২২০ আসনে নির্বাচন করতে পারে জামায়াত, ১০ দলীয় জোটের চূড়ান্ত আসন বণ্টনের ঘোষণা কাল
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোট ইতোমধ্যে ২৫৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। অবশিষ্ট ৪৭টি আসন মূলত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জন্য রাখা হয়েছিল, তবে সেই আসনগুলোর বণ্টন নিয়ে শরিকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতের মধ্যে এই আলোচনা শেষ করে সোমবার আসন বণ্টনের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে।
জোটের কয়েকটি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব 'দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড'কে জানিয়েছে, ইসলামী আন্দোলনের এই জোটে আসার কোনো সম্ভাবনা আপাতত নেই। ফলে তাদের জন্য রাখা ৪৭টি আসনের অধিকাংশ এখন জামায়াত ও অন্যান্য শরিকদের মধ্যে বণ্টিত হবে। জামায়াত এই ৪৭টি আসন থেকে শরিকদের সর্বোচ্চ ১০টি আসন ছাড়তে পারে। এসব আসনের প্রায় সবগুলোতে শরিকদের তুলনায় জামায়াতের অবস্থান শক্তিশালী হওয়ায় দলটির চূড়ান্ত আসন সংখ্যা ২২০ হতে পারে। এছাড়া এনসিপির আসন সংখ্যা ৩০ থেকে বেড়ে ৩৩-এ উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাকি আসনগুলো অন্য শরিকরা পেতে পারে।
এর আগে গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেছিলেন, 'ইসলামী আন্দোলনের জন্য জোটের দরজা খোলা আছে।' তবে রোববার জামায়াতের একাধিক নেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, ইসলামী আন্দোলনের ফেরার বিষয়ে বর্তমানে নেতিবাচক অবস্থানে আছে জামায়াত। দলটির নেতারা মনে করছেন, তাদের ফেরার আর কোনো সম্ভাবনা নেই।
এ বিষয়ে রোববার বিকেলে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল টিবিএসকে বলেন, 'রোববার রাতের মধ্যেই আমাদের ১০ দলীয় জোটের আসন বন্টনের বর্ধিত আলোচনা শেষ হবে। সোমবার চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে।'
সম্মিলিত ইশতেহারের বিষয়ে তিনি জানান, প্রতিটি দলেরই নিজস্ব ইশতেহার প্রায় তৈরি। এখন জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বসে এই সময়ের মধ্যে একটি অভিন্ন ইশতেহার চূড়ান্ত করবেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে জামায়াতের সাথে মূলত তিনটি দল দরকষাকষি করছে। দলগুলো হল— এনসিপি, মাওলানা মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং খেলাফত মজলিস। এই তিনটি দলের প্রতিটিই ১০টি করে অতিরিক্ত আসন দাবি করছে। তবে জামায়াত সূত্র জানিয়েছে, তারা প্রতিটি দলকে সর্বোচ্চ ২ থেকে ৩টি করে অতিরিক্ত আসন ছাড়তে পারে।
