২৪ বছর আগের যে মামলায় স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া তোফায়েলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
অবৈধভাবে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুই যুগ আগে দায়ের করা মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদসহ দুই জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আসামিরা পলাতক থাকায় ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ বেগম শামীমা আফরোজ গত ১৯ এপ্রিল এ পরোয়ানা জারি করেন।
মঙ্গলবার (৫ মে) মামলাটিতে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল। এদিন তোফায়েল আহমেদের অসুস্থতার কথা জানিয়ে তার আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার আদালতের কাছে একটি আবেদন জমা দেন।
আবেদনে আইনজীবী উল্লেখ করেন, 'তোফায়েল আহমেদ কাউকে চিনতে পারেন না। তার স্মৃতিশক্তি নেই। আদালতে উপস্থিত হয়ে মামলার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে শারীরিকভাবে অক্ষম।'
এমতাবস্থায় তোফায়েল আহমেদের মানসিক অবস্থা পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়ার প্রার্থনা জানানোর পাশাপাশি অভিযোগ গঠন শুনানি পেছাতেও আবেদন করেন আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার। আদালত আবেদনটি আমলে নিয়ে বিষয়টি আগামী বৃহস্পতিবার (৭ মে) আদেশের জন্য রেখেছেন এবং সেদিনই অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন পুনরায় ধার্য করেছেন।
এই মামলার অন্য দুই আসামি হলেন— মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম এবং মোশাররফ হোসেন। তিন আসামির মধ্যে মোশারফ হোসেন বর্তমানে জামিনে থেকে আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে ২০০২ সালে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোর পরিদর্শক কাজী শামসুল ইসলাম এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, 'তোফায়েল আহমেদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্জিত ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা গোপন করার উদ্দেশ্যে সহযোগীদের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর ও উত্তোলন করেন।'
এজাহারে আরও দাবি করা হয়, 'ম্যাডোনা অ্যাডভারটাইজিং লিমিটেডের প্রধান হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম এবং ভোলার মোশারফ হোসেনের সঙ্গে যোগসাজশে সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল কর্পোরেট শাখা থেকে বিভিন্ন সময়ে মোট ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে ওই অর্থ উত্তোলন করা হয়।'
মামলাটির তদন্ত শেষে তিন জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। তবে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে দীর্ঘ সময় মামলার কার্যক্রম স্থগিত ছিল। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হওয়ায় মামলার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, 'দুই আসামি পলাতক থাকায় গত ১৯ এপ্রিল তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এদিন মামলার অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল।'
শুনানি চলাকালে তোফায়েল আহমেদের আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার আদালতকে জানান, তার মক্কেল দীর্ঘ দিন ধরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন। মানসিক অসুস্থতার কারণে তার স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়েছে, ফলে তিনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি।
তবে আসামিপক্ষের আবেদনটির বিরোধিতা করে দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আসামি পলাতক থাকা অবস্থায় এ ধরনের আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। আবেদন করতে হলে আসামিকে সশরীরে আদালতে হাজির হতে হবে। আদালত তাৎক্ষণিকভাবে আবেদনটি মঞ্জুর না করে আদেশের জন্য পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতা নিয়ে ৮২ বছর বয়সী তোফায়েল আহমেদ ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সেই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর গুজবও ছড়িয়ে পড়েছিল।
