কর্মচারীকে বাঁচাতে গিয়ে গাজীপুরে রেস্তোরাঁমালিক খুন, আটক ৩
গাজীপুরের কালীগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারধরের সময় কিশোর কর্মচারীকে বাঁচাতে গিয়ে এক রেস্তোরাঁমালিকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে কালীগঞ্জ পৌরসভা সংলগ্ন বৈশাখী সুইটমিট অ্যান্ড হোটেলে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত এক দম্পতি ও তাদের সন্তানসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত ব্যবসায়ীর নাম লিটন চন্দ্র ঘোষ ওরফে কালি (৫৫)। তিনি কালীগঞ্জ থানার চান্দাইয়া এলাকার নির্মল চন্দ্র ঘোষ ওরফে কালুর ছেলে এবং ওই রেস্তোরাঁর মালিক।
আটককৃতরা হলেন—মোহাম্মদ স্বপন মিয়া (৫৫), তার স্ত্রী মাজেদা খাতুন (৪৫) ও ছেলে মাসুম মিয়া (২৮)। তাদের বাড়ি কালীগঞ্জ উপজেলার বালীগাঁও এলাকায়।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করেছে এবং তিনজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। নিহতের মুখ ও বুকে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বুকে আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পুলিশ, নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার একদিন আগে কালীগঞ্জ পৌরসভার বালীগাঁও এলাকায় স্বপন মিয়ার বাগান থেকে একটি কলার ছড়ি চুরি হয়। শনিবার বেলা ১১টার দিকে স্বপন মিয়ার ছেলে মাসুম ওই হোটেলে গিয়ে একটি কলার ছড়ি দেখতে পান এবং সেটি তাদের বাগান থেকে চুরি হওয়া বলে দাবি করেন। এ নিয়ে হোটেলের কিশোর কর্মচারী অনন্ত দাসের (১৭) সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
এ সময় মাসুমের বাবা স্বপন মিয়া ও মা মাজেদা খাতুন ঘটনাস্থলে এসে মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি শান্ত করতে হোটেল মালিক লিটন চন্দ্র ঘোষ এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার মুখ ও বুকে গুরুতর আঘাত করা হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
এ বিষয়ে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন বলেন, 'এটি একটি দুঃখজনক ও বিচ্ছিন্ন ফৌজদারি ঘটনা। ঘটনার সঙ্গে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক বা সংখ্যালঘু সংশ্লিষ্ট বিষয় নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং কেউ যেন ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। অপরাধ যেই করুক, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
