ফ্ল্যাট দখলের চেষ্টা: বিএনপি নেতা গিয়াস কাদেরের দুই ছেলেসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
রাজধানীর গুলশানে এক শিল্পপতির ফ্ল্যাট দখলের সময় তার স্ত্রী-সন্তানদের মারধর, ভাঙচুর, লুটপাট ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর দুই ছেলে সামির কাদের চৌধুরী এবং শাকির কাদের চৌধুরীসহ চার জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ'র আদালত এই আদেশ দেন।
বাকি দুজন হলেন- মনিরা এরশাদ ও আশিকুর রহমান আশিক।
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ভাই গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী তিনিও এই মামলার আসামি।
বাদী পক্ষের আইনজীবী জাকির হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, মামলাটিতে আজকে ধার্য তারিখ পর্যন্ত আসামিরা জামিনে ছিলেন। তবে আজকে এই আসামিরা আদালতে উপস্থিত না হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে সময়ের আবেদন করেন।
তিনি বলেন, বাদীপক্ষ থেকে আমরা এর বিরোধিতা করি। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা দীর্ঘদিন যাবৎ বাদীর আবাসিক ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট জোর করে দখলের চেষ্টা করে আসছে।
গত বছরের ৩ ডিসেম্বর বেলা অনুমান সাড়ে ১১ টায় আসামিরা অন্যান্য আসামিদের নেতৃত্বে দিয়ে বাদীর ৬ তলা বিল্ডিংয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে বে-বেআইনিভাবে প্রবেশ করেন। এসময় তারা বাদীর অফিস রুমের দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে চেয়ার, টেবিল, ফ্যাক্স মেশিন, প্রিন্টার, রাউটার ও অফিসের অন্যান্য পাঁচ লাখ টাকার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র মিনি পিক-আপে উঠিয়ে নিয়ে যায় এবং আরও দুই লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে।
পরদিন বিল্ডিংয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোর ঠিক করতে গেলে আসামিরা লোহার রড, লোহার পাইপ, কাঠের লাঠি, লোহার হাতুড়ি ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অনধিকার প্রবেশ করে বাদীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য প্রাণনাশের ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়।
আরও বলা হয়, আসামিদের এরকম আচরণ করতে নিষেধ করলে বাদীকে এলোপাথারীভাবে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। আসামিদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য বাদীর ছেলে এগিয়ে আসলে আসামিরা তাদের হাতে থাকা কাঠের লাঠি, লোহার রড, লোহার পাইপ ও হাতুড়ি দিয়ে এলোপাথারীভাবে পিটিয়ে তার পিঠে, কোমরে, মাথায়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। বাদীর চিৎকার শুনে আশপাশের মানুষ এগিয়ে আসলে আসামিরা তাদেরও আঘাত করেন৷
পরবর্তীতে বাদীর ছেলে সরকারি জরুরি সেবা ৯৯৯- এ কল করে গুলশান থানা পুলিশের কাছে সহযোগিতা চাইলে তারা এগিয়ে আসে। স্থানীয় লোকজনদের সহযোগিতায় বাদী ও তার ছেলেসহ অন্যান্যরা কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
ওই ঘটনায় গত বছরের ১০ ডিসেম্বর গুলশান থানায় ফারজানা আন্না ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
