‘একদম নড়াচড়া কোরো না’: অস্ট্রেলিয়ায় ঘুম ভাঙতেই নারী দেখলেন গায়ের ওপর বিশাল অজগর!
সোমবার মাঝরাতের ঘটনা। বিছানায় নড়েচড়ে উঠতেই র্যাচেল ব্লুর মনে হলো, তার বুকের ওপর ভারী কিছু একটা কুণ্ডলী পাকিয়ে আছে।
আধো ঘুমে তিনি ভেবেছিলেন ওটা হয়তো তার পোষা কুকুর। আদরের হাত বাড়িয়ে দিলেন। কিন্তু কুকুরের লোমের বদলে হাতে লাগল মসৃণ ও পিচ্ছিল কিছু একটা।
ভয়ে তিনি কম্বলটা টেনে নিলেন গলা পর্যন্ত। ঠিক তখনই তার সঙ্গী বাতি জ্বালালেন। ব্রিসবেনের এই দম্পতির আতঙ্ক তখন বাস্তবে রূপ নিল।
বিবিসিকে ব্লুর বলেন, 'ও আমাকে বলল, "একদম নড়াচড়া কোরো না। তোমার ওপর প্রায় আড়াই মিটার লম্বা একটা অজগর বসে আছে।''
শুনেই মুখ দিয়ে বেরিয়ে এল গালি। এরপরই তিনি নির্দেশ দিলেন, আগে কুকুরগুলোকে সরাও।
'আমার মনে হয়েছিল, ডালমেশিয়ান কুকুরটা যদি একবার টের পায় যে এখানে সাপ আছে... তবে লঙ্কাকাণ্ড ঘটে যাবে।'
কুকুরগুলোকে ঘরের বাইরে নিরাপদে রাখা হলো। ব্লুরের স্বামীর হয়তো তখন ইচ্ছে হচ্ছিল তিনিও কুকুরগুলোর সঙ্গে বাইরে থাকলে ভালো হতো! এর মধ্যেই ব্লুর খুব সাবধানে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা শুরু করলেন।
'আমি শুধু লেপের নিচ থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছিলাম। আর মনে মনে ভাবছিলাম, এসব কি সত্যিই ঘটছে? এ এক অদ্ভুত ভুতুড়ে পরিস্থিতি।'
এটি ছিল একটি কার্পেট পাইথন। ব্লুর মনে করেন, জানালার খড়খড়ি বা শাটারের ফাঁক গলে সাপটি ভেতরে ঢুকেছে এবং নিচে থাকা বিছানায় এসে পড়েছে।
সাপের কবল থেকে মুক্ত হয়ে তিনি বেশ স্বাভাবিকভাবেই সাপটিকে বের করে দেওয়ার কাজে লেগে গেলেন। যে পথে এসেছিল, সে পথেই ওটাকে ফেরত পাঠাতে শুরু করলেন।
'সাপটা এতই বড় ছিল যে আমার বুকের ওপর কুণ্ডলী পাকিয়ে থাকার পরও এর লেজের কিছুটা অংশ জানালার বাইরেই ঝুলে ছিল।'
'আমি ওটাকে ধরেছিলাম। তবুও সাপটাকে খুব একটা ভীত মনে হলো না। ওটা আমার হাতে শুধু একটু নড়াচড়া করছিল।'
ব্লুরের স্বামী অবশ্য ভয়ে পাথর হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু ব্লুর নিজে খুব একটা বিচলিত হননি। কারণ খোলামেলা বিশাল জায়গায় সাপের উপদ্রবের মধ্যেই তিনি বড় হয়েছেন।
'আমার মনে হয়, আপনি শান্ত থাকলে ওরাও শান্ত থাকে।'
তবে সাপ না হয়ে যদি ওটা 'কেইন টোড' বা একজাতের বড় ব্যাঙ হতো, তবে গল্পটা অন্যরকম হতো। অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম ক্ষতিকর ও কুৎসিত এই প্রাণীটিকে তিনি সহ্য করতে পারেন না।
'ওগুলো আমি একদম সহ্য করতে পারি না। দেখলেই আমার বমি পায়। তাই ওটা কেইন টোড হলে আমি সত্যিই ভয় পেতাম।'
শেষ পর্যন্ত কারও কোনো ক্ষতি হয়নি।
কার্পেট পাইথনের বিষ নেই তবে এরা শিকারকে পেঁচিয়ে ধরে মেরে ফেলে। অস্ট্রেলিয়ার উপকূলীয় এলাকায় এদের সচরাচর দেখা যায়। এরা সাধারণত পাখির মতো ছোট প্রাণী খেয়ে থাকে।
