শীতে বাইরে বেরোলেই কি ঠান্ডা লেগে যেতে পারে?
শীতের দিনে বেশিক্ষণ বাইরে থাকলেই সর্দি-কাশিতে ভুগতে হবে, এই সতর্কবাণী আমরা ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি।
তবে, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ভ্যাকসিন ইমিউনোলজি বিভাগের অধ্যাপক জন ট্রেগোনিং এই ভুল ধারণা ভাঙিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, 'শীতের সঙ্গে সর্দির যোগসূত্র আছে, কিন্তু বাইরের আবহাওয়ার কারণেই যে সরাসরি ঠান্ডা লাগে, বিষয়টি তা নয়।'
এর পেছনে সূর্যের আলোর একটি ভূমিকা আছে। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ভাইরাস মেরে ফেলতে ওস্তাদ। যেমন—গ্রীষ্মকালে বাইরে হাঁচি দিলে ভাইরাসের কণাগুলো কড়া রোদের সংস্পর্শে আসে এবং দ্রুত শুকিয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। শীতে রোদের তেজ কম থাকে বলে ভাইরাসরা টিকে থাকার সুযোগ পায়।
তবে আসল সমস্যাটা আমাদের জীবনযাপনে। শীতকালে আমরা বাইরের চেয়ে ঘরের ভেতর বেশি সময় কাটাই। জানালা-দরজা বন্ধ থাকায় বাতাস চলাচল কম হয় এবং মানুষ একে অপরের খুব কাছাকাছি থাকে। ফলে একজনের শরীর থেকে আরেকজনের শরীরে ভাইরাস ছড়ানোর সুযোগ পায় বেশি।
'লিভ ফরেভার? আ কিউরিয়াস সায়েন্টিস্টস গাইড টু ওয়েলনেস, এজিং অ্যান্ড ডেথ' বইয়ের লেখক ট্রেগোনিং বলেন, 'শীতের বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন সর্দি ও ফ্লুর ভাইরাস মাথাচাড়া দেয়। যেমন স্কুল খোলার পর বাচ্চারা যখন ছোট বদ্ধ ক্লাসরুমে গাদাগাদি করে বসে, তখন রাইনোভাইরাসের প্রকোপ বাড়ে। আবার আরএসভি (বয়স্ক ও শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ একধরনের সর্দির ভাইরাস) সাধারণত নতুন বছরের শুরুর দিকে বেশি ছড়ায়।'
মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চললে যে রোগ কমে, তার বড় প্রমাণ কোভিড-১৯ মহামারি। লকডাউনের সময় মানুষের মেলামেশা বন্ধ থাকায় অনেক ভাইরাস প্রায় উধাও হয়ে গিয়েছিল। এমনকি ফ্লু-এর একটি বিশেষ ধরন তো ছড়াতে না পেরে পৃথিবী থেকেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
তবে অতিরিক্ত ঠান্ডা আবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। ট্রেগোনিং সতর্ক করে বলেন, 'কেউ যদি সবসময় শীতে জবুথবু হয়ে থাকেন এবং শরীর খুব বেশি ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তবে তার সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।'
গবেষণায় দেখা গেছে, রাইনোভাইরাস কম তাপমাত্রায় কিছুটা ভালো জন্মায়। আবার নাকের ভেতর ঠান্ডা বাতাস ঢুকলে ভাইরাসের বিরুদ্ধে শরীরের যে স্বাভাবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা, তা সামান্য দুর্বল হয়ে পড়ে।
এই আপদ থেকে বাঁচার উপায় নিয়েও জানালেন ট্রেগোনিং। সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হলো শীতকালীন ভাইরাস, যেমন ফ্লু এবং আরএসভির টিকা নেওয়া। ট্রেগোনিং বলেন, 'টিকা শুধু সংক্রমণই ঠেকায় না, এর আরও অনেক উপকারিতা আছে। যেমন এটি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে।'
