্রীদের সাহসী প্রচেষ্টায় প্রাণে বেঁচে গেছেন তিনি। এই ঘটনার পর বিমানটি গ্রিসের থেসালোনিকি বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়।
বিমানবন্দর সূত্র ও বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, শুক্রবার থেসালোনিকি থেকে জার্মানির মেমিংগেন বিমানবন্দরে যাওয়ার কথা ছিল রায়ানএয়ারের ফ্লাইটটির। কিন্তু উড্ডয়নের পরপরই ইঞ্জিনের একটি অংশ ভেঙে জানালার ওপর আছড়ে পড়ে। এতে জানালার কাঁচ ভেঙে যায় এবং কেবিনের ভেতরে বায়ুচাপ দ্রুত কমতে শুরু করে (ডিকম্প্রেশন)।
সার্বীয় সংবাদমাধ্যম রেডিও থেসালোনিকিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক যাত্রী জানান, জানালা ভেঙে যাওয়ার পর ভুক্তভোগী সার্বীয় নাগরিকের মাথা ও কাঁধ উড়োজাহাজের বাইরে চলে গিয়েছিল। দ্রুত সহযাত্রীরা তাকে টেনে ভেতরে নিয়ে আসেন। সার্বীয় কনস্যুলেট জানিয়েছে, ওই যাত্রীকে থেসালোনিকির এহেপা বিশ্ববিদ্যালয় জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার আঘাত গুরুতর হলেও তা প্রাণঘাতী নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) নিশ্চিত করেছে যে, দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি ছিল বোয়িং ৭৩৭ এনজি মডেলের। এটি বোয়িংয়ের বর্তমান বহুল আলোচিত 'ম্যাক্স' সিরিজের আগের সংস্করণ। ঘটনার সময় বিমানটি উত্তর মেসিডোনিয়ার আকাশসীমায় থাকায় সেখানকার কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। বোয়িং জানিয়েছে, তারা এই তদন্তে সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বিমানটির ইঞ্জিনের ভেতরের ফ্যান ব্লেডগুলো নেই এবং ইঞ্জিনের আবরণের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। প্রকৌশলীরা একে 'আনকন্টেইন্ড ইঞ্জিন ফেইলিওর' হিসেবে অভিহিত করছেন, যেখানে ইঞ্জিনের অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশ ভেঙে আবরণের বাইরে ছিটকে আসে।
ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, ওই একই উড়োজাহাজ গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সারায়েভো যাওয়ার পথেও কারিগরি কারণে থেসালোনিকিতে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছিল। তবে সেই ঘটনার কারণ এখন পর্যন্ত অস্পষ্ট।
রায়ানএয়ার এক বিবৃতিতে বলেছে, 'উড়োজাহাজটি স্বাভাবিকভাবে অবতরণ করেছে এবং যাত্রীদের নিরাপদে টার্মিনালে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।' তবে ইঞ্জিনের ত্রুটি বা জানালা ভাঙার নির্দিষ্ট কারণ নিয়ে তারা বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি। উল্লেখ্য, রায়ানএয়ার তাদের বোয়িং ৭৩৭ এনজি মডেলে সিএফএম ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানির তৈরি 'সিএফএম-৫৬' ইঞ্জিন ব্যবহার করে।
এই ঘটনাটি ২০১৮ সালে সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং ৭৩৭ এনজি বিমানের দুর্ঘটনার স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে। সেবার ইঞ্জিনের ফ্যান ব্লেড ভেঙে জানালা ভেঙে গেলে এক নারী যাত্রী জানালার বাইরে চলে গিয়েছিলেন এবং দুঃখজনকভাবে তার মৃত্যু হয়েছিল। ওই ঘটনার পর এফএএ ২০২৩ সালে বোয়িংকে ২০২৮ সালের জুলাইয়ের মধ্যে বিমানের ফ্যান কাউল (ইঞ্জিনের আবরণ) নতুনভাবে নকশা করার নির্দেশ দিয়েছিল।
২০১৮ সালের সেই ফ্লাইটের পাইলট ট্যামি জো শুল্টস এই ঘটনাটি শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, 'ইঞ্জিনের ত্রুটি থেকে এভাবে জানালার ক্ষতি হওয়া এবং ডিকম্প্রেশন ঘটা সত্যিই উদ্বেগের।' বর্তমানে তদন্তকারী দল থেসালোনিকিতে বিমানটি পরীক্ষা করে দেখছেন।
