সেলেসাওদের বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে ভাইকিংরা
আর্লিং হলান্ডের জাদুতে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ছিটকে দিল নরওয়ে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে জন্ম নিল অন্যতম বড় অঘটন।
শুরু থেকেই ম্যাচ ছিল হাড্ডাহাড্ডি। খেলার একেবারে শেষ দিকে অনবদ্য হেডে নরওয়েকে এগিয়ে দেন হালান্ড। তারপর পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে জোরালো নিচু শটে ব্রাজিলের গোলরক্ষক অ্যালিসনকে পরাস্ত করে দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
এই জোড়া গোলের সুবাদে গোল্ডেন বুট জেতার দৌড়ে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপেকে ছুঁয়ে ফেললেন নরওয়ের এই তারকা স্ট্রাইকার। তিনজনেরই নামের পাশে এখন সাতটি করে গোল।
ম্যাচের প্রথমার্ধে পেনাল্টি পেয়েছিল ব্রাজিল। কিন্তু ব্রুনো গিমারেসের সেই স্পট কিক রুখে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরিয়ান নিল্যান্ড। তবে অতিরিক্ত সময়ে আরও একটি পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। সেখান থেকে গোল করতে ভুল করেননি নেমার। যদিও সেই গোল কেবল ব্যবধান কমানোর কাজে এসেছে।
১৯৯০ সালের পর এত আগে কখনও বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়নি ব্রাজিলকে। অন্যদিকে প্রতিযোগিতায় কার্যত ইতিহাস গড়ল নরওয়ে। এই প্রথম বিশ্বকাপের এত দূর পৌঁছল ভাইকিংরা। শেষ চারে ওঠার লড়াইয়ে এবার তারা সামনে পাচ্ছে মেক্সিকো অথবা ইংল্যান্ডকে।
প্রথমার্ধ গোলশূন্যতে শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেয় ব্রাজিল। কিন্তু একাধিকবার গোলের দারুণ সুযোগ পেয়েও লিড নিতে পারেনি তারা। কিন্তু ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে ঠিকই সুযোগ পেয়ে ব্রাজিলের জালে এক গোল দিয়ে বসলেন আর্লিং হালান্ড। আর তাতেই এগিয়ে গেল নরওয়ে।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে নরওয়ের বিপক্ষে প্রথমার্ধ শেষে গোলশূন্য ছিল দুই দলই। প্রথমার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণে সেলেসাওরা অধিকাংশ সময় আধিপত্য দেখালেও পেনাল্টি মিস করে গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেছেন মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারেস।
বিরতির পর নরওয়ে দলে দুটি পরিবর্তন এসেছে । আলেক্সান্দার সরলথ ও আন্তোনিও নুসার জায়গায় মাঠে নেমেছেন অস্কার বব ও আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপ। অন্যদিকে গোলের সন্ধানে থাকা ব্রাজিল ৫৮ মিনিটে মাতেউস কুনিয়ার বদলে মাঠে নামিয়েছে এনদ্রিককে।
মাঠে নেমেই গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন এনদ্রিক। কিন্তু ৬০ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের অসাধারণ পাসে গোলরক্ষককে এক পেয়েও বল জালে জড়াতে পারেননি তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ম্যাচটি।
ম্যাচের ১২ মিনিটে নরওয়ের ডি বক্সে ক্রিস্টোফার আয়ার ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার ম্যাথিউস কুনিয়াকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। কিন্তু সেই পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন ব্রুনো গিমারেস। নিজের বাঁ দিকে ঝাপিয়ে ব্রুনোর শট ঠেকান নরওয়েজিয়ান গোলকিপার ওর্জান নায়ল্যান্ড।
এর আগে নরওয়ের একটি গোল অফসাইডের জন্য বাতিল হয়।
এই ম্যাচের জয়ী দল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড-মেক্সিকো ম্যাচের জয়ী দলের মুখোমুখি হবে।
