বাংলাদেশ অংশ না নিলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে পাকিস্তানও সরে যেতে পারে
ভারতে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচ খেলতে না যাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ যে অবস্থান নিয়েছে, সেটির সুরাহা না হলে পাকিস্তানও এবারের আসরে খেলবে কি না, তা পুনরায় বিবেচনা করবে। এতে পুরো পরিস্থিতি এখন আরও ঘোলাটে হয়ে উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিরাপত্তার কারণে ভারতে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় কূটনৈতিক ও ক্রিকেট–সংক্রান্ত সমর্থন চেয়েছে ঢাকা।
একটি সূত্র জানায়, বাংলাদেশ সরকার আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে সমর্থন চাইতে পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, 'পাকিস্তান আমাদের জানিয়েছে যে যদি বাংলাদেশের বিষয়টি সুরাহা না হয়, তাহলে তারাও বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে পারে।'
পাকিস্তানের গণমাধ্যম জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে দল না পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থানকে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছে পিসিবি। পাকিস্তান মনে করে, বাংলাদেশের দাবি যুক্তিসংগত এবং তা পূরণ করা উচিত।
পাকিস্তানের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) জন্য চাপ আরও বাড়িয়েছে।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কথা। এবারের টুর্নামেন্ট যৌথভাবে আয়োজন করবে ভারত ও শ্রীলঙ্কা।
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। ওই সময় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। এর পর থেকে বাংলাদেশ সরকার একাধিকবার অনুরোধ জানালেও ভারত সরকার তাকে ফেরত দেয়নি। এতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও চাপের মুখে পড়ে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ক্রিকেট সম্পর্কেও বেশ অগ্রগতি হয়েছে।
এদিকে ভারতে বাংলাদেশের খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পর থেকেই আইসিসির সঙ্গে অনলাইনে বৈঠক হচ্ছিল বিসিবির। এর মধ্যেই বাংলাদেশের সঙ্গে বৈঠক করতে গতকাল শনিবার ঢাকায় আসেন আইসিসির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের জেনারেল ম্যানেজার অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ।
পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আইসিসির দুই প্রতিনিধির সঙ্গে বিসিবির বৈঠকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বিসিবি আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসির কাছে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের অনুরোধ জানায়।
