কফি পান কি সত্যিই হজমে সাহায্য করে?
খাবার খাওয়ার পর এক কাপ কফি সত্যিই হজমে সাহায্য করে কিনা তা নিয়ে রয়েছে নানান বিতর্ক। কিংস কলেজ লন্ডনের ডায়েটিশিয়ান ড. এমিলি লেমিং বলেন, 'কিছু মানুষের জন্য অবশ্যই উপকারী। তবে সব সময় এটি ভালো নাও হতে পারে।'
তিনি ব্যাখ্যা করেন, কফি বা ক্যাফেইন অন্ত্রকে উদ্দীপিত করে এবং পেশির সংকোচন বাড়ায়। এর ফলে অনেকের ক্ষেত্রে খাবার হজমতন্ত্রের ভেতর দিয়ে 'নির্ধারিত গতিতে' চলে যেতে পারে।
লেমিং বলেন, 'কারও যদি হজম প্রক্রিয়া কিছুটা ধীরগতির থাকে, তবে এটি বেশ সাহায্য করতে পারে। কিন্তু যাদের ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোমের (আইবিএস) মতো সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি উল্টো ফল দিতে পারে। এতে হজমের গতি খুব বেড়ে যায় এবং অস্বস্তি সৃষ্টি হতে পারে।'
কফির প্রভাব শুধু হজমের গতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নিয়মিত কফি পান সামগ্রিক অন্ত্রের স্বাস্থ্য বা 'গাট হেলথ'-এর জন্যও ভালো। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত কফি পানকারীদের অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম (হজম ও পুষ্টি শোষণে সাহায্যকারী অণুজীব) অন্যদের চেয়ে ভিন্ন হয়। তাদের দেহে সুস্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু অণুজীবের সংখ্যা বেশি থাকে। কফি হলো 'পলিফেনল' নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগের একটি প্রধান উৎস। এই অণুজীবগুলো পলিফেনল খেয়েই বাঁচে। এ ছাড়া কফিতে সামান্য পরিমাণে ফাইবার বা আঁশও থাকে।
অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য কফি পান করার সঠিক সময় জানা জরুরি। কারণ অন্ত্রের স্বাস্থ্যের সঙ্গে আমাদের শরীরের সব সিস্টেমের সম্পর্ক আছে।
ক্যাফেইনের প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে থাকে। কিছু মানুষের শরীরে এটি ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকতে পারে এবং ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। ড. লেমিং বলেন, 'আর ঘুম কম হলে অন্ত্রের স্বাস্থ্য খারাপ হয়।' রাতে ভালো ঘুম না হলে সকালে ঝিমুনি আসে, যা অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়ায়। এতে অন্ত্রের স্বাস্থ্যের ওপর আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
তাই তিনি দুপুর ১২টার আগে ক্যাফেইনযুক্ত কফি পান করার এবং দুপুরের পর ডিক্যাফ বা ভেষজ চা পান করার পরামর্শ দেন।
