রাজশাহীতে সরকারি কলেজে বিএনপি নেতার সঙ্গে হাতাহাতি: সেই নারী প্রদর্শক বহিষ্কার
রাজশাহীর দুর্গাপুরের দাওকান্দি সরকারি কলেজে এক বিএনপি নেতার সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনায় আলোচিত প্রদর্শক আলেয়া খাতুন হীরাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রাজশাহী আঞ্চলিক মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে দুর্গাপুর দাওকান্দি ডিগ্রি কলেজে শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা শেষে রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর মোহা. আছাদুজ্জমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, 'কলেজ জাতীয়করণ হলেও প্রদর্শক আলেয়া খাতুন হীরা এমপিওভুক্তির অধীনেই আছেন। তদন্তের স্বার্থে তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনার পুরো বিষয়টি সবার কাছ থেকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানতে চাওয়া হয়েছে।'
এদিকে, দাওকান্দি সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ড. আব্দুর রাজ্জাক ও প্রদর্শক আলেয়া খাতুনের বিরুদ্ধে অপশাসনের অভিযোগ তুলে তাদের দুজনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা। এদিন বেলা সাড়ে ১১টায় কলেজ প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষক ও কর্মচারীদের দাবি, গত ২৩ এপ্রিল তাফসিরুল কমিটির সদস্যরা কলেজের মাঠ ব্যবহার ও আর্থিক সহযোগিতার বিষয়ে কথা বলতে আসলে আলেয়া খাতুন হীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের চাঁদাবাজ অ্যাখা দিয়ে মোবাইলে ভিডিও করতে শুরু করেন। ভিডিও বন্ধ করতে বললে আলিয়া খাতুন হীরা তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার কারণেই কলেজে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে।
তারা আরও দাবি করেন, কলেজের অধ্যক্ষকে হাত করে আলেয়া খাতুন হীরা কলেজের অলিখিত প্রিন্সিপাল হয়ে উঠেছেন। তাদের বিরুদ্ধে অপশাসনের অভিযোগ তুলে তার ও অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি করেন তারা।
কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রেজাউল করিম বলেন, 'ইসলামী তাফসিরুল কমিটির সদস্যরা দাওয়াত দিতে, মাঠ ব্যবহার ও আর্থিক সহায়তা নেওয়ার জন্য এই এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সকাল ১১টায় আসেন। অথচ প্রদর্শক আলেয়া খাতুন হীরা তাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চাঁদাবাজ অ্যাখ্যা দেওয়ায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। আলেয়া তাদের মারধর করায় কলেজে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে।'
কলেজের দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এনামুল হক বলেন, 'প্রিন্সিপাল মহোদয় আমাকে সকালে ফোন করে জানান, তিনি অসুস্থতার কারণে কয়েকদিন কলেজে আসবেন না। তিনি কলেজের সিনিয়র হিসেবে আমাকে দায়িত্ব পালন করতে বলেন।।আর বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে জানাবেন বলেও জানান।'
তিনি আরও বলেন, 'প্রদর্শক আলেয়া খাতুনের কথামতো প্রিন্সিপাল সব কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। এতে কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতো। এ বিষয়টি প্রিন্সিপালকে জানানো হলেও তিনি ব্যবস্থা নেননি। তাই আমরা অধ্যক্ষ ও আলেয়ার পদত্যাগ চাই।'
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য ফোন দেওয়া হলেও অধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক ফোন ধরেননি। তাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন প্রদর্শক আলেয়া খাতুন হীরা।
তিনি দাবি করছেন, নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর তাকে বহিষ্কারের বিষয়টি বোধগম্য না। কলেজের অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন শিক্ষক উস্কানি দিয়ে জোর করে অন্য শিক্ষকদের মানববন্ধনে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে দাবি তার।
আলেয়া খাতুন বলেন, 'অধ্যক্ষের সঙ্গে আমার চরিত্র নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করায় তাকে আমি চড় মেরেছিলাম। তারপর ওই লোকটি পায়ের জুতা খুলে মারধোর করে।'
তিনি দাবি করেন, তার আগে বিএনপির নেতা-কর্মীরা কলেজের অধ্যক্ষকে মেরেছেন। প্রধানত কলেজের জমিজমা ও অর্থ আত্মসাৎ এবং চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতা-কর্মীরা কলেজের কয়েকজন শিক্ষকের সাথে জোট বেঁধে এসব ঘটনা ঘটিয়েছে।
এদিকে, আজ রোববারও কলেজে যাননি অধ্যক্ষ প্রফসর ড. আব্দুর রাজ্জাক। তবে অধ্যক্ষ অসুস্থতার কথা বলে কলেজের একজন সিনিয়র শিক্ষককে সাময়িক দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলে মন্ত্রণালয় থেকে ছুটি নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি।
