প্রথম রোজায় কেমন জমল ঐতিহ্যবাহী চকবাজার?
রমজানের প্রথম দিনেই জমে উঠেছে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী চকবাজার ইফতার বাজার। বিকেল গড়াতেই শাহী মসজিদ-এর সামনের গলিগুলো ক্রেতাদের ভিড়ে সরগরম হয়ে ওঠে।
পরিবার-পরিজন বা বন্ধুদের নিয়ে অনেকেই এখানে ইফতার কিনতে এসেছেন, আবার কেউ কেউ সরাসরি বসেই ইফতার করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রথম দিনের আমেজ ছিল উৎসবমুখর, তবে দামের বিষয়টি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক ক্রেতা।
এই ইফতার বাজারের ইতিহাসও কয়েকশো' বছরের পুরনো। ১৬৭৬ খ্রিস্টাব্দে মোগল সুবেদার শায়েস্তা খান এখানে নির্মাণ করেন শাহী মসজিদ। পরে ১৭০২ সালে নবাব মুর্শিদ কুলি খাঁ চকবাজারকে একটি আধুনিক বাজারে রূপ দেন। সেই সময় থেকেই রমজান মাসে মসজিদকে ঘিরে বসতে শুরু করে মুখরোচক ইফতারির ভাসমান বাজার। শতাব্দী পেরিয়ে আজও সেই ধারাবাহিকতা বজায় আছে।
প্রতি বছর রমজানে শাহী মসজিদের সামনে বসে বাহারি ইফতারের পসরা। পুরান ঢাকার খ্যাতিমান কফিল বাবুর্চির রান্নার পরম্পরা ধরে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তৈরি হয় নানা পদ। আয়োজনের আড়ম্বর আর স্বাদের বৈচিত্র্যে লোকমুখে প্রচলিত আছে 'বড় বাপের পোলায় খায়'।
কেরানীগঞ্জ থেকে বন্ধুদের নিয়ে ইফতার করতে এসেছেন জাহিদ হাসান। তিনি বলেন, 'রোজার মধ্যে চকবাজারে আসা একটা উৎসবের মতো। আমরা প্রায়ই প্রতি রোজায় আসি। আজকেও এখানেই ইফতার করব।'
একইভাবে রাজধানীর রামপুরা এলাকা থেকে আসা সাকিব হাসান জানান, পরিবার নিয়ে বছরে দুই-তিন দিন চকবাজারের ইফতার নেন।
তিনি বলেন, 'মজাদার ইফতার নিয়ে গেলে।বাচ্চারা খুব খুশি হয়। তবে এবারে সব আইটেমের দামই একটু বেশি। দামাদামি করেও লাভ হলো না।'
নান-রুটির দোকানগুলোতে ছিল বাড়তি আয়োজন। দুধ নান ৬০ টাকা, গারলিক নান ৭০ টাকা এবং স্পেশাল বাদাম নান ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাসির লেগ প্রতি পিস ৮০০ টাকা, গরুর সুতি কাবাব কেজি ১ হাজার ২০০ টাকা এবং খাসির সুতি কাবাব ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি কাড়ছে আস্ত খাসির কাবাব, যার দাম ১০ হাজার টাকা।
বিক্রেতা মো. সালেহ সেটি প্রদর্শনে রেখেছেন। তিনি বলেন, 'সবাই আগ্রহ নিয়ে দেখছে। কিনবেন হয়তো একজন-দুজন।'
এছাড়া গরুর কালা ভুনা ১৫০ টাকা প্যাকেট এবং চিকেন তাওয়া ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইফতারসামগ্রীর মধ্যে কোয়েল পাখির রোস্ট ৮০ থেকে ৯০ টাকা, চিকেন কাঠি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, মুরগির রোস্ট ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা পিস, চিকেন ললিপপ ৫০ টাকা, কাঠি কাবাব ও চিকেন বল ৬০ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে।
বিক্রেতারা বলছেন, কাঁচামালের দাম বাড়ায় কিছু পণ্যের দামও বেড়েছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দাম কিছুটা চড়া হলেও প্রথম দিনেই ঐতিহ্যবাহী এই ইফতার বাজারে বেচাকেনা ছিল জমজমাট।
ইতিহাস, ঐতিহ্য আর স্বাদের টানে আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে চকবাজার।
