আইনের ব্যাখ্যা না দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উচিত সন্ত্রাসীদের তালিকা করা: সংসদে হান্নান মাসউদ
আইনের ব্যাখ্যা না দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সন্ত্রাসীদের তালিকা করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ।
তিনি বলেছেন, 'আমার মনে হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী না, আইনমন্ত্রী আইনের ব্যাখ্যা দেবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মনোযোগ দেওয়া দরকার সারাদেশে কোথায় কোথায় সন্ত্রাসী আছে, তালিকা করে তাদের বিচারের আওতায় আনা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উচিত যারা হত্যার শিকার হয়েছেন, তাদের পরিবার যেন বিচার পায় তা নিশ্চিত করা।'
রবিবার (২৯ মার্চ) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, 'আমার নির্বাচিত এলাকায় শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ার কারণে এক নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। অথচ সার্কেল এসপি এক ঘণ্টার মধ্যে বলেছেন এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। ৪২ দিন পার হয়েছে, এখনও ডিএনএ রিপোর্ট আসেনি। মামলা নিতে তিন দিন দেরি হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'সিভিল সার্ভিস অফিস তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে, অথচ ভুক্তভোগী নারী জানেন না। এই ভয়াবহ পরিবেশ কারা তৈরি করেছে?'
হান্নান মাসউদ বলেন, 'আমি আমার এলাকায় তিন তিনবার হামলার শিকার হয়েছি। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাকে কোপাতে আসা হয়েছে। এরা কারা? এরা তারাই যাদের হাতে বিএনপি নেতা-কর্মীদের শরীরের রক্ত লেগে আছে। যারা আপনার ভাইকে খুন করেছে, তাদের পুনর্বাসিত করে আমাদের খুন করার জন্য লেলিয়ে দিচ্ছেন!'
এসময় এনসিপির এই সংসদ সদস্য বলেন, 'আমি এই সংসদে সর্বকনিষ্ঠ। আমাদের জেনজি বলা হয়। তাই আমি বলতে চাই জেনজিরা বাহাত্তরের সংবিধান চায় না।'
তিনি বলেন, 'আমার মতো যারা রয়েছেন, তারা কেন ভোটাধিকার পায়নি, তার জবাব চাই। আমরা তো স্বাধীন বাংলাদেশে জন্ম নিয়েছি। আমাদের কী ভুল ছিল? আমরা তো নতুন মানচিত্র পেয়েছি, আমরা তো নতুন পতাকা পেয়েছি, আমরা তো নতুন সীমানা পেয়েছি।'
তিনি আরও বলেন, 'আমাদের পূর্বপুরুষরা ১৯৭১ সালে রক্ত দিয়ে আমাদের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছেন। কিন্তু আমরা কি সেই নিরাপদ বাংলাদেশ পেয়েছি? আমরা কী সেই নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি? আমরা তো সেই বাংলাদেশ পাইনি।'
হান্নান মাসউদ বলেন, 'একাত্তরে ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছেন, জীবন দিয়েছেন। তারা চেয়েছিলেন তাদের পরবর্তী সন্তানরা (প্রজন্ম) যেন নিরাপদ বাংলাদেশে ভোটাধিকার পায়, যেন রক্ষীবাহিনী না থাকে, যেন ভোটাধিকার পায়, যেন আবার দুর্ভিক্ষ না হয়। কিন্তু আমরা কী দেখেছি? আমরা দেখেছি বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ হয়েছে, ১৯৭৩ সালে ভোট চুরি হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'আমরা দেখেছি পরবর্তী সময়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে, রাজনৈতিকভাবে, গণতান্ত্রিকভাবে বাংলাদেশকে পুনরুদ্ধার করার জন্য অটল ভূমিকা রেখেছেন। তিনি আমার হাতিয়াতে তিন বার গিয়েছেন। আমি যেদিকে তাকিয়েছি, আমার এই বেড়িবাঁধ কে করে দিয়ে গিয়েছেন? মেজর জিয়াউর রহমান। আমার এই খাল কে খনন করে দিয়ে গিয়েছেন? মেজর জিয়াউর রহমান।'
তিনি আরও বলেন, 'তারপরে এরশাদ এসেছেন, বেগম খালেদা জিয়া এসেছেন। খালেদা জিয়া আমার হাতিয়াতে তিন থেকে চার বার গিয়েছেন। কিন্তু তারপরেও আমার হাতিয়া ও ওই অঞ্চলের নদীভাঙন রোধ হয়নি। ওই অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ ঘরবাড়িহীনভাবে পড়ে আছে।'
হান্নান মাসউদ বলেন, 'আমি এই ইলেকশনে ভোট ডাকাতি দেখেছি। আমার ঘরে হামলা করা হয়েছে। আমি কী এই ইলেকশনের জন্য নিজের রক্ত ঝরিয়েছি?'
তিনি বলেন, 'আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছেন, প্রধানমন্ত্রী আছেন, আমি এখানে বলছি- আমরা রক্ত ঝরিয়েছি বলে আপনারা আজ সংসদে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন।'
