রশিদ খানের রেকর্ডের ম্যাচে আসিফ ঝড়ে হারল আফগানিস্তান
আগে ব্যাটিং করে মাঝারি স্কোর গড়ে বল হাতেও দারুণ ছন্দে এগোতে থাকলো আফগানিস্তান। বাবর আজম পাকিস্তানকে এগিয়ে নিতে থাকলেও লড়াই থামালো না আফগানরা। মোহাম্মদ হাফিজ, বাবরকে ফেরানোর পথে হয়ে গেল রশিদ খানের দ্রততম ১০০ টি-টোয়েন্টি উইকেটের রেকর্ড, ম্যাচ উঠলো জমে। কিন্তু ১৯তম ওভারে এক হাতেই সব শেষ করে দিলেন আসিফ আলী। ৪ ছক্কায় পাকিস্তানকে দারুণ এক জয় এনে দিলেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।
জয়ের জন্য ১২ বলে ২৪ রান দরকার ছিল পাকিস্তানের। করিম জানাতের করা ১৯তম ওভারে দুটি ডট দিলেন ম্যাচসেরা আসিফ, কিন্তু বাকি চার বলেই ছক্কা। ৬ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পাকিস্তান। শুক্রবার দুবাইয়ে সুপার লিগে ২ নম্বর গ্রুপের ম্যাচে আফগানিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে বাবর আজমের দল। বিশ্বকাপে দুরন্ত হয়ে ওঠা পাকিস্তানের এটা টানা তৃতীয় জয়। এই জয়ে সেমি-ফাইনালে এক পা দিয়ে রাখল তারা।
টস জিতে আগে ব্যাটিং করতে নামে আপগানিস্তান। শুরুর ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ হলেও দলকে পথ হারাতে দেননি অধিনায়ক মোহাম্মদ নবী ও গুলবাদিন নাইব। এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের অপরাজিত ইনিংসে ৬ উইকেটে ১৪৭ রান করে আফগানরা। জবাবে অধিনায়ক বাবর আজম ও ফকর জামানের পর আসিফ আলীর শেষের ঝড়ে ১৯ ওভারে ৫ উইকেট জয় তুলে নেয় পাকিস্তান।
লড়াই করে হেরে যাওয়া এই ম্যাচে দারুণ এক কীর্তি গড়েছেন রশিদ খান। টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের দ্রুততম বোলার হিসেবে ১০০টি উইকেটের মালিক হয়েছেন আফগান এই তারকা লেগ স্পিনার। এই রেকর্ড গড়তে রশিদের লাগলো ৫৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। তার উইকেট এখন ১০১টি, যা সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির তালিকায় তৃতীয়। ১০৭ উইকেটের মালিক লঙ্কান সাবেক পেসার লাসিথ মালিঙ্গা ৭৬ ম্যাচে ১০০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়েছিলেন। ১১৭ উইকেট নিয়ে শীর্ষে থাকা সাকিব আল হাসানের লেগেছিল ৮৪টি ম্যাচ।
জয়ের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই আউট হন মোহাম্মদ রিজওয়ান। পরে বাবর আজম ও ফকর জামান মিলে দলকে অনেকটা এগিয়ে দেন। ফকর ৩০ রান করে আউট হলেও বাবর তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরি। ৪৭ বলে ৪টি টারে ৫১ রান করেন তিনি। এরপর মোহাম্মদ হাফিজ ১০ ও শোয়েব মালিক ১৯ রান করে আউট হওয়ার পর মাত্র ৭ বলে ৪টি ছক্কায় অপরাজিত ২৫ রান করে দলকে জেতান ম্যাচসেরা আসিফ আলী। রশিদ খান ২টি এবং মোহাম্মদ নবী, মুজিব-উর-রহমান ও নাভিন-উল-হক একটি করে উইকেট নেন।
এর আগে ব্যাটিং করা আফগানিস্তানের হয়ে কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। সর্বোচ্চ ৩৫ রান করে করেন নবী ও গুলবাদিন। এ দুই ব্যাটসম্যানই অপরাজিত থাকেন। এ ছাড়া রহমানউল্লাহ গুরবাজ ১০, আজগর আফগান ১০, করিম জানাত ১৫ ও নাজিবুল্লাহ জাদরান ২২ রান করেন। পাকিস্তানের ইমাদ ওয়াসিম ২টি এবং শাহিন শাহ আফ্রিদি, হারিস রউফ, হাসান আলী ও শাদাব খান একটি করে উইকেট নেন।
