তামিমকে দেখতে হাসপাতালে সাকিবের বাবা-মা

ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শুরুতে তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের মধ্যে ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, যা সময়ের সঙ্গে কিছুটা দূরত্বে রূপ নেয়। তবে তামিমের হঠাৎ অসুস্থতার খবরে সেই দূরত্ব যেন কমে এসেছে। সোমবার হার্ট অ্যাটাক করে হাসপাতালে ভর্তি হন তামিম। বন্ধুর অসুস্থতার খবরে মন খারাপ সাকিবের, নিজের জন্মদিনে তামিমের দ্রুত সুস্থতার জন্য শুভ কামনা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন দেশের ইতিহাসের সেরা এই অলরাউন্ডার।
মঙ্গলবার সকালে তামিমকে দেখতে কেপিজে স্পেশালাইজড হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজে যান সাকিবের বাবা খন্দকার মাসরুর রেজা ও মা শিরিন রেজা। হার্ট অ্যাটাক করে হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকেই নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন তামিম। সোমবার পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার হার্টে রিং পরানো হয়। চিকিৎসকরা জানান, তার অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে।
তামিমের সঙ্গে দেখা করে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সাকিবের বাবা-মা। সাকিবের বাবা মাসরুর রেজা বলেন, 'তামিম সুস্থ আছে। আশা করি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাসায় ফিরতে পারবে। ইকবাল ভাইতো (তামিমের বাবা) আমার খেলার বন্ধু। ফলে তামিমের বাবার বিয়ের আগেই তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক। তামিম আমার সন্তান, তার এই খবরে অস্থিরতার মধ্যে ছিলাম।'
সাকিবের মা শিরিন রেজা বলেন, 'আল্লাহ রহমত করেছেন। দেশের মানুষের দোয়া ছিল। সব কিছু মিলিয়ে তামিম এখন ভালো আছে। মা হিসেবে আমার কাছে এই খবরটি স্বস্তির।'
কেপিজে স্পেশালাইজড হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজের কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিটের (সিসিইউ) দায়িত্বরত চিকিৎসক মনিরুজ্জামান মারুফ তামিমের বর্তমান অবস্থা জানাতে গিয়ে বলেন, 'তামিম এখন ভালো আছেন। অল্প অল্প হাঁটাচলা করছেন, হাসিখুশি আছেন। অল্প কিছুক্ষণের জন্য তাকে কেবিনে দেওয়া হয়েছিল। পরিবারের সঙ্গে দেখা করে আবার সিসিইউতে নেওয়া হয়েছে।'
তামিম ৪৮ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। দুপুরের দিকে কিছু পরীক্ষার পর পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হতে পারে। তবে পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
সোমবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে বিকেএসপিতে তামিমের দল মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ম্যাচ ছিল শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে। ম্যাচটি খেলতে বিকেএসপিতে যান দলের নেতৃত্বে থাকা তামিম, টসও করেন। কিন্তু এরপরই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। দ্বিতীয় দফায় হাসপাতালে যাওয়ার পর তাকে ঢাকা আনার জন্য হেলিকপ্টারও নেওয়া হয়। কিন্তু হেলিকপ্টারে তোলার মতো অবস্থা ছিল না বলে তামিমকে সেখানেই চিকিৎসা দেওয়া হয়।