আপিল শুনানিতে দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিদের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ এনসিপির
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আপিল শুনানিতে দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিদের প্রার্থিতা বৈধ করার প্রচেষ্টার অভিযোগ তুলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংবিধান ও আইন লঙ্ঘন করে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হলে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন এনসিপির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ বলেন, 'আমরা লক্ষ্য করছি নির্বাচন কমিশন পুরোনো বন্দোবস্তের আভাস দিচ্ছে। কোনো কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের ক্ষেত্রে কমিশন নমনীয়তা প্রদর্শন করছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অশনি সংকেত। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আগামীকাল (রোববার) হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের জন্য রেড লাইন। এই সময়ের মধ্যে যদি আইন ও সংবিধানের সঠিক প্রতিফলন না ঘটে, তবে আমরা এক মুহূর্তও ছাড় দেব না।'
সংবাদ সম্মেলনে দলটির আইনি সহায়তা উপকমিটির সদস্য জহিরুল ইসলাম মুসা সারাদিনের শুনানির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অভিযোগ করেন, 'সংবিধানের ৬৬ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দ্বৈত নাগরিকরা সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য হলেও কমিশন তাদের বিষয়ে নতুন করে ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করছে।'
মুসা আরও বলেন, 'বিএনপি মনোনীত অনেক প্রার্থী সরাসরি ঋণখেলাপি হওয়া সত্ত্বেও তাদের তথ্য গোপন করে বৈধতা পাওয়ার চেষ্টা করছেন।' বিশেষ করে কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির এক প্রার্থীর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, 'তিন ব্যাংকের স্বীকৃত ঋণখেলাপি হওয়া সত্ত্বেও রিটার্নিং অফিসার তাকে বৈধ ঘোষণা করেছিলেন, যা পরে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে বাতিল করতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু চট্টগ্রামের আসলাম চৌধুরীর মতো প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কমিশনের মনোভাব ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।'
সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন চত্বরে বিএনপির প্রার্থীরা শত শত কর্মী ও আইনজীবী নিয়ে এসে চাপের সৃষ্টি করছেন।
তিনি বলেন, 'ইসি চত্বরে বিএনপির দ্বৈত নাগরিক প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টু আমাদের আইনজীবীদের ওপর চড়াও হয়েছেন এবং 'ব্লাডি সিটিজেন' বলে গালি দিয়েছেন। আমরা ব্লাডি সিটিজেন হতে পারি, কিন্তু ব্লাডি ফরেনার নই। যারা বিদেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন, তাদের বাংলাদেশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার অধিকার নেই।'
এনসিপি নেতারা জানান, তারা নির্বাচন কমিশনকে শুরু থেকে সহযোগিতা করে আসলেও ইসির বর্তমান একপাক্ষিক অবস্থান তাদের হতাশ করেছে।
আসিফ মাহমুদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'যদি কোনো ফাঁকফোকর দিয়ে অযোগ্যদের পার করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তবে আমরা আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথে লড়াই চালাব। প্রয়োজনে প্রতিটি নির্বাচনি আসনে তাদের প্রতিরোধ করা হবে।'
এক প্রশ্নের জবাবে আসিফ মাহমুদ বলেন, ''আমরা দায়সারা বা 'সেটেলড' নির্বাচন চাই না। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর কোনো প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহিতার বাইরে থাকতে দেওয়া হবে না।''
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিনসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
